৯/৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৪৬ - ঈদের দিনের আনন্দের শিক্ষা
ঈদের দিনগুলোতে আল্লাহর নাফরমানী হয় না এমন ক্রীড়া-কৌতুক করার অবকাশ প্রদান
ঈদের দিন মুসলিমদের আনন্দের দিন
সহীহ মুসলিম : ১৯৪৬
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ১৯৪৬
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ دَخَلَ عَلَىَّ أَبُو بَكْرٍ وَعِنْدِي جَارِيَتَانِ مِنْ جَوَارِي الأَنْصَارِ تُغَنِّيَانِ بِمَا تَقَاوَلَتْ بِهِ الأَنْصَارُ يَوْمَ بُعَاثٍ قَالَتْ وَلَيْسَتَا بِمُغَنِّيَتَيْنِ . فَقَالَ أَبُو بَكْرٍ أَبِمُزْمُورِ الشَّيْطَانِ فِي بَيْتِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَذَلِكَ فِي يَوْمِ عِيدٍ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَا أَبَا بَكْرٍ إِنَّ لِكُلِّ قَوْمٍ عِيدًا وَهَذَا عِيدُنَا» .
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ বকর (রাঃ) আমার নিকট আসলেন। এ সময় আমার কাছে আনসার সম্প্রদায়ের দু’টি মেয়ে গান গাচ্ছিল। আনসারগণ বু‘আস যুদ্ধের সময় এ গানটি গেয়েছিল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, তারা অবশ্য (পেশাগত) গায়িকা ছিল না। আবূ বাক্র (রাঃ) বললেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ঘরে শয়তানের বাদ্যযন্ত্র? আর সেটা ছিল ঈদের দিন। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে আবূ বাক্র! প্রত্যেক জাতির জন্য উৎসবের ব্যবস্থা আছে। আর এটা হচ্ছে আমাদের উৎসবের দিন।
ই.ফা. ১৯৩১, ই.সে. ১৯৩৮
সহীহ মুসলিম হাদিস ১৯৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ)-এর ঘরের একটি ঘটনা এসেছে। আবু বকর (রাঃ) তাঁর কাছে আসেন। তখন আনসারদের দুই মেয়ে বু‘আস যুদ্ধের সময় আনসাররা যে কথা বলেছিল, তা গাইছিল। আয়েশা (রাঃ) স্পষ্ট করেন, তারা পেশাগত গায়িকা ছিল না। আবু বকর (রাঃ) বিষয়টি অপছন্দ করে কথা বললে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, হে আবু বকর! প্রত্যেক জাতির জন্য উৎসব আছে, আর এটি আমাদের উৎসবের দিন। এই হাদিসে ঈদের দিনের আনন্দ, পরিবারে স্বাভাবিক খুশি এবং মুসলিমদের উৎসবের পরিচয় এসেছে। তবে বর্ণনায় যা আছে, তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা উচিত—এটি পেশাদার গান বা সব ধরনের বিনোদনের সাধারণ অনুমতি হিসেবে বাড়িয়ে বলা ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদ মুসলিমদের উৎসবের দিন—এ কথা নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন।
- ঈদের দিনে ঘরে স্বাভাবিক আনন্দের পরিবেশের বর্ণনা এসেছে।
- আয়েশা (রাঃ) বলেছেন, মেয়েরা পেশাগত গায়িকা ছিল না।
- ধর্মীয় আনন্দে সীমা ও শালীনতার বিষয়টি বুঝে চলা দরকার।
