১০/৩. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৩৯ - বারবার চুরির ঘটনায় দণ্ডের বর্ণনা
চুরির দণ্ড - বারংবার চুরি করলে চোরের শান্তি
বারবার চুরি: দণ্ডের কঠোর বর্ণনা ও সতর্ক পাঠ
বুলুগুল মারাম : ১২৩৯
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১২৩৯
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: جِيءَ بِسَارِقٍ إِلَى النَّبِيِّ - ﷺ - فَقَالَ: «اقْتُلُوهُ». فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ! إِنَّمَا سَرَقَ. قَالَ: «اقْطَعُوهُ» فَقَطَعَ, ثُمَّ جِيءَ بِهِ الثَّانِيَةِ, فَقَالَ «اقْتُلُوهُ» فَذَكَرَ مِثْلَهُ, ثُمَّ جِيءَ بِهِ الرَّابِعَةِ كَذَلِكَ, ثُمَّ جِيءَ بِهِ الْخَامِسَةِ فَقَالَ: «اُقْتُلُوهُ». أَخْرَجَهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنِّسَائِيُّ, وَاسْتَنْكَرَهُ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন এক চোরকে নবী (ﷺ) এর কাছে আনা হলে তিনি তাকে হত্যা করতে বলেন। সাহাবীগণ বলেনঃ এ তো চুরি করেছে মাত্র। তিনি বলেনঃ তার হাত কেটে দাও ফলে তার হাত কাটা হল। তারপর দ্বিতীয় বার তাকে আনা হলে তিনি এবারেও বললেনঃ তাকে হত্যা করো। কিন্তু পূর্বের মতই ঘটল (হত্যা করা হল না) তারপর তৃতীয়বার তাকে আনা হলে ঐরূপ ঘটলো। তারপর চতুর্থবার তাকে আনা হলো এবং ঐরূপ ঘটল। তারপর তাকে পঞ্চমদফা আনা হলে তিনি তাকে হত্যা করার আদেশ দিলেন। [১৩৪৫]
[১৩৪৫] নাসায়ী ৪৯৭৮, আবু দাউদ ৪৪১০। শাইখ আলবানী তাঁর সহীহ আবু দাউদ (৪৪১০) গ্রন্থে হাসান বলেছেন। ইমাম সআ’আনী তাঁর সুবুল সালাম গ্রন্থে বলেছেন, এর শাহেদ আছে। কিন্তু শাইখ বিন বায তাঁর বুলুগুল মারামের হাশিয় (৬৮৬) গ্রন্থে একে অত্যন্ত দুর্বল বলেছেন, উসাইমীনও তার বুলুগুল মারামের শরাহ (৫/৪০৭) গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি মুনকার, সহীহ নয়। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আত-তালখীসুল হাবীর (৪/১৩৮৭) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে মাসআব বিন সা’দ রয়েছে, তার সম্পর্কে ইমাম নাসায়ী বলেন, তিনি শক্তিশালী বর্ণনাকারী নন। আর এ হাদীসটি মুনকার, এ সম্পর্কে আমার কোন সহীহ হাদীস জানা নেই। ইবনু মুলকীনও তার আল বাদরুল মুনীর (৮/৬৭২) গ্রন্থে বলেন, এ সনদের বর্ণনাকারী মাসআব বিন সা’দকে দুর্বল বলা হয়েছে।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১২৩৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, এক চোরকে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে আনা হলে তিনি প্রথমে তাকে হত্যা করতে বলেন। সাহাবীগণ বলেন, সে তো চুরি করেছে মাত্র। তখন তিনি হাত কাটার আদেশ দেন। এরপর দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ এবং পঞ্চমবার আনার কথাও বর্ণনায় এসেছে। পঞ্চমবার তিনি হত্যা করার আদেশ দেন। তবে টেক্সটের শেষে উল্লেখ আছে, নাসাঈ এই বর্ণনাকে আপত্তিকর বলেছেন। তাই এই হাদিস ব্যাখ্যায় খুব সতর্ক থাকা দরকার। সরাসরি শিক্ষা হলো, বারবার চুরি করা গুরুতর বিষয় হিসেবে এসেছে; কিন্তু বর্ণনার অবস্থার মন্তব্যের কারণে এটিকে সরলভাবে চূড়ান্ত বিধান হিসেবে বলা ঠিক হবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বারবার অপরাধ করা গুরুতর বিষয় হিসেবে বর্ণনায় এসেছে।
- হাদিসের শেষে সমালোচনামূলক মন্তব্য থাকলে ব্যাখ্যায় সতর্কতা জরুরি।
- দণ্ডবিধির বর্ণনা বুঝতে সনদ ও আলিমদের মন্তব্য বিবেচনা করা দরকার।
