৭০/১৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪০০ - যব্ব খাওয়ার বিধান ও খাবারের রুচি
ভুনা গোশত সম্পর্কে
যব্ব খাওয়ার বিধান: হারাম নয়, রুচির বিষয়
সহীহ বুখারী : ৫৪০০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪০০
عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ يُوسُفَ أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ بْنِ سَهْلٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ خَالِدِ بْنِ الْوَلِيدِ قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ ﷺ بِضَبٍّ مَشْوِيٍّ فَأَهْو‘ى إِلَيْهِ لِيَأْكُلَ فَقِيلَ لَه“ إِنَّه“ ضَبٌّ فَأَمْسَكَ يَدَه“ فَقَالَ خَالِدٌ أَحَرَامٌ هُوَ قَالَ لاَ وَلٰكِنَّه“ لاَ يَكُونُ بِأَرْضِ قَوْمِي فَأَجِدُنِي أَعَافُه“ فَأَكَلَ خَالِدٌ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ يَنْظُرُ قَالَ مَالِكٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ بِضَبٍّ مَحْنُوذٍ.
খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-এর নিকট ভুনা যবব আনা হলে তিনি তা খাওয়ার উদ্দেশে হাত বাড়ালেন। তখন তাঁকে বলা হলোঃ এটাতো যবব, এতে তিনি হাত গুটিয়ে নিলেন। খালিদ জিজ্ঞেস করলেনঃ এটা কি হারাম? তিনি বললেনঃ না। যেহেতু এটা আমাদের এলাকায় নেই তাই আমি এটা খাওয়া পছন্দ করি না। তারপর খালিদ তা খেতে থাকলেন, আর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দেখছিলেন।মালিক, ইবনু শিহাব হতে بِضَبٍّ مَشْوِيٍّ এর স্থলে) بِضَبٍّ مَحْنُوذٍ বলেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪০০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যব্ব খাওয়ার বিধান খুব সহজভাবে বোঝা যায়। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে ভুনা যব্ব আনা হলে তিনি প্রথমে খেতে হাত বাড়ান। পরে যখন জানানো হলো যে এটি যব্ব, তিনি হাত গুটিয়ে নেন। খালিদ (রাঃ) সরাসরি জানতে চান, এটা কি হারাম? নবী (صلى الله عليه وسلم) স্পষ্ট করে বলেন, না। তবে তাঁর নিজের এলাকায় এটি প্রচলিত খাবার ছিল না, তাই তাঁর রুচিতে তা ভালো লাগেনি। এরপর খালিদ (রাঃ) তা খেয়েছেন এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দেখেছেন। এতে বোঝা যায়, কোনো হালাল খাবার কারও অপছন্দ হতে পারে, কিন্তু শুধু অপছন্দের কারণে তাকে হারাম বলা যাবে না। খাবারের রুচি ও হারাম-হালালের পার্থক্য এখানে মূল শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কোনো খাবার ব্যক্তিগতভাবে অপছন্দ হলেই তা হারাম হয়ে যায় না।
- হালাল-হারাম বিষয়ে সরাসরি ও পরিষ্কার জিজ্ঞাসা করা ভালো।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের রুচি জানালেও অন্যকে হালাল খাবার খেতে বাধা দেননি।
