৬৯/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩৬৭ - জাবিরের দায়িত্বশীল বিয়ে
সন্তান লালন-পালনের ব্যাপারে স্বামীকে সাহায্য করা।
দায়িত্বশীল বিয়ে: বোনদের দেখাশোনার জন্য জাবিরের সিদ্ধান্ত
সহীহ বুখারী : ৫৩৬৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৩৬৭
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ عَنْ عَمْرٍو عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ هَلَكَ أَبِي وَتَرَكَ سَبْعَ بَنَاتٍ أَوْ تِسْعَ بَنَاتٍ فَتَزَوَّجْتُ امْرَأَةً ثَيِّبًا فَقَالَ لِي رَسُوْلُ اللهِ ﷺ تَزَوَّجْتَ يَا جَابِرُ فَقُلْتُ نَعَمْ فَقَالَ بِكْرًا أَمْ ثَيِّبًا قُلْتُ بَلْ ثَيِّبًا قَالَ فَهَلاَّ جَارِيَةً تُلاَعِبُهَا وَتُلاَعِبُكَ وَتُضَاحِكُهَا وَتُضَاحِكُكَ قَالَ فَقُلْتُ لَه“ إِنَّ عَبْدَ اللهِ هَلَكَ وَتَرَكَ بَنَاتٍ وَإِنِّي كَرِهْتُ أَنْ أَجِيئَهُنَّ بِمِثْلِهِنَّ فَتَزَوَّجْتُ امْرَأَةً تَقُومُ عَلَيْهِنَّ وَتُصْلِحُهُنَّ فَقَالَ بَارَكَ اللهُ لَكَ أَوْ قَالَ خَيْرًا.
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সাতটি বা (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) নয়টি মেয়ে রেখে আমার পিতা ইন্তিকাল করেন। তারপর আমি এক বিধবা মহিলাকে বিয়ে করি। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে জিজ্ঞেস করলেনঃ জাবির! তুমি বিয়ে করেছ? আমি বললামঃ হ্যাঁ। তিনি তারপর জিজ্ঞেস করলেনঃ কুমারী বিয়ে করেছ না বিধবা? আমি বললামঃ বিধবা! তিনি বললেনঃ কুমারী করলে না কেন? তুমি তার সাথে খেলতে, সেও তোমার সাথে খেলত। তুমিও তাকে হাসাতে, সেও তোমাকে হাসাতো।জাবির (রাঃ) বলেনঃ আমি তাঁকে বললাম, অনেকগুলো কন্যা সন্তান রেখে ‘আবদুল্লাহ্ (আমার পিতা) মারা গেছেন, তাই আমি ওদের-ই মত কুমারী মেয়ে বিয়ে করা পছন্দ করিনি। আমি এমন মেয়েকে বিয়ে করলাম, যে তাদের দেখাশোনা করতে পারে তাদের ভুলত্রুটি শুধরাতে পারে। তিনি বললেনঃ আল্লাহ তোমাকে বরকত দিন অথবা বললেনঃ কল্যাণ দান করুন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৩৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জাবির (রাঃ)-এর বিয়ের ঘটনা এসেছে। তাঁর পিতা কয়েকজন কন্যা রেখে ইন্তেকাল করেন। এরপর জাবির (রাঃ) একজন বিধবা নারীকে বিয়ে করেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, কুমারী না বিধবা? জাবির (রাঃ) বলেন, তিনি এমন নারীকে বিয়ে করেছেন, যিনি তাঁর বোনদের দেখাশোনা করতে পারবেন এবং তাদের ভুলত্রুটি ঠিক করতে পারবেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর জন্য বরকত বা কল্যাণের দোয়া করেন। এই হাদিসে বিয়ের আনন্দের দিক যেমন এসেছে, তেমনি দায়িত্বশীলতার দিকও এসেছে। জাবির (রাঃ) নিজের পছন্দের পাশাপাশি পরিবারের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিয়ের সিদ্ধান্তে পরিবারের দায়িত্বও বিবেচনায় আসতে পারে।
- জাবির (রাঃ) বোনদের দেখাশোনার কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তের জন্য কল্যাণের দোয়া করেন।
- বিয়েতে আনন্দ ও দায়িত্ব—দুটিরই জায়গা আছে।
