৪৭/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৯১ - শরীকী গোলাম আযাদের বিধান
শরীকদের মাঝে এজমালি দ্রব্যে উচিত দাম নির্ধারণ সম্পর্কে।
শরীকী গোলাম আযাদ: ন্যায্য মূল্য ও দায়িত্বের শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ২৪৯১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪৯১
حَدَّثَنَا عِمْرَانُ بْنُ مَيْسَرَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " مَنْ أَعْتَقَ شِقْصًا لَهُ مِنْ عَبْدٍ ـ أَوْ شِرْكًا أَوْ قَالَ نَصِيبًا ـ وَكَانَ لَهُ مَا يَبْلُغُ ثَمَنَهُ بِقِيمَةِ الْعَدْلِ، فَهْوَ عَتِيقٌ، وَإِلاَّ فَقَدْ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ ". قَالَ لاَ أَدْرِي قَوْلُهُ عَتَقَ مِنْهُ مَا عَتَقَ. قَوْلٌ مِنْ نَافِعٍ أَوْ فِي الْحَدِيثِ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন, (শরীকী) গোলাম হতে কেউ নিজের অংশ আযাদ করে দিলে এবং তার কাছে গোলামের ন্যায্য মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকলে সে গোলাম (সম্পূর্ণ) আযাদ হয়ে যাবে (তবে আযাদকারী ন্যায্য মূল্যে শরীকদের ক্ষতিপূরণ দিবে) আর সে পরিমাণ অর্থ না থাকলে যতটুকু সে মুক্ত করবে ততটুকুই মুক্ত হবে।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৯১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শরীকী গোলাম আযাদের একটি বিধান এসেছে। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেউ যদি শরীকী গোলামের নিজের অংশ আযাদ করে এবং তার কাছে গোলামের ন্যায্য মূল্য পরিমাণ অর্থ থাকে, তাহলে সে গোলাম সম্পূর্ণ আযাদ হবে। তবে আযাদকারীকে অন্য শরীকদের অংশের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। আর যদি তার কাছে এত অর্থ না থাকে, তাহলে যতটুকু সে মুক্ত করেছে ততটুকুই মুক্ত হবে। হাদিসটি আযাদ করার উৎসাহের সঙ্গে অন্য শরীকদের অধিকারও রক্ষা করে। এখানে আবেগ দিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া নয়; ন্যায্য মূল্য, অংশীদারের অধিকার এবং মুক্তির বাস্তব দিক একসঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে। তাই এই হাদিস শরীকী সম্পদে দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তের শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীকী গোলামের অংশ আযাদ করলে অন্য শরীকদের অধিকার বিবেচনা করতে হয়।
- ন্যায্য মূল্য পরিশোধের সামর্থ্য থাকলে পূর্ণ আযাদের বিধান এসেছে।
- সামর্থ্য না থাকলে যতটুকু আযাদ করা হয়েছে, ততটুকুই কার্যকর হবে।
- ভালো কাজের মধ্যেও মানুষের আর্থিক অধিকার নষ্ট করা যাবে না।
