১০/৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৬১৪ - আজানের পর দোয়া ও শাফাআত
আজানের দোয়া।
আজানের দোয়া: ওয়াসীলা, ফজিলত ও শাফাআতের আশা
সহীহ বুখারী : ৬১৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৬১৪
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَيَّاشٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعَيْبُ بْنُ أَبِي حَمْزَةَ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ «مَنْ قَالَ حِينَ يَسْمَعُ النِّدَاءَ اللَّهُمَّ رَبَّ هَذِهِ الدَّعْوَةِ التَّامَّةِ وَالصَّلاَةِ الْقَائِمَةِ آتِ مُحَمَّدًا الْوَسِيلَةَ وَالْفَضِيلَةَ وَابْعَثْهُ مَقَامًا مَحْمُودًا الَّذِي وَعَدْتَهُ، حَلَّتْ لَهُ شَفَاعَتِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ».
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আযান শুনে দোয়া করেঃ ‘হে আল্লাহ্-এ পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের মালিক, মুহাম্মাদ (ﷺ)-কে ওয়াসীলা ও সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী করুন এবং তাঁকে সে মাকামে মাহমুদে পৌঁছে দিন যার অঙ্গীকার আপনি করেছেন’–কেয়ামাতের দিন সে আমার শাফা’আত লাভের অধিকারী হবে।
[১] আযানের জওয়াবে কয়েকটি বিষয় বাড়তিভাবে চালু হয়েছে, যা থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) কঠোরভাবে হুঁশিয়ার করে দিয়েছেনঃ “যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে আমার নামে মিথ্যারোপ করলো, সে জাহান্নামে তার ঠিকানা করে নিল।” (বুখারী, মিশকাত ১৯৮ ‘ইলম অধ্যায়)(১) অত্র হাদীসের শেষাংশে ‘ইন্নাকা লা তুখলিফুল মী’আদ।(২) বায়হাক্বীতে (১ম খণ্ডের ৪১০ পৃঃ) বর্ণিত আযানের দোয়ার শুরুতে ‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আস-আলুকা বি হাক্কি হা-যিহিদ দা’ওয়াতে।(৩) ইমাম তাহাভীর শারহু মা’আনিল আসার-এ বর্ণিত ‘আ-তি সাইয়্যিদিনা মুহাম্মাদান।(৪) ইবনুস সুন্নীর ‘ফী ‘আমালিল ইয়াওমি ওয়াল লায়লাহ’ গ্রন্থে ওয়াদ দারাজাতার রাফী’আহ। রাফী’ঈ প্রণীত ‘আল মুহাররির গ্রন্থে আযানের দোয়ার শেষে বর্ণিত ‘ইয়া আরহামার রা-হিমীন। আযানের জওয়াবে প্রচলিত বাড়তি বিষয়গুলো অবশ্যই পরিত্যাজ্য। অতিরিক্ত শব্দগুলো সহীহ সূত্রে প্রমাণিত নয়। (মুহাদ্দিস শাইখ নাসিরুদ্দীন আলবানী কৃত ‘ইরওয়াইল গালীল, ১ম খণ্ড ২৬০-২৬১ পৃষ্ঠা হাদীস নং ২৪৩) রেডিও ও বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে প্রচারিত দোয়ায় ‘ওয়ারযুকনা শা’আতাহূ ইয়াওমাল ক্বিয়ামাহ’ বাক্যটি যা যোগ করা হয়েছে তার কোন ভিত্তি নেই।
সহীহ বুখারী হাদিস ৬১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আজান শুনে পড়ার একটি নির্দিষ্ট দোয়া এসেছে। রাসূল صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি আজান শুনে আল্লাহর কাছে এই পরিপূর্ণ আহ্বান ও প্রতিষ্ঠিত সালাতের মালিকানা স্বীকার করে, মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم-এর জন্য ওয়াসীলা, ফজিলত এবং প্রতিশ্রুত মাকামে মাহমুদের দোয়া করে, তার জন্য কিয়ামতের দিন নবী صلى الله عليه وسلم-এর শাফাআত হালাল হবে। এখানে মূল শিক্ষা হলো আজানের পর দোয়া পড়া। দোয়ার ভাষায় সালাতের মর্যাদা, রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর সম্মান এবং আল্লাহর কাছে চাওয়া—সব একসঙ্গে এসেছে। আজানের দোয়া মুখস্থ করা ও নিয়মিত পড়া তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। তবে দোয়ার অর্থ বুঝে পড়লে মন আরও জাগ্রত হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আজান শুনে নির্দিষ্ট দোয়া পড়ার শিক্ষা এই হাদিসে এসেছে।
- দোয়ায় রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর জন্য ওয়াসীলা ও মাকামে মাহমুদের প্রার্থনা করা হয়।
- আজানের পরের সময়কে দোয়া ও স্মরণের সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত।
