৭০/১৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪০১ - ঘরে সালাত ও ঈমানের মর্যাদা
খাযীরা সম্পর্কে
قَالَ النَّضْرُ الْخَزِيرَةُ مِنَ النُّخَالَةِ وَالْحَرِيرَةُ مِنَ اللَّبَنِ.নাযর বলেছেন: খাযীরা ময়দা দিয়ে এবং হারীরা দুধ দিয়ে প্রস্তুত করা হয়।"
ঘরে সালাতের স্থান ও ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’-এর মর্যাদা
সহীহ বুখারী : ৫৪০১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪০১
يَحْيٰى بْنُ بُكَيْرٍ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ عَنْ عُقَيْلٍ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ أَخْبَرَنِي مَحْمُودُ بْنُ الرَّبِيعِ الأَنْصَارِيُّ أَنَّ عِتْبَانَ بْنَ مَالِكٍ وَكَانَ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مِنَ الأَنْصَارِ أَنَّه“ أَتٰى رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّي أَنْكَرْتُ بَصَرِي وَأَنَا أُصَلِّي لِقَوْمِي فَإِذَا كَانَتْ الأَمْطَارُ سَالَ الْوَادِي الَّذِي بَيْنِي وَبَيْنَهُمْ لَمْ أَسْتَطِعْ أَنْ آتِيَ مَسْجِدَهُمْ فَأُصَلِّيَ لَهُمْ فَوَدِدْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَنَّكَ تَأْتِي فَتُصَلِّي فِي بَيْتِي فَأَتَّخِذُه“ مُصَلًّى فَقَالَ سَأَفْعَلُ إِنْ شَاءَ اللهُقَالَ عِتْبَانُ فَغَدَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ وَأَبُو بَكْرٍ حِينَ ارْتَفَعَ النَّهَارُ فَاسْتَأْذَنَ النَّبِيُّ ﷺ فَأَذِنْتُ لَه“ فَلَمْ يَجْلِسْ حَتّٰى دَخَلَ الْبَيْتَ ثُمَّ قَالَ لِي أَيْنَ تُحِبُّ أَنْ أُصَلِّيَ مِنْ بَيْتِكَ فَأَشَرْتُ إِلٰى نَاحِيَةٍ مِنَ الْبَيْتِ فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ فَكَبَّرَ فَصَفَفْنَا فَصَلّٰى رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ سَلَّمَ وَحَبَسْنَاه“ عَلٰى خَزِيرٍ صَنَعْنَاه“فَثَابَ فِي الْبَيْتِ رِجَالٌ مِنْ أَهْلِ الدَّارِ ذَوُو عَدَدٍ فَاجْتَمَعُوا فَقَالَ قَائِلٌ مِنْهُمْ أَيْنَ مَالِكُ بْنُ الدُّخْشُنِ فَقَالَ بَعْضُهُمْ ذ‘لِكَ مُنَافِقٌ لاَ يُحِبُّ اللهَ وَرَسُوْلَه“ قَالَ النَّبِيُّ ﷺ لاَ تَقُلْ أَلاَ تَرَاه“ قَالَ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ يُرِيدُ بِذ‘لِكَ وَجْهَ اللهِ قَالَ اللهُ وَرَسُوْلُه“ أَعْلَمُ قَالَ قُلْنَا فَإِنَّا نَر‘ى وَجْهَه“ وَنَصِيحَتَه“ إِلَى الْمُنَافِقِينَ فَقَالَ فَإِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلٰى النَّارِ مَنْ قَالَ لاَ إِلٰهَ إِلاَّ اللهُ يَبْتَغِي بِذ‘لِكَ وَجْهَ اللهِقَالَ ابْنُ شِهَابٍ ثُمَّ سَأَلْتُ الْحُصَيْنَ بْنَ مُحَمَّدٍ الأَنْصَارِيَّ أَحَدَ بَنِي سَالِمٍ وَكَانَ مِنْ سَرَاتِهِمْ عَنْ حَدِيثِ مَحْمُودٍ فَصَدَّقَهُ.
‘ইতবান ইব্নু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ছিলেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর বদর যুদ্ধে অংশ গ্রহণকারী আনসান সাহাবীদের একজন। একবার তিনি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে এসে বলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে। আমি আমার গোত্রের লোকদের নিতে সালাত আদায় করি। কিন্তু বৃষ্টি হলে আমার ও তাদের মধ্যকার উপত্যকায় পানি প্রবাহিত হয়। তখন আমি তাদের মসজিদে আসতে পারি না যে, তাদের নিয়ে সালাত আদায় করব। তাই হে আল্লাহর রাসূল! আমার আকাঙ্ক্ষা, আপনি এসে যদি আমার ঘরে সালাত আদায় করতেন, তাহলে আমি সে স্থান সালাতের জন্য নির্ধারণ করে নিতাম। তিনি বললেনঃ ইন্শাআল্লাহ্ আমি শীঘ্রই তা করব।‘ইতবান (রাঃ) বলেনঃ পূর্ণরূপে সূর্য কিছু উপরে উঠলে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) ও আবূ বকর (রাঃ) আসলেন। নবী (ﷺ) অনুমতি চাইলেন। আমি তাঁকে অনুমতি দিলাম। তিনি না বসেই সঙ্গে সঙ্গেই ঘরে প্রবেশ করে আমাকে বললেনঃ তোমার ঘরের কোন স্থানে আমার সালাত আদায় করা তোমার পছন্দ? আমি ঘরের এক দিকে ইশারা করলাম। তিনি সেখানে দাঁড়িয়ে তাকবির বললেন। আমরা কাতার বাঁধলাম। তিনি দু’রাক’আত সালাত আদায় করে সালাম ফিরালেন। আমরা যে হাযীরা প্রস্তুত করেছিলাম তা খাওয়ার জন্য তাঁকে বসালাম। তাঁর মহল্লার বহু সংখ্যক লোক প্রবেশ করতে লাগল।তারপর তারা সমবেত হলে তাদের একজন বলল, মালিক ইবনু দুখশান কোথায়? অন্য একজন বললঃ সে মুনাফিক, সে আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল (ﷺ)-কে ভালবাসে না। নবী (ﷺ) বললেনঃ এমন কথা বলো না। তুমি কি জান না, সে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে? লোকটি বললঃ আল্লাহ্ ও তাঁর রাসূল-ই ভাল জানেন। সে আবার বললঃ কিন্তু আমরা যে মুনাফিকদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ও তাদের প্রতি শুভ কামনা দেখতে পাই? তিনি বললেনঃ আল্লাহ্ তো জাহান্নামকে ঐ লোকের জন্য হারাম করে দিয়েছেন যে আল্লাহ্র সন্তুষ্টি অর্জনের আশায় ‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পাঠ করবে।ইবনু শিহাব বলেনঃ এরপর আমি হুসাইন ইবনু মুহাম্মাদ আনসারী, যিনি ছিলেন বানূ সালিমের একজন নেতৃস্থানীয় লোক, তাঁকে মাহমূদের এ হাদীসের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি এর সত্যতা স্বীকার করলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুটি বড় শিক্ষা আছে। ইতবান (রাঃ) দৃষ্টিশক্তি দুর্বল হয়ে যাওয়ার কথা জানান এবং বৃষ্টির সময় উপত্যকায় পানি আসার কারণে মসজিদে যেতে কষ্ট হয় বলে বলেন। তিনি চান নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর ঘরে সালাত আদায় করুন, যাতে সেই জায়গাকে সালাতের স্থান বানাতে পারেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁর অনুরোধ রাখেন, অনুমতি নিয়ে ঘরে প্রবেশ করেন এবং পছন্দের স্থানে দুই রাকাত সালাত আদায় করেন। পরে লোকেরা মালিক ইবনু দুখশান সম্পর্কে কঠিন কথা বললে নবী (صلى الله عليه وسلم) তা থামিয়ে দেন। তিনি বলেন, যে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলে, তার ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। তাই এই হাদিস ঘরে সালাত, দুর্বল মানুষের সুবিধা এবং মুসলিমকে দোষারোপে সতর্কতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শারীরিক কষ্ট বা দুর্বলতার কথা আদবের সঙ্গে জানানো যায়।
- ঘরে সালাতের জন্য নির্দিষ্ট স্থান রাখা বৈধ ও উপকারী হতে পারে।
- কাউকে মুনাফিক বলা বা দোষারোপ করার আগে খুব সতর্ক থাকা দরকার।
- আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কালিমা বলা ঈমানের বড় নিদর্শন।
