৭০/৩২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৩১ - নবীজির হালুয়া ও মধু পছন্দ
হালওয়া ও মধু
নবীজির হালুয়া ও মধু পছন্দ: খাবারের সহজ সুন্নাহ
সহীহ বুখারী : ৫৪৩১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৪৩১
حَدَّثَنِي إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ هِشَامٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُحِبُّ الْحَلْوَاءَ وَالْعَسَلَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) হাল্ওয়া ও মধু ভালোবাসতেন।
[১] জ্ঞান, তীক্ষ্ণবুদ্ধি ও সুকৌশলের দিক দিয়ে মধুমক্ষিকা সমস্ত পতঙ্গের মধ্যে বিশেষ শ্রেষ্ঠত্বের অধিকারী। মৌমাছি বিভিন্ন প্রকার ফুল ও ফলের রস চুষে। এই রস তাদের পেটের রসে মধুতে রূপান্তরিত হয়। মধু হল মধুমক্ষিকা ও তাদের সন্তানদের খাবার এবং এটি আমাদের সকলের জন্য সুস্বাদু খাদ্য এবং রোগ নিরাময়ের ব্যবস্থাপত্র বলে আল্লাহ তা’আলা ঘোষণা করেছেন। খাদ্য ও ঋতুর বিভিন্নতার কারণে মধুর রং ভিন্ন হয়। এ কারণেই কোন বিশেষ অঞ্চলে কোন বিশেষ ফল-ফুলের প্রাচুর্য থাকলে সেই এলাকার মধুতে তার প্রভাব ও স্বাদ পরিলক্ষিত হয়। একটি ছোট প্রাণীর পেট থেকে কেমন সুস্বাদু ও উপকারী পানীয় বের হয় অথচ প্রাণীটি স্বয়ং বিষাক্ত। বিষাক্ত প্রাণীর দেহে এই রোগ প্রতিষেধক তরল খাদ্য বাস্তবিকই আল্লাহ্ তা’আলার অপার শক্তির মহিমার নিদর্শন এবং চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য চিন্তার খোরাক। মধু বলকারক খাদ্য এবং রসনার জন্য আনন্দ ও তৃপ্তিদায়ক, আবার রোগ ব্যাধির জন্যও ফলপ্রদক ব্যবস্থাপত্র। কবিরাজ ও হেকিমগণ সালসা তৈরি করতে এটি ব্যবহার করেন। মধু নিজেও নষ্ট হয় না এবং অন্য বস্তুকে দীর্ঘকাল পর্যন্ত নষ্ট হতে দেয় না। এ কারণেই হেকিম কবিরাজগণ একে এলকোহল এর স্থলে ব্যবহার করেন। মধু বিরোচক এবং পেট থেকে দূষিত পদার্থ অপসারক। অনেকেই বিষনাশক হিসেবে এর ব্যবহার করে থাকেন। মধুর নিরাময় শক্তি ব্যাপক ও স্বতন্ত্র। সাহাবীগণ (রাঃ) মধুর মাধ্যমে ফোঁড়া ও চোখের চিকিৎসা করতেন। ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁর শরীরে ফোঁড়া বের হলে তিনি তাতে মধুর প্রলেপ দিতেন (কুরতুবী)। নবী মোস্তফা (ﷺ) মধু খুব পছন্দ করতেন। প্রাচীনকাল থেকে আহত স্থান ড্রেসিং করার জন্য মধু ব্যবহার হতো। গবেষকগণ বলেন যে, মধু ত্বকের ক্ষতের জন্য নিরাময়ী। গবেষকদের ধারণা মৌমাছিরা মধু তৈরি করছে আনুমানিক ১০-২০ মিলিয়ন বছর থেকে। সেই প্রাচীনকাল থেকে মানুষ যদিও দেহের ক্ষতস্থান ড্রেসিং করার জন্য এবং আরো অন্যান্য অসুখে মধু ব্যবহার করত তবুও বিজ্ঞানীরা বলেছেন মধুর নিরাময়ী ক্ষমতা এখনো সম্পূর্ণ উন্মোচিত হয়নি। অস্ট্রেলিয়ার বিজ্ঞানীরা গত বছর পোড়া, ক্ষত ও আঘাতের চিকিৎসার জন্য বিশুদ্ধ মধু ব্যবস্থাপত্র দিয়েছেন। এখন উন্নত দেশের বাজারে মধুজাত এবং মধু থেকে সংগৃহীত দ্রব্য দেদারসে আসছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৪৩১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়েশা (রাঃ) খুব সংক্ষিপ্তভাবে জানান যে, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم হালুয়া ও মধু ভালোবাসতেন। এখানে কোনো অতিরিক্ত বিধান বা দীর্ঘ আলোচনা নেই; শুধু নবী صلى الله عليه وسلم-এর খাবারের একটি পছন্দ তুলে ধরা হয়েছে। এই বর্ণনা আমাদের শেখায়, খাবারের ক্ষেত্রে মানুষের পছন্দ থাকা স্বাভাবিক। নবী صلى الله عليه وسلم সাধারণ ও পরিচিত খাবার পছন্দ করতেন। তবে এই হাদিস থেকে মধু বা হালুয়া সম্পর্কে অতিরিক্ত চিকিৎসাগত দাবি করা ঠিক নয়, কারণ এখানে শুধু ভালোবাসার কথা এসেছে। মূল শিক্ষা হলো নবী صلى الله عليه وسلم-এর জীবনকে ভালোবাসা, তাঁর পছন্দ জানা এবং খাবারের ক্ষেত্রে সহজ ও কৃতজ্ঞ থাকা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم হালুয়া ও মধু পছন্দ করতেন।
- খাবারের পছন্দ থাকা স্বাভাবিক এবং মানবিক।
- হাদিসে যা আছে, ব্যাখ্যাও তার মধ্যেই সীমিত রাখা উচিত।
- নবী صلى الله عليه وسلم-এর পছন্দ জানা তাঁর প্রতি ভালোবাসা বাড়ায়।
