৮/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১০৪৬ - সাফিয়া রা.-এর ওয়ালিমাহর সরলতা
ওয়ালিমাহ - বিবাহের ওয়ালিমার ব্যাপারে নাবী (ﷺ)-এর দিক নির্দেশনা
সাফিয়া রা.-এর ওয়ালিমাহ: রুটি-গোশত ছাড়াও সরল আয়োজন
বুলুগুল মারাম : ১০৪৬
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১০৪৬
وَعَنْ أَنَسٍ قَالَ: أَقَامَ النَّبِيُّ - ﷺ - بَيْنَ خَيْبَرَ وَالْمَدِينَةِ ثَلَاثَ لَيَالٍ, يُبْنَى عَلَيْهِ بِصَفِيَّةَ, فَدَعَوْتُ الْمُسْلِمِينَ إِلَى وَلِيمَتِهِ, فَمَا كَانَ فِيهَا مِنْ خُبْزٍ وَلَا لَحْمٍ, وَمَا كَانَ فِيهَا إِلَّا أَنْ أَمَرَ بِالْأَنْطَاعِ, فَبُسِطَتْ, فَأُلْقِيَ عَلَيْهَا التَّمْرُ, وَالْأَقِطُ, وَالسَّمْنُ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) খায়বার এবং মাদীনাহ্র মাঝে তিন দিন অবস্থান করলেন এবং হুয়ায়্যার কন্যা সাফীয়ার সাথে বাসর যাপনের ব্যবস্থা করলেন। আমি মুসলিমদেরকে তাঁর ওয়ালিমার দাওয়াত দিলাম। নবী (ﷺ) দস্তরখানা বিছানোর নির্দেশ দিলেন এবং সেখানে গোশত ও রুটি ছিল না। খেজুর, পনির, মাখন ও ঘি রাখা হল।–শব্দ বিন্যাস বুখারীর। [১১৪৫]
[১১৪৫] বুখারী ৩৭১, ৬১০, ৯৪৭, ২১৩০, ২২২৮, মুসলিম ১৩৪৫, ১৩৬৫, ১৩৬৮, তিরমিযী ১০৯৫, ১১১৫, নাসায়ী ৫৪৭, ৩৩৪২, ৩৩৪৩, আবূ দাঊদ ২০৫৪, ২৯৯৬, ইবনু মাজাহ ১৯০৯, ১৯৫৭, ২২৭২, আহমাফ ১১৫৩২, ১১৫৮১, ১১৬৬৮, মালেক ১০২০, ১৬৩৬, দারেমী ২২৪২, ২২৪৩, ২৪৭৫
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১০৪৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে খায়বার ও মাদীনাহর মাঝে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবস্থান এবং সাফিয়া রা.-এর সঙ্গে বিবাহের পর ওয়ালিমাহর কথা এসেছে। আনাস রা. মুসলিমদেরকে সেই ওয়ালিমাহর দাওয়াত দেন। বর্ণনায় বলা হয়েছে, সেখানে রুটি ও গোশত ছিল না; বরং দস্তরখানা বিছিয়ে খেজুর, পনির, মাখন ও ঘি রাখা হয়েছিল। এই হাদিস ওয়ালিমাহর সরলতা খুব সুন্দরভাবে দেখায়। খাবারের ধরন বড় বিষয় নয়; সামর্থ্য অনুযায়ী মানুষকে দাওয়াত দেওয়া এবং আনন্দ ভাগ করা মূল বিষয়। এতে অতিরিক্ত খরচ, লোক দেখানো বা আড়ম্বরের চাপ নেই। ইসলামে বিয়ের আনন্দ সহজভাবেও প্রকাশ করা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওয়ালিমাহতে রুটি-গোশত থাকা জরুরি নয়।
- সামর্থ্য অনুযায়ী সহজ খাবার দিয়েও দাওয়াত করা যায়।
- বিয়ের আনন্দ ভাগ করতে আন্তরিকতাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
