১৪/০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৮৭ - রাগের সময় বিচার না করা
রাগান্বিত অবস্থায় বিচারকার্য করা নিষেধ
রাগের সময় বিচার নয়: ন্যায় ফায়সালার গুরুত্বপূর্ণ আদব
বুলুগুল মারাম : ১৩৮৭
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৩৮৭
وَعَنْ أَبِي بَكْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - يَقُولُ: «لَا يَحْكُمُ أَحَدٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ, وَهُوَ غَضْبَانُ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
আবূ বাকরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি নবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কোন বিচারক রাগের অবস্থায় দু’জনের মধ্যে বিচার করবে না। [১৪৯৫]
[১৪৯৫] ‘আবদুর রাহমান ইবনু আবূ বাকরাহ (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে (আরবি) আবূ বাকরাহ (রাঃ) তাঁর ছেলেকে লিখে পাঠালেন- যে তুমি রাগের অবস্থায় বিবাদমান দু’লোকের মাঝে ফায়সালা করো না; সে সময় তিনি সিজিস্তানের বিচারক ছিলেন। কেননা, আমি নাবী (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে- এ বলে উক্ত হাদীসটি বর্ণনা করেন।বুখারী ৭১৫৮, মুসলিম ১৭১৭, তিরমিযী ১৩৩৪, নাসায়ী ৫৪০৬, আবূ দাউদ ৩৫৮৯, ইবনু মাজাহ ২৩১৬, আহমাদ ১৯৮৬৬, ১৯৯৫৪।
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৩৮৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো রাগের অবস্থায় বিচার না করা। নবী (সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, কোনো বিচারক রাগের অবস্থায় দুজনের মধ্যে বিচার করবে না। কারণ রাগ মানুষের চিন্তা, ধৈর্য ও শুনে বোঝার ক্ষমতাকে দুর্বল করতে পারে। বিচার মানে শুধু রায় দেওয়া নয়; দুই পক্ষের কথা শোনা, সত্য বোঝা এবং ন্যায়ভাবে ফায়সালা করা। রাগ থাকলে পক্ষপাত, তাড়াহুড়া বা কঠোরতা আসতে পারে। তাই এই হাদিস শুধু বিচারকের জন্য নয়; পরিবার, সমাজ, অফিস বা যেকোনো বিবাদ মেটানোর ক্ষেত্রেও কাজে লাগে। সিদ্ধান্তের আগে মন শান্ত রাখা ন্যায় বিচার হাদিসের বড় শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগের সময় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত না নেওয়া ভালো।
- বিচারকের মন শান্ত থাকা ন্যায় ফায়সালার জন্য জরুরি।
- রাগ সত্য বুঝতে বাধা তৈরি করতে পারে।
- দুই পক্ষের অধিকার রক্ষায় ধৈর্য দরকার।
