৯৭/২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৭৩৭৬ - জাহমিয়াদের মতের খণ্ডন ও তাওহীদ প্রসঙ্গ
তুমি বলে দাও, তোমরা আল্লাহ নামে ডাকো বা রহমান নামে ডাকো। তোমরা যে নামেই ডাকো সকল সুন্দর নামই তাঁর। (সূরা ইসরা ১৭/১১০)
মূলত ইমাম বুখারী এই অধ্যায় (বাব) উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য নাম ও সিফাত (صفات) কে প্রমাণ করার জন্য। সহীহ বুখারীর কোনো কোনো ব্যাখ্যাকারী বলেন: এ বাবটি যেন মূল আর পরবর্তী বাবগুলো শাখা-প্রশাখা।আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো: মুশরিকরা যখন শুনতে পেল যে রাসূল (ﷺ) আল্লাহ তা‘আলাকে আহ্বান করেছেন ‘ইয়া আল্লাহ’, ‘ইয়া রাহমান’ বলে, তখন তারা বলল যে, মুহাম্মদ আমাদের এক আল্লাহকে আহ্বান করার নির্দেশ দেন অথচ তিনি দু’জন আল্লাহকে আহ্বান করছেন। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।সুতরাং বোঝা গেল যে, তিনি এক সত্তা, তিনি অদ্বিতীয়; কিন্তু তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী (صفات) রয়েছে।তাওহীদ তিন প্রকার: ১. তাওহীদ রুবূবিয়্যাত (সৃষ্টি ও পালনে আল্লাহর একত্ব), ২. তাওহীদে ইবাদাত বা উলূহিয়্যাত (ইবাদাত বা উপাসনায় একত্ব) এবং ৩. তাওহীদে আসমা ও সিফাত (নাম ও গুণাবলীর একত্ব)।এখানে তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাতকে স্থির করা হয়েছে যেমন তাঁর একটি নাম রহমান; ফলে তিনি রহমান সিফাতটি তাঁর জন্য স্থির করেছেন। এই সিফাতটি তাঁর যাত (ذات) এর অন্তর্গত। দয়া দ্বারা নেকী, ইচ্ছা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য নেওয়া যাবে না। অনুরূপ আল্লাহর রহমতের তুলনা কোনো মাখলূকের রহমতের সাথে দেওয়া যাবে না।সুতরাং তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাত হচ্ছে আল্লাহ তা‘আলার ঐসব নাম ও গুণাবলীকে যথাযথভাবে মেনে নেওয়া যা আল্লাহ তা‘আলা নিজ সম্বন্ধে তাঁর কিতাবে এবং রাসূল (ﷺ) তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণনা করেছেন।অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলা যে সমস্ত নাম ও গুণাবলীকে নিজ সম্বন্ধে কিতাবে নিষেধ করেছেন এবং রাসূল (ﷺ) তাঁর সহীহ হাদীসে আল্লাহ সম্বন্ধে নিষেধ করেছেন তা বর্জন করা।ঐ সমস্ত নাম ও গুণাবলীর কোনো অপব্যাখ্যা, উদাহরণ, অস্বীকার, পরিবর্তন অথবা কোনো স্বরূপ কল্পনা করা যাবে না। ফলে আল্লাহ তা‘আলার রহমত, আযাব, আনন্দ প্রকাশ, রাগ হওয়া, কথা বলা, দেখা, শোনা, দুনিয়ার আসমানে নেমে আসা, আরশের ওপরে অবস্থান, হাত, পা, অন্তর ইত্যাদি কোনো ব্যাখ্যা ছাড়াই ঠিক যেভাবে বর্ণনায় এসেছে সেভাবেই মেনে নিতে হবে।অনুরূপ আল্লাহর অংশীদার নেই, পিতা-মাতা নেই, সন্তান-সন্ততি নেই, তাঁকে তন্দ্রা ও ঘুম স্পর্শ করে না, তাঁর মৃত্যু নেই ইত্যাদি যা নিষেধ এসেছে তা সাব্যস্ত করা যাবে না।
সহীহ বুখারী : ৭৩৭৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৩৭৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ عَنْ الأَعْمَشِ عَنْ زَيْدِ بْنِ وَهْبٍ وَأَبِي ظَبْيَانَ عَنْ جَرِيرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ لاَ يَرْحَمُ اللهُ مَنْ لاَ يَرْحَمُ النَّاسَ.
জারীর ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আল্লাহ্ তার প্রতি রহম করেন না, যে মানুষের প্রতি রহম করে না।
অধ্যায়: তুমি বলে দাও, তোমরা আল্লাহ্ নামে ডাকো বা রাহমান নামে ডাকো। তোমরা যে নামেই ডাকো সকল সুন্দর নামই তাঁর।[১] (সূরা ইসরা ১৭/১১০)[১] মূলতঃ ইমাম বুখারী এই باب উল্লেখ করেছেন আল্লাহ তা‘আলার অসংখ্য নাম صفات কে প্রমাণ করার জন্য। সহীহ বুখারীর কোন কোন ব্যাখ্যাকারী বলেন : এ باب টি যেন মূল আর পরবর্তী ابواب গুলো শাখা-প্রশাখা। আয়াতটি অবতীর্ণ হওয়ার কারণ হলো : মুশরিকরা যখন শুনতে পেল যে রাসূল (সাঃ) আল্লাহ তা‘আলাকে আহবান করেছেন يا اللهু يارحمن বলে, তখন তাঁরা বলল যে, মুহাম্মাদ আমাদেরকে এক আল্লাহকে আহবান করার নির্দেশ দেয় অথচ তিনি দু’জন আল্লাহকে আহবান করছেন। তখন এ আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। সুতরাং বুঝা গেল যে, তিনি এক সত্তা, তিনি অদ্বিতীয়, কিন্তু তাঁর অনেক সুন্দর সুন্দর নাম ও গুণাবলী (صفات) রয়েছে। তাওহীদ তিন প্রকার : যথা : ১. তাওহীদ রুবূবিয়্যাত- (সৃষ্টি ও পালনে আল্লাহর একত্ব), তাওহীদে ’ইবাদাত বা উলূহিয়্যাত- (’ইবাদাত বা উপাসনায় একত্ব) এবং ৩. তাওহীদে আসমা ও সিফাত- নামও গুণাবলীর একত্ব)। এখানে তাওহীদে আসমা ওয়াস সিফাতকে স্থির করা হয়েছে যথা তাঁর একটি নাম رحمن ফলে তিনি رحمن সিফাতটি তাঁর জন্য স্থির করেছেন। এই সিফাতটি তাঁর صفات ذات এর অন্তর্গত। رحمة দ্বারা নেকী, ইচ্ছা অন্য কোন উদ্দেশ্য নেয়া যাবে না। অনুরূপ আল্লাহর রহমতের তুলনা কোন মাখলূকের রহমতের সাথে দেয়া যাবে না। সুতরাং তাওহীদে আসমা ওয়াস্সিফাত হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার ঐ সব নাম ও গুণাবলীকে যথাযথভাবে মেনে নেয়া যা আল্লাহ তা‘আলা নিজ সম্বন্ধে তাঁর কিতাবে এবং রাসূল (সাঃ) তাঁর সহীহ হাদীসে বর্ণনা করেছেন। অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলা যে সমস্ত নাম ও গুণাবলীকে তাঁর নিজ সম্বন্ধে কিতাবে নিষেধ করেছেন এবং রাসূল (সাঃ) তাঁর সহীহ হাদীসে আল্লাহ সম্বন্ধে নিষেধ করেছেন তা নিষেধ করা। ঐ সমস্ত নাম ও গুণাবলীর কোন অপব্যাখ্যা, উদাহরণ, অস্বীকার, পরিবর্তন অথবা কোন স্বরূপ (নিজস্ব) কল্পনা করা যাবে না। ফলে আল্লাহ তা‘আলার রহমাত, আযাব, আনন্দ প্রকাশ, রাগ হওয়া, কথা বলা, দেখা, শোনা, দুনিয়ার আসমানে নেমে আসা, তিনি আরশের উপরে, তাঁর হাত রয়েছে, পা রয়েছে, অন্তর রয়েছে ইত্যাদি কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই ঠিক যেভাবে বর্ণনায় এসেছে সেভাবেই মেনে নিতে হবে। অনুরূপ আল্লাহ তা‘আলার অংশীদার নেই, পিতা-মাত নেই, সন্তান-সন্ততি নেই, তাঁকে তন্দ্রা ও ঘুম স্পর্শ করে না, তাঁর মৃত্যু নেই ইত্যাদি যা নিষেধ এসেছে তা সাব্যস্ত করা যাবে না।
