৭০/১৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪০৭ - ইহরামে শিকার করা খাবারের বিধান
বাহুর গোশত খাওয়া।
ইহরাম অবস্থায় শিকার করা খাবার: আবু কাতাদাহ রা.-এর ঘটনা
সহীহ বুখারী : ৫৪০৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪০৭
عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ عَنْ أَبِي حَازِمٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ أَبِي قَتَادَةَ السَّلَمِيِّ عَنْ أَبِيهِ أَنَّه“ قَالَ كُنْتُ يَوْمًا جَالِسًا مَعَ رِجَالٍ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّﷺ فِي مَنْزِلٍ فِي طَرِيقِ مَكَّةَ وَرَسُوْلُ اللهِ ﷺ نَازِلٌ أَمَامَنَا وَالْقَوْمُ مُحْرِمُونَ وَأَنَا غَيْرُ مُحْرِمٍ فَأَبْصَرُوا حِمَارًا وَحْشِيًّا وَأَنَا مَشْغُولٌ أَخْصِفُ نَعْلِي فَلَمْ يُؤْذِنُونِي لَه“ وَأَحَبُّوا لَوْ أَنِّي أَبْصَرْتُه“ فَالْتَفَتُّ فَأَبْصَرْتُه“ فَقُمْتُ إِلَى الْفَرَسِ فَأَسْرَجْتُه“ ثُمَّ رَكِبْتُ وَنَسِيتُ السَّوْطَ وَالرُّمْحَ فَقُلْتُ لَهُمْ نَاوِلُونِي السَّوْطَ وَالرُّمْحَ فَقَالُوا لاَ وَاللهِ لاَ نُعِينُكَ عَلَيْهِ بِشَيْءٍ فَغَضِبْتُ فَنَزَلْتُ فَأَخَذْتُهُمَا ثُمَّ رَكِبْتُ فَشَدَدْتُ عَلَى الْحِمَارِ فَعَقَرْتُه“ ثُمَّ جِئْتُ بِه„ وَقَدْ مَاتَ فَوَقَعُوا فِيهِ يَأْكُلُونَه“ ثُمَّ إِنَّهُمْ شَكُّوا فِي أَكْلِهِمْ إِيَّاه“ وَهُمْ حُرُمٌ فَرُحْنَا وَخَبَأْتُ الْعَضُدَ مَعِي فَأَدْرَكْنَا رَسُوْلَ اللهِ ﷺ فَسَأَلْنَاه“ عَنْ ذ‘لِكَ فَقَالَ مَعَكُمْ مِنْه“ شَيْءٌ فَنَاوَلْتُهُ الْعَضُدَ فَأَكَلَهَا حَتّٰى تَعَرَّقَهَا وَهُوَ مُحْرِمٌ قَالَ مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ وَحَدَّثَنِي زَيْدُ بْنُ أَسْلَمَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي قَتَادَةَ مِثْلَهُ.
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
একবার আমি মক্কার পথে কোন এক মনযিলে নবী (ﷺ)-এর কিছু সংখ্যক সাহাবীর সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলাম। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের সামনেই অবস্থান করছিলেন। আমি ব্যতীত দলের সকলেই ছিলেন ইহ্রাম অবস্থায়। আমি আমার জুতা সেলাই করতে ব্যস্ত ছিলাম। এমন সময় তাঁরা একটি বন্য গাধা দেখতে পেল। কিন্তু আমাকে জানাল না। তবে তাঁরা আশা করছিল, যদি আমি ওটা দেখতাম! তারপর আমি চোখ ফেরাতেই ওটা দেখে ফেললাম।এরপর আমি ঘোড়ার কাছে গিয়ে তার পিঠে জিন লাগিয়ে তার উপর আরোহণ করলাম। কিন্তু চাবুক ও বর্শার কথা ভুলে গেলাম। কাজেই আমি তাঁদের বললাম, চাবুক ও বর্শাটি আমাকে তুলে দাও! তাঁরা বললঃ না, আল্লাহ্র কসম! এ কাজে তোমাকে আমরা কিছুই সাহায্য করব না। এতে আমি রাগান্বিত হলাম এবং নীচে নেমে ওদু’টি নিয়ে পুনরায় সাওয়ার হলাম। তারপর আমি গাধাটির পেছনে দ্রুত তাড়া করে তাকে ঘায়েল করে ফেললাম। তখন সেটি মরে গেল এবং আমি তা নিয়ে এলাম (পাকানোর পর) তাড়া সকলে এটা খাওয়া শুরু করল। তারপর ইহ্রাম অবস্থায় এটা খাওয়া নিয়ে তাঁরা সন্দেহে পড়ল। আমি সন্ধ্যার দিকে রওনা হলাম এবং এর একটি বাহু লুকিয়ে রাখলাম।এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে গেলাম এবং তাঁকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ তোমাদের কাছে এর কিছু আছে? এ কথা শুনে আমি বাহুটি তাঁর সামনে পেশ করলাম। তিনি মুহ্রিম অবস্থায় তা খেলেন, এমন কি এর হাড়ের সঙ্গে সংলগ্ন গোশ্তও দাঁত দিয়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেলেন।ইবনু জা’ফর বলেছেনঃ যায়দ ইবনু আসলাম (রহঃ) ‘আত্বা ইবনু ইয়াসার-এর সূত্রে আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) থেকে এরকম হাদিস বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইহরাম অবস্থায় শিকার করা খাবার নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এসেছে। আবু কাতাদাহ (রাঃ) ছাড়া দলের সবাই ইহরামে ছিলেন। তাঁরা একটি বন্য গাধা দেখলেন, কিন্তু তাঁকে সরাসরি জানালেন না এবং শিকারে সাহায্যও করলেন না। আবু কাতাদাহ (রাঃ) নিজে তা দেখে শিকার করেন। পরে সবাই তার গোশত খায়, কিন্তু ইহরামে থাকা অবস্থায় তা খাওয়া নিয়ে সন্দেহ হয়। তাঁরা রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলে তিনি জানতে চান, কিছু বাকি আছে কি না। আবু কাতাদাহ (রাঃ) একটি বাহু পেশ করেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) মুহরিম অবস্থায় তা খান। এই হাদিসে মূল বিষয় হলো, শিকারকারী নিজে ইহরামে ছিলেন না এবং ইহরামধারীরা শিকারে সাহায্য করেননি। তাই ঘটনাটি খাবারের বিধান বুঝতে গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইহরামের বিধান নিয়ে সন্দেহ হলে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হয়েছে।
- সাহাবীরা ইহরামে থাকায় শিকারে সাহায্য করা থেকে বিরত ছিলেন।
- শিকারকারী ইহরামে না থাকলে ঘটনাটির বিধান আলাদা হতে পারে—হাদিসে এ দিকটি স্পষ্ট।
- সন্দেহ হলে নিজের ধারণায় না থেকে জ্ঞানীর কাছে জিজ্ঞেস করা উচিত।
