৭২/২৪. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৫১২ - ঘোড়া নহর করে খাওয়ার হাদিস
নহর ও যবহ করা
وَقَالَ ابْنُ جُرَيْجٍ عَنْ عَطَاءٍ لَا ذَبْحَ وَلَا مَنْحَرَ إِلَّا فِي الْمَذْبَحِ وَالْمَنْحَرِ قُلْتُ أَيُجْزِي مَا يُذْبَحُ أَنْ أَنْحَرَهُ قَالَ نَعَمْ ذَكَرَ اللَّهُ ذَبْحَ الْبَقَرَةِ فَإِنْ ذَبَحْتَ شَيْئًا يُنْحَرُ جَازَ وَالنَّحْرُ أَحَبُّ إِلَيَّ وَالذَّبْحُ قَطْعُ الْأَوْدَاجِ قُلْتُ فَيَخْلُفُ الْأَوْدَاجَ حَتَّى يَقْطَعَ النُّخَاعَ قَالَ لَا إِخَالُ وَأَخْبَرَنِي نَافِعٌ أَنَّ ابْنَ عُمَرَ نَهَى عَنِ النَّخْعِ يَقُولُ يَقْطَعُ مَا دُونَ الْعَظْمِ ثُمَّ يَدَعُ حَتَّى تَمُوتَ وَقَوْلُ اللَّهِ تَعَالَى ﴾وَإِذْ قَالَ مُوسَى لِقَوْمِهِ إِنَّ اللَّهَ يَأْمُرُكُمْ أَنْ تَذْبَحُوا بَقَرَةً﴿ وَقَالَ ﴾فَذَبَحُوهَا وَمَا كَادُوا يَفْعَلُونَ﴿ وَقَالَ سَعِيدٌ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ الذَّكَاةُ فِي الْحَلْقِ وَاللَّبَّةِ وَقَالَ ابْنُ عُمَرَ وَابْنُ عَبَّاسٍ وَأَنَسٌ إِذَا قَطَعَ الرَّأْسَ فَلَا بَأْسَ.‘আত্বা (রহঃ) এর উদ্ধৃতি দিয়ে ইবন জুরাইজ বলেছেন: গলা বা সিনা ব্যতীত যবেহ কিংবা নহর করা যায় না। [‘আত্বা (রহঃ) বলেন] আমি বললাম: যে জন্তুকে যবেহ করা হয় সেটিকে আমি যদি নহর করি, তাহলে যথেষ্ট হবে কি? তিনি বললেন: হাঁ। কেননা, আল্লাহ তা‘আলা গরুকে যবেহ করার কথা উল্লেখ করেছেন। কাজেই যে জন্তুকে নহর করা হয়, তা যদি তুমি যবেহ কর, তবে তা জাযিয। অবশ্য আমার নিকট নহর করাই অধিক পছন্দনীয়। যবেহ অর্থ হল রগগুলোকে কেটে দেয়া।আমি বললাম: তাহলে কিছু রগকে অবশিষ্ট রাখতে হবে যেন হাতের ভিতরের সাদা রগ কাটা না যায়। তিনি বললেন: আমি তা মনে করি না। তিনি বললেন: নাফি‘ (রহঃ) আমাকে জানিয়েছেন, ইবন ‘উমার (রাঃ) ‘নাখ’ থেকে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেন: ‘নাখ’ হল হাড়ের ভিতরের সাদা রগ কেটে দেয়া এবং তারপর ছেড়ে দেয়া, যাতে জন্তুটি মারা যায়।আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন: “স্মরণ কর, যখন মূসা (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বলেছিল, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে একটি গরু যবেহ করার আদেশ দিচ্ছেন’....... তারা তাকে যবেহ করল যদিও তাদের জন্য সেটা প্রায় অসম্ভব ছিল।” (সূরা আল-বাকারা ২/৬৭-৭১)। সা‘ঈদ (রহঃ) ইবন ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন: গলা ও সিনার মধ্যে যবেহ করাকে যবেহ বলে। ইবন ‘উমার ইবন ‘আব্বাস ও আনাস (রাঃ) বলেন: যদি মাথা কেটে ফেলে তাতে দোষ নেই।"
ঘোড়া নহর করে খাওয়া: আসমা (রাঃ)-এর বর্ণনা
সহীহ বুখারী : ৫৫১২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৫১২
قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ عَنْ هِشَامٍ عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ الْمُنْذِرِ أَنَّ أَسْمَاءَ بِنْتَ أَبِي بَكْرٍ قَالَتْ نَحَرْنَا عَلٰى عَهْدِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَرَسًا فَأَكَلْنَاه“ تَابَعَه“ وَكِيعٌ وَابْنُ عُيَيْنَةَ عَنْ هِشَامٍ فِي النَّحْرِ.
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর আমলে আমরা একটি ঘোড়া নহর করেছি। এরপর তা খেয়েছি। ‘নহর’ কথাটির বর্ণনা এ সঙ্গে হিশামের সূত্র দিয়ে ওয়াকী’ ও ইবনু ‘উয়াইনাহ এ রকমই বর্ণনা করেছেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৫১২-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: ঘোড়ার গোশত। এই হাদিসে আসমা বিনতে আবু বকর (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলে তাঁরা একটি ঘোড়া নহর করেছিলেন এবং পরে তা খেয়েছিলেন। বর্ণনায় আরও এসেছে যে “নহর” শব্দটির বর্ণনা হিশামের সূত্রে অন্য বর্ণনাকারীরাও একইভাবে করেছেন। তাই এই হাদিসে মূল জোর পড়েছে ঘোড়া নহর করে খাওয়ার ঘটনার উপর। যারা ঘোড়ার গোশত নিয়ে হাদিস খোঁজেন, তারা এখানে সরাসরি সাহাবি আমলের একটি বর্ণনা পান। এই হাদিসে কোনো দীর্ঘ আলোচনা নেই, তাই ব্যাখ্যাও সংযত হওয়া উচিত। শুধু এটুকু বলা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলে এই কাজ হয়েছে এবং আসমা (রাঃ) তা বর্ণনা করেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঘোড়া নহর করে খাওয়ার ঘটনা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের বর্ণনায় এসেছে।
- একই বিষয়ের একাধিক বর্ণনা হাদিস বুঝতে সাহায্য করে।
- খাদ্য সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি হাদিসের ভাষা গুরুত্ব পায়।
