১৩/১২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৭১ - ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে অংশগ্রহণ
মিনার দিনগুলোতে এবং সকালে আরাফায় যাওয়ার সময় তাকবীর বলা
وَكَانَ عُمَرُ ؓ يُكَبِّرُ فِي قُبَّتِهِ بِمِنًى فَيَسْمَعُهُ أَهْلُ الْمَسْجِدِ فَيُكَبِّرُونَ وَيُكَبِّرُ أَهْلُ الْأَسْوَاقِ حَتَّى تَرْتَجَّ مِنًى تَكْبِيرًا وَكَانَ ابْنُ عُمَرَ يُكَبِّرُ بِمِنًى تِلْكَ الْأَيَّامَ وَخَلْفَ الصَّلَوَاتِ وَعَلَى فِرَاشِهِ وَفِي فُسْطَاطِهِ وَمَجْلِسِهِ وَمَمْشَاهُ تِلْكَ الْأَيَّامَ جَمِيعًا وَكَانَتْ مَيْمُونَةُ تُكَبِّرُ يَوْمَ النَّحْرِ وَكُنَّ النِّسَاءُ يُكَبِّرْنَ خَلْفَ أَبَانَ بْنِ عُثْمَانَ وَعُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ لَيَالِيَ التَّشْرِيقِ مَعَ الرِّجَالِ فِي الْمَسْجِدِ.‘উমার (রাঃ) মিনায় নিজের তাবুতে তাকবীর বলতেন। মসজিদের লোকেরা তা শুনে তারাও তাকবীর বলতেন এবং বাজারের লোকেরাও তাকবীর বলতেন। ফলে সমস্ত মিনা তাকবীরে আওয়াজে গুঞ্জরিত হয়ে উঠত। ইবন ‘উমার (রাঃ) সে দিনগুলোতে মিনায় তাকবীর বলতেন এবং সালাতের পরে, বিছানায়, খীমায়, মজলিসে এবং চলার সময় এ দিনগুলোতে তাকবীর বলতেন। মাইমূনা (রাঃ) কুরবানীর দিন তাকবীর বলতেন এবং মহিলারা আবান ইবন ‘উসমান ও ‘উমার ইবন ‘আবদুল ‘আযীয (রহঃ)-এর পিছনে তাশরীক্বের রাতগুলোতে মসজিদে পুরুষদের সঙ্গে সঙ্গে তাকবীর বলতেন।"
ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে অংশগ্রহণ ও তাকবিরের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৯৭১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৭১
حَدَّثَنَا مُحَمَّدٌ، حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ عَاصِمٍ، عَنْ حَفْصَةَ، عَنْ أُمِّ عَطِيَّةَ، قَالَتْ كُنَّا نُؤْمَرُ أَنْ نَخْرُجَ يَوْمَ الْعِيدِ، حَتَّى نُخْرِجَ الْبِكْرَ مِنْ خِدْرِهَا، حَتَّى نُخْرِجَ الْحُيَّضَ فَيَكُنَّ خَلْفَ النَّاسِ، فَيُكَبِّرْنَ بِتَكْبِيرِهِمْ، وَيَدْعُونَ بِدُعَائِهِمْ يَرْجُونَ بَرَكَةَ ذَلِكَ الْيَوْمِ وَطُهْرَتَهُ.
উম্মু ‘আতিয়্যাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ঈদের দিন আমাদের বের হবার আদেশ দেয়া হত। এমন কি আমরা কুমারী মেয়েদেরকেও অন্দর মহল হতে বের করতাম এবং ঋতুবতী মেয়েদেরকেও। তারা পুরুষদের পিছনে থাকতো এবং তাদের তাকবিরের সাথে তাকবির বলতো এবং তাদের দোয়ার সাথে দোয়া করত- সে দিনের বরকত এবং পবিত্রতা তারা আশা করত।
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৭১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো ঈদের দিনে নারীদের ঈদগাহে অংশগ্রহণ। উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) বলেন, ঈদের দিন তাঁদের বের হওয়ার আদেশ দেওয়া হতো। এমনকি কুমারী মেয়েদেরও অন্দর মহল থেকে বের করা হতো এবং ঋতুবতী নারীরাও বের হতেন। তবে তারা পুরুষদের পেছনে থাকতেন। তারা মানুষের তাকবিরের সঙ্গে তাকবির বলতেন এবং দোয়ার সঙ্গে দোয়া করতেন। তারা ঐ দিনের বরকত ও পবিত্রতার আশা করতেন। এই হাদিসে ঈদের সামাজিক ও ইবাদতপূর্ণ দিক দুটোই দেখা যায়। নারীদের জন্য আলাদা করে অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল, তবে শালীনতা ও অবস্থানের নিয়মও রাখা হয়েছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদের দিনে নারীদের বের হওয়ার নির্দেশ বর্ণনায় এসেছে।
- ঋতুবতী নারীরাও দোয়া ও তাকবিরে অংশ নিতেন।
- নারীরা পুরুষদের পেছনে অবস্থান করতেন।
- ঈদের দিন বরকত ও দোয়ার সুযোগ হিসেবে দেখা হয়েছে।
