১৫/০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪২২ - অংশীদার গোলাম আযাদ করার বিধান
শরীকানা দাস-দাসী মুক্তকারীর প্রসঙ্গ
অংশীদার গোলাম আযাদ করার নিয়ম ও ন্যায্য মূল্য
বুলুগুল মারাম : ১৪২২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৪২২
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «مَنْ أَعْتَقَ شِرْكًا لَهُ فِي عَبْدٍ, فَكَانَ لَهُ مَالٌ يَبْلُغُ ثَمَنَ الْعَبْدِ, قُوِّمَ قِيمَةَ عَدْلٍ, فَأَعْطَى شُرَكَاءَهُ حِصَصَهُمْ, وَعَتَقَ عَلَيْهِ الْعَبْدُ, وَإِلَّا فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, কেউ যদি কোন ক্রীতদাস হতে নিজের অংশ মুক্ত করে আর ক্রীতদাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ তার কাছে থাকে, তবে তার উপর দায়িত্ব হবে ক্রীতদাসের ন্যায্য মূল্য নির্ণয় করা। তারপর সে শরীকদেরকে তাদের প্রাপ্য অংশ পরিশোধ করবে এবং ক্রীতদাসটি তার পক্ষ হতে মুক্ত হয়ে যাবে, কিন্তু (সে পরিমাণ অর্থ) না থাকলে তার পক্ষ হতে ততটুকুই মুক্ত হবে যতটুকু সে মুক্ত করেছে। [১৫৩০]
[১৫৩০] (আরবি) এ শব্দের অর্থ (আরবি) অর্থাৎ অংশ, ভাগ।বুখারী ২৪৯১, ২৪০৩, ২৫২১, ২৫২৫, ২৫২৪, মুসলিম ১৫০১, তিরমিযী ১৩৪৬, নাসায়ী ৪৬৯৯, আবূ দাউদ ৩৯৪০, ৩৯৪৩। টুকু সে মুক্ত করেছে। [১৫৩০]
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৪২২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে অংশীদারিত্বে থাকা ক্রীতদাস মুক্ত করার নিয়ম বলা হয়েছে। কেউ যদি কোনো দাসের নিজের অংশ মুক্ত করে এবং তার কাছে পুরো দাসের মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে, তাহলে শুধু নিজের অংশ ছাড়লেই শেষ নয়। তার দায়িত্ব হবে দাসের ন্যায্য মূল্য নির্ণয় করা, তারপর অন্য শরীকদের তাদের প্রাপ্য অংশ দিয়ে দেওয়া। এতে দাসটি তার পক্ষ থেকে পুরোপুরি মুক্ত হয়ে যাবে। কিন্তু যদি তার কাছে সেই পরিমাণ অর্থ না থাকে, তাহলে যতটুকু অংশ সে মুক্ত করেছে, ততটুকুই মুক্ত হবে। এখানে দাসমুক্তির বিধানের সঙ্গে ন্যায়বিচার, শরীকদের অধিকার এবং সামর্থ্যের বিষয় একসাথে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অংশীদারিত্বের সম্পদে অন্যদের অধিকার রক্ষা করতে হয়।
- দাসমুক্তির কাজে ন্যায্য মূল্য নির্ধারণের কথা এসেছে।
- সামর্থ্য থাকলে মুক্তির কাজ পূর্ণ করা দায়িত্বের অংশ।
- সামর্থ্য না থাকলে যে অংশ মুক্ত করা হয়েছে, সেটুকুই কার্যকর হবে।
