১২/২. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৫০ - কুরবানীর পশুর চার দোষ
কুরবানীর বিধান - যে সমস্ত জন্তু কুরবানী করা জায়েয নয়
কুরবানীর পশুর দোষ: কোন চার ধরনের পশু বৈধ নয়
বুলুগুল মারাম : ১৩৫০
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৩৫০
وَعَنِ الْبَرَاءِ بنِ عَازِبٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَامَ فِينَا رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - فَقَالَ: «أَرْبَعٌ لَا تَجُوزُ فِي الضَّحَايَا: الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا, وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا, وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلْعُهَا وَالْكَسِيرَةُ الَّتِي لَا تُنْقِي».رَوَاهُ الْخَمْسَةُ. وَصَحَّحَهُ التِّرْمِذِيُّ, وَابْنُ حِبَّانَ
বারা ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের মধ্যে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করলেন, চার প্রকার জন্তুর কুরবানী করা বৈধ হবে নাঃ কানা, যার কানা হওয়া পরিষ্কার (নিশ্চিত) রয়েছে; রুগ্ন যার রুগ্নতা প্রকট; খোঁড়া যার খঞ্জত্ব সন্দেহাতীত ও মেদ শূন্য, বয়ঃবৃদ্ধ। [১৪৫৮]
[১৪৫৮] আবূ দাউদ ২৮০২, তিরমিযী ১৪৯৭, নাসায়ী ৪৩৬৯, ৪৩৭০, ইবনু মাজাহ ৩১৪৪, আহমাদ ১৮০৩৯, ১৮০৭১, মালেক ১০৪১, দারেমী ১৯৪৯, ১৯৫০।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম চার প্রকার জন্তুর কুরবানী বৈধ হবে না বলে ঘোষণা করেছেন। প্রথমত, এমন কানা পশু যার কানা হওয়া পরিষ্কার। দ্বিতীয়ত, এমন রুগ্ন পশু যার রোগ স্পষ্ট। তৃতীয়ত, এমন খোঁড়া পশু যার খোঁড়া হওয়া সন্দেহাতীত। চতুর্থত, এমন দুর্বল ও মেদহীন পশু, যার শরীরে শক্তি ও পুষ্টির ঘাটতি পরিষ্কার। কুরবানীর পশুর দোষ, কানা পশু কুরবানী, অসুস্থ পশু কুরবানী—এসব বিষয়ে এই হাদিস খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে শেখানো হয়েছে, কুরবানীর পশু বাছাইয়ে অবহেলা নয়; বরং স্পষ্ট দোষ থেকে দূরে থাকা দরকার। ইবাদতের কাজে যত্ন ও ভালো জিনিস বেছে নেওয়ার ভাব এখানে বোঝা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- স্পষ্ট কানা পশু কুরবানীর জন্য গ্রহণযোগ্য নয়।
- প্রকট রুগ্ন বা স্পষ্ট খোঁড়া পশু বেছে নেওয়া উচিত নয়।
- কুরবানীর পশু বাছাইয়ে চোখে পড়ার মতো দোষ খেয়াল করতে হবে।
