১১/২৯. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯২৬ - তাওহীদের সাক্ষ্য ও খুতবার ভাষা
খুতবায় আল্লাহর হামদের পর ‘আম্মা বাদু’ বলা।
رَوَاهُ عِكْرِمَةُ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ‘ইকরিমা (রহঃ) ইবন ‘আব্বাস (রাঃ)-এর সূত্রে নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন।"
তাওহীদের সাক্ষ্য দিয়ে খুতবা শুরু: আম্মা বাদ বলার সুন্নাহ
সহীহ বুখারী : ৯২৬
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯২৬
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُسَيْنٍ، عَنِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ، قَالَ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فَسَمِعْتُهُ حِينَ تَشَهَّدَ يَقُولُ " أَمَّا بَعْدُ ". تَابَعَهُ الزُّبَيْدِيُّ عَنِ الزُّهْرِيِّ.
মিসওয়ার ইব্নু মাখরামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) দাঁড়ালেন। অতঃপর আমি তাঁকে তাওহীদের সাক্ষ্য বাণী পাঠান্তে বলতে শুনলাম, ‘আম্মা বা’দ’।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো খুতবার ভাষা ও তাওহীদের সাক্ষ্য। মিসওয়ার ইবনু মাখরামা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দাঁড়ালেন এবং তিনি তাঁকে তাশাহহুদ পাঠের পর আম্মা বাদ বলতে শুনলেন। বর্ণনাটি ছোট, কিন্তু অর্থ গভীর। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর বক্তব্য শুধু সামাজিক ভাষণ ছিল না; তা ছিল আল্লাহর স্মরণ, তাওহীদের ঘোষণা এবং মানুষের জন্য নির্দেশনার মাধ্যম। তাই খুতবার শুরুতে তাশাহহুদ ও আম্মা বাদ বলার মধ্যে কথা বলার শৃঙ্খলা আছে। এটি বক্তাকে মনে করায়, সে আল্লাহর সামনে দায়বদ্ধ। শ্রোতাকেও মনে করায়, কথা শুধু শোনার জন্য নয়, আমল করার জন্য। এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, দ্বীনি বক্তব্যে শব্দের শুরু, বিন্যাস ও উদ্দেশ্য—সবকিছুতেই নববী আদব আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খুতবার শুরুতে তাশাহহুদ পাঠ করা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর আমলের অংশ।
- আম্মা বাদ মূল আলোচনায় যাওয়ার একটি সুন্দর রীতি।
- দ্বীনি বক্তব্য আল্লাহর স্মরণ দিয়ে শুরু হওয়া উচিত।
- সংক্ষিপ্ত বর্ণনাও খুতবার গুরুত্বপূর্ণ আদব শেখাতে পারে।
