৩১/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৩৮২ - রাগ অবস্থায় বিচার না করার শিক্ষা
রাগাম্বিত অবস্থায় বিচারকের বিচার করা নিন্দনীয়
রাগের অবস্থায় বিচার না করার হাদিস
সহীহ মুসলিম : ৪৩৮২
সহীহ মুসলিমহাদিস নম্বর ৪৩৮২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ أَبِي بَكْرَةَ . قَالَ كَتَبَ أَبِي - وَكَتَبْتُ لَهُ - إِلَى عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرَةَ وَهُوَ قَاضٍ بِسِجِسْتَانَ أَنْ لاَ، تَحْكُمَ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَأَنْتَ غَضْبَانُ فَإِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَقُولُ «لاَ يَحْكُمْ أَحَدٌ بَيْنَ اثْنَيْنِ وَهُوَ غَضْبَانُ».
'আবদুর রহমান ইবনু আবূ বাকরাহ্ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেছেন, আমার পিতা আমাকে একটি পত্র লেখালেন। তখন আমি সিজিস্তানের বিচারক ‘উবায়দুল্লাহ ইবনু আবূ বাক্রাহ্ (রহঃ)-কে লিখলাম যে, আপনি রাগান্বিত অবস্থায় দু’জনের মধ্যে বিচার ফায়সালা দেবেন না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে বলতে শুনেছি যে, কোন বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দু’জনের মধ্যে বিচার না করেন।
ই. ফা. ৪৩৪১, ই. সে. ৪৩৪১
সহীহ মুসলিম হাদিস ৪৩৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বিচারকের মানসিক অবস্থার গুরুত্ব এসেছে। আবদুর রহমান ইবনু আবী বাকরা বলেন, তাঁর পিতা তাঁকে দিয়ে সিজিস্তানের বিচারক উবায়দুল্লাহ ইবনু আবী বাকরা রহ.-কে চিঠি লেখালেন। চিঠিতে বলা হলো, আপনি রাগান্বিত অবস্থায় দুইজনের মধ্যে বিচার করবেন না। কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে বলতে শুনেছেন, কোনো বিচারক যেন রাগান্বিত অবস্থায় দুইজনের মধ্যে বিচার না করেন। এই হাদিস ন্যায়বিচার, রাগ নিয়ন্ত্রণ এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় স্থিরতার শিক্ষা দেয়। রাগ মানুষের বিচারবোধকে প্রভাবিত করতে পারে—হাদিসে সরাসরি এভাবে ব্যাখ্যা করা না হলেও নির্দেশটি তা বুঝতে সাহায্য করে। তাই বিচার, পারিবারিক সিদ্ধান্ত কিংবা মানুষের বিষয়ে মত দেওয়ার সময় রাগ কমিয়ে স্থির হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাগান্বিত অবস্থায় বিচার বা ফয়সালা দেওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত।
- বিচারের সময় মন স্থির থাকা ন্যায়বিচারের জন্য জরুরি।
- গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশকে সামনে রাখা দরকার।
