১০/৯০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৭৪৫ - সালাতুল কুসুফ ও প্রাণীর প্রতি দয়া
সালাতুল কুসুফ: জান্নাত, জাহান্নাম ও প্রাণীর প্রতি দয়ার শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৭৪৫
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৭৪৫
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ صَلَّى صَلاَةَ الْكُسُوفِ، فَقَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ رَفَعَ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ رَفَعَ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ رَفَعَ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ ثُمَّ انْصَرَفَفَقَالَ " قَدْ دَنَتْ مِنِّي الْجَنَّةُ حَتَّى لَوِ اجْتَرَأْتُ عَلَيْهَا لَجِئْتُكُمْ بِقِطَافٍ مِنْ قِطَافِهَا، وَدَنَتْ مِنِّي النَّارُ حَتَّى قُلْتُ أَىْ رَبِّ وَأَنَا مَعَهُمْ فَإِذَا امْرَأَةٌ ـ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ ـ تَخْدِشُهَا هِرَّةٌ قُلْتُ مَا شَأْنُ هَذِهِ قَالُوا حَبَسَتْهَا حَتَّى مَاتَتْ جُوعًا، لاَ أَطْعَمَتْهَا، وَلاَ أَرْسَلَتْهَا تَأْكُلُ ". قَالَ نَافِعٌ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ " مِنْ خَشِيشِ أَوْ خُشَاشِ الأَرْضِ ".
আসমা বিনতু আবূ বাক্র (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) একবার সালাতুল কুসূফ (সূর্য গ্রহণের সালাত) আদায় করলেন। তিনি সালাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর রুকু’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। অতঃপর আবার রুকু’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকু’তে থাকলেন। অতঃপর উঠলেন, পরে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় রইলেন। আবার সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন।অতঃপর আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন। আবার রুকু’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ রুকু’তে থাকলেন। অতঃপর রুকু’ হতে উঠে আবার দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেন এবং আবার রুকু’তে গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। অতঃপর রুকু’ হতে উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন। অতঃপর উঠে সিজদায় গেলেন এবং দীর্ঘক্ষণ সিজদায় থাকলেন।অতঃপর সালাত শেষ করে ফিরে বললেনঃ জান্নাত আমার খুবই নিকটে এসে গিয়েছিল এমনকি আমি যদি চেষ্টা করতাম তাহলে জান্নাতের একগুচ্ছ আঙ্গুর তোমাদের এনে দিতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার একেবারে নিকটবর্তী এসে গিয়েছিল। এমনকি আমি বলে উঠলাম, ইয়া রব! আমিও কি তাদের সাথে? আমি একজন স্ত্রীলোককে দেখতে পেলাম। আমার মনে হয়, তিনি বলেছিলেন, একটি বিড়াল তাকে খামচাচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ স্ত্রী লোকটির এমন অবস্থা কেন? মালাকগণ (ফেরেশতাগণ) জবাব দিলেন, সে একটি বিড়ালকে আটকিয়ে রেখেছিল, ফলে বিড়ালটি অনাহারে মারা যায়। উক্ত স্ত্রী লোকটি তাকে খেতেও দেয়নি এবং তাকে ছেড়েও দেয়নি, যাতে সে আহার করতে পারে।নাফি’ (রহঃ) বলেন, আমার মনে হয়, ইব্নু আবূ মুলায়কাহ (রহঃ) বর্ণনা করেছিলেন, যাতে সে যমীনের পোকামাকড় খেতে পারে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৭৪৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সূর্যগ্রহণের সালাত বা সালাতুল কুসুফের দীর্ঘ বর্ণনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) দীর্ঘ কিয়াম, দীর্ঘ রুকু ও দীর্ঘ সিজদার মাধ্যমে সালাত আদায় করেন। সালাত শেষে তিনি জানালেন, জান্নাত তাঁর কাছে নিকটে আনা হয়েছিল। এমনকি তিনি চাইলে জান্নাতের আঙ্গুরের একগুচ্ছ আনতে পারতেন। আবার জাহান্নামও তাঁর কাছে নিকটে আনা হয়েছিল। সেখানে তিনি একজন নারীকে দেখলেন, একটি বিড়াল তাকে খামচাচ্ছে। কারণ, সে বিড়ালকে আটকে রেখেছিল, খাবার দেয়নি, আবার ছেড়েও দেয়নি যাতে সে নিজে খাবার খেতে পারে। এই হাদিসের মূল শিক্ষা দুই দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে সালাতুল কুসুফের ভেতরে ভয়, দোয়া ও দীর্ঘ ইবাদতের ছবি আছে। অন্যদিকে প্রাণীর প্রতি দয়া না করা কত গুরুতর হতে পারে, সেটিও সতর্কভাবে বলা হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্যগ্রহণের সময় নবী (صلى الله عليه وسلم) দীর্ঘ সালাত আদায় করেছেন।
- প্রাণীকে কষ্ট দেওয়া থেকে সতর্ক থাকা দরকার।
- জান্নাত ও জাহান্নামের কথা মানুষকে আমলের বিষয়ে ভাবায়।
