৩২/৩. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২০২০ - রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ ও কদরের অনুসন্ধান
রমজানের শেষ দশকের বেজোড় রাতে লাইলাতুল কদর তালাশ করা।
فِيهِ عَنْ عُبَادَةَএ প্রসঙ্গে ‘উবাদা (রাঃ) হতে রিওয়ায়াত রয়েছে।"
রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ ও লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান
সহীহ বুখারী : ২০২০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২০২০
حَدَّثَنِي مُحَمَّدٌ، أَخْبَرَنَا عَبْدَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يُجَاوِرُ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، وَيَقُولُ " تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْعَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ».
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং বলতেনঃ তোমরা রমযানের শেষ দশকে [৩] লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর।
[৩] আল্লাহ তায়ালা কোরআনুল কারীমের সূরা ক্বদরে ঘোষণা করেছেন- লাইলাতুল ক্বদর হাজার মাসের (ইবাদাতের) চেয়েও উত্তম। সহীহ শুদ্ধ হাদীস থেকে জানা যায় যে, লাইলাতুল ক্বদর রমযানের শেষ দশ দিনের যে কোন বিজোড় রাত্রিতে হয়ে থাকে। বিভিন্ন সহীহ হাদীসে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখে লাইলাতুল ক্বদর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা উল্লেখিত আছে। হাদীসে এ কথাও উল্লেখিত আছে, যে কোন একটি নির্দিষ্ট বিজোড় রাত্রিতেই তা হয় না। (অর্থাৎ কোন বছরে ২৫ তারিখে হল, আবার কোন বছরে ২১ তারিখে হল এভাবে। আমাদের দেশে সরকারী আর বেসরকারীভাবে জাঁকজমকের সঙ্গে ২৭ তারিখের রাত্রিকে লাইলাতুল ক্বদরের রাত হিসেবে পালন করা হয়। এভাবে মাত্র একটি রাত্রিকে লাইলাতুল ক্বদর সাব্যস্ত করার কোনই হাদীস নাই। লাইলাতুল ক্বদরের সওয়াব পেতে চাইলে ৫টি বিজোড় রাত্রেই তালাশ করতে হবে। বর্তমানে রাত্রি জাগরণের জন্য মসজিদে সকলে সমবেত হয়ে বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলের যে ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে সেটিও নবাবিষ্কৃত কাজ। কারণ আল্লাহর নবী (ﷺ) তাঁর সময়ে সাহাবীদের নিয়ে মসজিদে জাগরিত হয়ে বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতিতে ইবাদত না করে নিজ নিজ পরিবারকে জাগিয়ে কিয়ামুল লাইল পালন করতেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ২০২০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) জানান, আল্লাহর রসূল (صلى الله عليه وسلم) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন। তিনি বলতেন, তোমরা রমজানের শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধান কর। এখানে দুইটি বিষয় একসাথে এসেছে: শেষ দশকের ইতিকাফ এবং লাইলাতুল কদর খোঁজা। তাই যারা ‘শেষ দশকে ইতিকাফ’, ‘লাইলাতুল কদর কবে’, বা ‘রমজানের শেষ দশকের আমল’ জানতে চান, তাদের জন্য এই হাদিস খুব দরকারি। এই বর্ণনায় নির্দিষ্ট একটি রাত বলা হয়নি; বরং শেষ দশককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে বোঝা যায়, শেষ দশককে আলাদা মনোযোগ দিয়ে ইবাদতের সময় হিসেবে নেওয়া নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) রমজানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন।
- লাইলাতুল কদর শেষ দশকে অনুসন্ধান করতে বলা হয়েছে।
- রমজানের শেষ দশককে ইবাদতের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
