৯/০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৬১ - দাসের প্রাণ ও অঙ্গের মর্যাদা
দাসের হত্যার বদলে মনিবকে হত্যা করার বিধান
দাসের অধিকার: হত্যা ও অঙ্গহানির কঠোর বিচার
বুলুগুল মারাম : ১১৬১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১১৬১
وَعَنْ سَمُرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «مَنْ قَتَلَ عَبْدَهُ قَتَلْنَاهُ, وَمَنْ جَدَعَ عَبْدَهُ جَدَعْنَاهُ». رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالْأَرْبَعَةُ, وَحَسَّنَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَهُوَ مِنْ رِوَايَةِ الْحَسَنِ الْبَصْرِيِّ عَنْ سَمُرَةَ, وَقَدِ اخْتُلِفَ فِي سَمَاعِهِ مِنْهُوَفِي رِوَايَةٍ لِأَبِي دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيِّ: «وَمَنْ خَصَى عَبْدُهُ خَصَيْنَاهُ». وَصَحَّحَ الْحَاكِمُ هَذِهِ الزِّيَادَةَ
সামুরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি তার দাসকে হত্যা করবে আমরা তাকে হত্যা করব, যে তার দাসের নাক কান কাটবে আমরা তার নাক কান কেটে নেব। [১২৬৪]
[১২৬৪] আবূ দাঊদ ৪৫১৫, ৪৫১৮, তিরমিযী ১৪১৪, নাসায়ী ৪৭৩৬, ৪৭৩৭, ইবনু মাজাহ ২৬৬৩, আহমাদ ১৯৫৯৮, ১৯৬১৪, দারেমী ২৩৫৮। ইমাম বাইহাকী তাঁর সুনানে কুবরায় ৮/৩৫ গ্রন্থে একে যঈফ বলেছেন। আর তিনি সুনানে সুগরার ৩/২১০ গ্রন্থে বলেছেন। ইয়াহইয়া বিন মুঈন ও শুবা অস্বীকৃতি জ্ঞাপন করেছেন সামুরা থেকে হাসান এর শ্রবণ করাকে। শাঈখ আলবানী তাঁর তাখরীজ মিশকাতুল মাসাবীহ ৩৪০৪ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। শাঈখ মুহাম্মাদ বিন আবদুল ওয়াহহাব ৪/১৯৩ গ্রন্থে বলেন, হাসান পর্যন্ত সনদ সহীহ, মুহাদ্দিসগণ সামুরা থেকে হাসানের এ হাদিসটি শোনার ব্যাপারে মতভেদ করেছেন। ইমাম শওকানী তাঁর আদদিরারী আল মাযীয়্যাহ ৪১১ গ্রন্থে বলেন, এর সনদে দুর্বলতা রয়েছে, কেননা হাসান এটি সামুরা থেকে বর্ণনা করেছেন। আর তিনি নাইলুল আওত্বর ৭/১৫৬ গ্রন্থে এর সনদকে দুর্বল বলেছেন। শাইখ আলবানী তাঁর যঈফ আবূ দাঊদ ৪৫১৫, যঈফ নাসায়ী ৪৭৬৭, যঈফ তিরমিযী ১৪১৪ গ্রন্থসমূহে একে দুর্বল বলেছেন। ইবনে উসাইমীন তাঁর শরহে বুলুগুল মারাম ৫/২২৯ গ্রন্থে বলেনঃ একে বিচ্ছিন্নতার দোষে দুষ্ট করা হয়েছে। সঠিক হলো মুত্তাসিল।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১১৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দাসের অধিকার ও কিসাসের বিধান। এখানে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি নিজের দাসকে হত্যা করবে, তার বিরুদ্ধেও হত্যার বিচার হবে। আর যে দাসের নাক-কান কেটে দেবে, তার ক্ষেত্রেও সমপরিমাণ শাস্তির কথা বলা হয়েছে। বর্ণনায় আরও এসেছে, দাসকে খোজা করলে অপরাধীর ক্ষেত্রেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। হাদিসটি আমাদের বুঝায়, কারও সামাজিক অবস্থান দুর্বল হলেই তার প্রাণ, দেহ বা সম্মানকে তুচ্ছ করা যায় না। দাসও মানুষ; তার ওপর জুলুম, হত্যা ও অঙ্গহানি ইসলামী বিচারে গুরুতর অপরাধ। তাই ‘দাসের অধিকার’, ‘কিসাস’ ও ‘অঙ্গহানির বিচার’—এই শিক্ষাগুলো এখানে স্পষ্টভাবে আসে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দাসের প্রাণ ও দেহের নিরাপত্তা ইসলামী বিচারে গুরুত্ব পায়।
- ক্ষমতার জোরে দুর্বল মানুষের ওপর জুলুম করা ভয়াবহ অপরাধ।
- হত্যা ও অঙ্গহানির ক্ষেত্রে ন্যায়ভিত্তিক বিচারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
- অপরাধীর পরিচয় নয়, অপরাধের ধরন বিচারযোগ্য বিষয়।
