১৩/২০. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৮০ - নারীদের ঈদগাহে যাওয়া ও ওড়না ভাগ করে নেওয়া
ঈদের সালাতে যাওয়ার জন্য নারীদের ওড়না না থাকলে।
নারীদের ঈদগাহে যাওয়া: ওড়না না থাকলে কী করবে?
সহীহ বুখারী : ৯৮০
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৯৮০
حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ حَفْصَةَ بِنْتِ سِيرِينَ، قَالَتْ كُنَّا نَمْنَعُ جَوَارِيَنَا أَنْ يَخْرُجْنَ يَوْمَ الْعِيدِ، فَجَاءَتِ امْرَأَةٌ فَنَزَلَتْ قَصْرَ بَنِي خَلَفٍ فَأَتَيْتُهَا فَحَدَّثَتْ أَنَّ زَوْجَ أُخْتِهَا غَزَا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ غَزْوَةً فَكَانَتْ أُخْتُهَا مَعَهُ فِي سِتِّ غَزَوَاتٍ. فَقَالَتْ فَكُنَّا نَقُومُ عَلَى الْمَرْضَى وَنُدَاوِي الْكَلْمَى، فَقَالَتْ يَا رَسُولَ اللَّهِ، عَلَى إِحْدَانَا بَأْسٌ إِذَا لَمْ يَكُنْ لَهَا جِلْبَابٌ أَنْ لاَ تَخْرُجَ فَقَالَ «لِتُلْبِسْهَا صَاحِبَتُهَا مِنْ جِلْبَابِهَا فَلْيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُؤْمِنِينَ». قَالَتْ حَفْصَةُ فَلَمَّا قَدِمَتْ أُمُّ عَطِيَّةَ أَتَيْتُهَا، فَسَأَلْتُهَا أَسَمِعْتِ فِي كَذَا وَكَذَا قَالَتْ نَعَمْ، بِأَبِي ـ وَقَلَّمَا ذَكَرَتِ النَّبِيَّ ﷺ إِلاَّ قَالَتْ بِأَبِي ـ قَالَ «لِيَخْرُجِ الْعَوَاتِقُ ذَوَاتُ الْخُدُورِ ـ أَوْ قَالَ الْعَوَاتِقُ وَذَوَاتُ الْخُدُورِ شَكَّ أَيُّوبُ ـ وَالْحُيَّضُ، وَيَعْتَزِلُ الْحُيَّضُ الْمُصَلَّى، وَلْيَشْهَدْنَ الْخَيْرَ وَدَعْوَةَ الْمُؤْمِنِينَ». قَالَتْ فَقُلْتُ لَهَا آلْحُيَّضُ قَالَتْ نَعَمْ، أَلَيْسَ الْحَائِضُ تَشْهَدُ عَرَفَاتٍ وَتَشْهَدُ كَذَا وَتَشْهَدُ كَذَا
হাফসা বিন্ত সীরীন (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমরা ঈদের দিন আমাদের যুবতীদের বের হতে নিষেধ করতাম। একদা জনৈকা মহিলা এলেন এবং বনু খালাফের প্রাসাদে অবস্থান করলেন। আমি তাঁর নিকট গেলে তিনি বললেন, তাঁর ভগ্নিপতি নবী (ﷺ)- এর সাথে বারটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন, এর মধ্যে ছয়টি যুদ্ধে স্বয়ং তাঁর বোনও স্বামীর সাথে অংশগ্রহণ করেছেন, (মহিলা বলেন) আমার বোন বলেছেন, আমরা রুগ্নদের সেবা করতাম, আহতদের শুশ্রূষা করতাম। একবার তিনি প্রশ্ন করেছিলেন, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমাদের কারো ওড়না না থাকে, তখন কি সে বের হবে না? নবী (ﷺ) বললেনঃ এ অবস্থায় তার বান্ধবী যেন তাঁকে নিজ ওড়না পরিধান করতে দেয় এবং এভাবে মহিলাগণ যেন কল্যাণকর কাজে ও মুমিনদের দোয়ায় অংশগ্রহণ করেন।হাফসা (রহঃ) বলেন, যখন উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ) এলেন, তখন আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম যে, আপনি কি এসব ব্যাপারে কিছু শুনেছেন? তিনি বললেন, হাঁ, হাফসা (রহঃ) বলেন, আমার পিতা আল্লাহর রাসূল (ﷺ)- এর জন্য উৎসর্গিত হোক এবং তিনি যখনই আল্লাহর রাসূল (ﷺ)- এর নাম উল্লেখ করতেন, তখনই একথা বলতেন।তাঁবুতে অবস্থানকারিণী যুবতীরা এবং ঋতুবতী নারীরা যেন বের হন। তবে ঋতুবতী নারীরা যেন সালাতের স্থান হতে সরে থাকেন। তারা সকলেই যেন কল্যাণকর কাজে ও মুমিনদের দোয়ায় অংশগ্রহণ করেন। হাফসা (রহঃ) বলেন, আমি তাঁকে বললাম, ঋতুবতী নারীরাও? তিনি বললেন, হাঁ, ঋতুবতী নারী কি আরাফাত এবং অন্যান্য স্থানে উপস্থিত হয় না?
সহীহ বুখারী হাদিস ৯৮০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো নারীদের ঈদের দিনে বের হওয়া, কল্যাণে অংশ নেওয়া এবং ঋতুবতী নারীদের অবস্থান। বর্ণনায় এসেছে, আগে কিছু মানুষ যুবতীদের ঈদের দিন বের হতে নিষেধ করত। পরে উম্মু আতিয়্যাহ (রাঃ)-এর বর্ণনা থেকে জানা যায়, নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, যুবতী, পর্দানশীন নারী এবং ঋতুবতী নারীরাও বের হবে। তবে ঋতুবতী নারীরা সালাতের স্থান থেকে আলাদা থাকবে। যদি কারও ওড়না না থাকে, তার সঙ্গিনী যেন নিজের ওড়না থেকে তাকে পরতে দেয়। উদ্দেশ্য হলো, তারা যেন কল্যাণকর কাজে এবং মুমিনদের দোয়ায় অংশ নেয়। এই হাদিস নারীদের ঈদের ইবাদতপূর্ণ পরিবেশে অংশগ্রহণের গুরুত্ব সহজভাবে বুঝিয়ে দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নারীদের ঈদের দিনে বের হওয়ার নির্দেশ বর্ণনায় এসেছে।
- ওড়না না থাকলে সঙ্গিনী তাকে নিজের ওড়না পরতে দিতে পারে।
- ঋতুবতী নারীরা সালাতের স্থান থেকে আলাদা থাকবে।
- নারীরা কল্যাণকর কাজ ও মুমিনদের দোয়ায় অংশ নিতে পারে।
