১০/১৩৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৮১৩ - লাইলাতুল কদর শেষ দশকের বেজোড় রাতে
নাক দ্বারা কাদামাটির উপর সিজদা করা।
লাইলাতুল কদর: শেষ দশকের বেজোড় রাতে তালাশের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৮১৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৮১৩
حَدَّثَنَا مُوسَى، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ انْطَلَقْتُ إِلَى أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ فَقُلْتُ أَلاَ تَخْرُجُ بِنَا إِلَى النَّخْلِ نَتَحَدَّثْ فَخَرَجَ. فَقَالَ قُلْتُ حَدِّثْنِي مَا، سَمِعْتَ مِنَ النَّبِيِّ، ﷺ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ.قَالَ اعْتَكَفَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَشْرَ الأُوَلِ مِنْ رَمَضَانَ، وَاعْتَكَفْنَا مَعَهُ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ إِنَّ الَّذِي تَطْلُبُ أَمَامَكَ. فَاعْتَكَفَ الْعَشْرَ الأَوْسَطَ، فَاعْتَكَفْنَا مَعَهُ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ إِنَّ الَّذِي تَطْلُبُ أَمَامَكَ. فَقَامَ النَّبِيُّ ﷺ خَطِيبًا صَبِيحَةَ عِشْرِينَ مِنْ رَمَضَانَ فَقَالَ «مَنْ كَانَ اعْتَكَفَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ فَلْيَرْجِعْ، فَإِنِّي أُرِيتُ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، وَإِنِّي نُسِّيتُهَا، وَإِنَّهَا فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ فِي وِتْرٍ، وَإِنِّي رَأَيْتُ كَأَنِّي أَسْجُدُ فِي طِينٍ وَمَاءٍ».وَكَانَ سَقْفُ الْمَسْجِدِ جَرِيدَ النَّخْلِ وَمَا نَرَى فِي السَّمَاءِ شَيْئًا، فَجَاءَتْ قَزْعَةٌ فَأُمْطِرْنَا، فَصَلَّى بِنَا النَّبِيُّ ﷺ حَتَّى رَأَيْتُ أَثَرَ الطِّينِ وَالْمَاءِ عَلَى جَبْهَةِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ وَأَرْنَبَتِهِ تَصْدِيقَ رُؤْيَاهُ.
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আবূ সা’ঈদ খুদ্রী (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললাম, আমার সঙ্গে খেজুর বাগানে চলুন, (হাদীস সংক্রান্ত) আলাপ আলোচনা করব। তিনি বেরিয়ে আসলেন। আবূ সালামা (রহঃ) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, ‘লাইলাতুল কাদ্র’ সম্পর্কে নবী (ﷺ) হতে যা শুনেছেন, তা আমার নিকট বর্ণনা করুন। তিনি বললেন, আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) রমজানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করলেন। আমরাও তাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করলাম। জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে।অতঃপর তিনি মধ্যবর্তী দশদিন ইতিকাফ করলেন, আমরাও তাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করলাম। পুনরায় জিবরীল (আঃ) এসে বললেন, আপনি যা তালাশ করছেন, তা আপনার সামনে রয়েছে। অতঃপর রমজানের বিশ তারিখ সকালে নবী (ﷺ) খুত্বা দিতে দাঁড়িয়ে বললেন, যারা আল্লাহ্র নবীর সঙ্গে ইতিকাফ করেছেন, তারা যেন ফিরে আসেন (আবার ইতিকাফ করেন) কেননা, আমাকে স্বপ্নে ‘লাইলাতুল কাদ্র’ অবগত করানো হয়েছে। তবে আমাকে তা (নির্ধারিত তারিখটি) ভুলিয়ে দেয়া হয়েছে। নিঃসন্দেহে তা শেষ দশ দিনের কোন এক বেজোড় তারিখে। স্বপ্নে দেখলাম যেন আমি কাদা ও পানির উপর সিজদা করছি।তখন মসজিদের ছাদ খেজুরের ডাল দ্বারা নির্মিত ছিল। আমরা আকাশে কোন কিছুই (মেঘ) দেখিনি, একখণ্ড হালকা মেঘ আসল এবং আমাদের উপর (বৃষ্টি) বর্ষিত হল। নবী (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। এমন কি আমি আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)-এর কপাল ও নাকের অগ্রভাগে পানি ও কাদার চিহ্ন দেখতে পেলাম। এভাবেই তাঁর স্বপ্ন সত্যে রূপ লাভ করল।
সহীহ বুখারী হাদিস ৮১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে লাইলাতুল কদর খোঁজার বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমল ও নির্দেশ এসেছে। তিনি প্রথমে রমজানের প্রথম দশ দিন ইতিকাফ করেন, সাহাবীরাও তাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করেন। পরে জিবরীল (আঃ) জানান, যা তিনি খুঁজছেন তা সামনে। এরপর তিনি মাঝের দশ দিন ইতিকাফ করেন। বিশ তারিখ সকালে তিনি বলেন, যারা তাঁর সঙ্গে ইতিকাফ করেছিল তারা যেন ফিরে আসে। কারণ তাঁকে লাইলাতুল কদর দেখানো হয়েছিল, তবে নির্দিষ্ট তারিখ ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, তা শেষ দশ দিনের কোনো এক বেজোড় রাতে। তিনি স্বপ্নে দেখেছিলেন, কাদা ও পানির উপর সিজদা করছেন। পরে বৃষ্টি হয়, মসজিদের ছাদ থেকে পানি পড়ে এবং সালাতের পর তাঁর কপাল ও নাকে কাদা-পানির চিহ্ন দেখা যায়। এই বর্ণনা লাইলাতুল কদর, ইতিকাফ ও শেষ দশকের গুরুত্ব শেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- লাইলাতুল কদর শেষ দশকের বেজোড় রাতে তালাশ করতে বলা হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) লাইলাতুল কদরের সন্ধানে ইতিকাফ করেছেন।
- নির্দিষ্ট তারিখ ভুলিয়ে দেওয়া হলেও খোঁজার দিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর স্বপ্নের কাদা-পানির সিজদা বাস্তবে দেখা যায়।
