৪৭/৫. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৯২ - গোলাম আযাদে ন্যায় ও সহজতা
শরীকদের মাঝে এজমালি দ্রব্যে উচিত দাম নির্ধারণ সম্পর্কে।
গোলাম আযাদে ন্যায়: মূল্য নির্ধারণ ও অতিরিক্ত কষ্ট নয়
সহীহ বুখারী : ২৪৯২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৪৯২
حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ مُحَمَّدٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، أَخْبَرَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ النَّضْرِ بْنِ أَنَسٍ، عَنْ بَشِيرِ بْنِ نَهِيكٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " مَنْ أَعْتَقَ شَقِيصًا مِنْ مَمْلُوكِهِ فَعَلَيْهِ خَلاَصُهُ فِي مَالِهِ، فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ مَالٌ قُوِّمَ الْمَمْلُوكُ، قِيمَةَ عَدْلٍ ثُمَّ اسْتُسْعِيَ غَيْرَ مَشْقُوقٍ عَلَيْهِ ".
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, কেউ তার (শরীক) গোলাম হতে অংশ আযাদ করে দিলে তার দায়িত্ব হয়ে পড়ে নিজস্ব অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা। যদি তার প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। তারপর (অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য) তাকে উপার্জনে যেতে হবে, তবে তার উপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৪৯২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে শরীকী গোলাম আযাদের বিধান আরও বিস্তারিতভাবে এসেছে। নবীজি صلى الله عليه وسلم বলেছেন, কেউ তার শরীক গোলামের অংশ আযাদ করলে তার দায়িত্ব হলো নিজের অর্থে সেই গোলামকে পূর্ণ আযাদ করা। কিন্তু যদি তার প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকে, তাহলে গোলামের ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। এরপর অন্য শরীকদের অংশ পরিশোধের জন্য গোলামকে উপার্জনে যেতে হবে, তবে তার ওপর অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না। এখানে দুই দিকের ভারসাম্য আছে। একদিকে মুক্তির পথ রাখা হয়েছে, অন্যদিকে শরীকদের পাওনা নষ্ট করা হয়নি। আবার যাকে উপার্জনে যেতে বলা হচ্ছে, তার ওপর কঠিন চাপ দেওয়ার অনুমতি নেই। এই হাদিস ন্যায়, দায়িত্ব এবং সহজতার শিক্ষা দেয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শরীকী গোলাম আযাদ করলে পূর্ণ মুক্তির দায়িত্ব বিবেচনা করতে হয়।
- ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করে শরীকদের অধিকার রক্ষা করা দরকার।
- উপার্জনের দায়িত্ব দেওয়া হলেও অতিরিক্ত কষ্ট চাপানো যাবে না।
- ইসলামী বিধানে ন্যায় ও সহজতার ভারসাম্য রাখা হয়েছে।
