৯/৩০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৮৪ - সালাত, পোশাক ও বেচাকেনায় নিষিদ্ধ বিষয়
ফজরের পর সূর্য উঠার পূর্বে সালাত আদায়।
দুই সময়ের সালাত ও নিষিদ্ধ কাজ: হাদিসের সহজ শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৫৮৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৫৮৪
حَدَّثَنَا عُبَيْدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ، عَنْ أَبِي أُسَامَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ خُبَيْبِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ نَهَى عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَعَنْ لِبْسَتَيْنِ وَعَنْ صَلاَتَيْنِ نَهَى عَنِ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ، وَعَنِ اشْتِمَالِ الصَّمَّاءِ وَعَنْ الاِحْتِبَاءِ فِي ثَوْبٍ وَاحِدٍ يُفْضِي بِفَرْجِهِ إِلَى السَّمَاءِ، وَعَنِ الْمُنَابَذَةِ وَالْمُلاَمَسَةِ.
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) দু’ধরনের বেচা-কেনা করতে, দু’ভাবে পোশাক পরিধান করতে এবং দু’সময়ে সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের পর সূর্য পূর্ণরূপে উদিত না হওয়া পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। আর পুরো শরীর জড়িয়ে কাপড় পরতে এবং এক কাপড়ে (যেমন লুঙ্গি ইত্যাদি পরে) হাঁটু খাড়া করে এমনভাবে বসতে নিষেধ করেছেন যাতে লজ্জাস্থান উপরের দিকে খুলে যায়। আর মুনাবাযাহ ও মুলামাসাহ (এর পন্থায় বেচা-কেনা) নিষেধ করেছেন।
১. মুনাবাযাঃ বিভিন্ন দরের একাধিক পণ্যদ্রব্য একস্থানে রেখে মূল্য হিসেবে একটি অংক নির্ধারণ করে এ শর্তে বিক্রি করা যে, ক্রেতা নির্দিষ্ট পরিমাণ দূরত্ব থেকে পাথর নিক্ষেপ করে যে পণ্যের গায়ে লাগাতে পারবে, উল্লেখিত মূল্যে তাকে তা বাধ্যতামূলকভাবে গ্রহণ করতে হবে। এ পন্থার বেচা-কেনা “মুনাবাযা” বলে অভিহিত।২. মুলামাসাঃ একাধিক পণ্যের প্রত্যেকটির ভিন্ন ভিন্নভাবে মূল্য নির্ধারণ করে এভাবে বিক্রি করা যে, ক্রেতা যেটি স্পর্শ করবে, পূর্ব নির্ধারিত মূল্যে তাকে অবশ্যই তা গ্রহণ করতে হবে। এ ধরনের বেচাকেনা শরয়ী পরিভাষায় ‘মুলামাসা’ বলে অভিহিত। যেহেতু এতে পসন্দ অপসন্দের স্বাধীনতা থাকে না, তাই শরীয়াত এ দু’টো পন্থাকে নিষিদ্ধ করেছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৫৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) কয়েকটি বিষয়ে নিষেধ করেছেন। এর মধ্যে আছে দুই সময়ের সালাত: ফজরের পর সূর্য ওঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য ডোবা পর্যন্ত। একই বর্ণনায় পোশাক পরার দুইটি অনুচিত ধরনও এসেছে। এক হলো পুরো শরীর এমনভাবে জড়িয়ে রাখা, আরেক হলো এক কাপড়ে হাঁটু খাড়া করে এমনভাবে বসা যাতে লজ্জাস্থান খুলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া মুনাবাযাহ ও মুলামাসাহ পদ্ধতির বেচাকেনা থেকেও নিষেধ করা হয়েছে। তাই হাদিসটি শুধু সালাতের নিষিদ্ধ সময় নয়, বরং শালীন পোশাক ও লেনদেনে সতর্কতার কথাও শেখায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, মুসলিম জীবনে ইবাদত, পোশাক ও ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই নবীজির সীমা মানা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ফজরের পর সূর্য ওঠা পর্যন্ত সালাত থেকে বিরত থাকার নির্দেশ এসেছে।
- আসরের পর সূর্য ডোবা পর্যন্ত সালাত আদায়ে নিষেধ করা হয়েছে।
- লজ্জাস্থান প্রকাশের আশঙ্কা থাকে এমনভাবে বসা বা পোশাক পরা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
- মুনাবাযাহ ও মুলামাসাহ পদ্ধতির বেচাকেনা নিষিদ্ধ বলা হয়েছে।
