১৬/৫. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৫২৬ - শক্তিশালী মুমিন ও তাকদীর
উত্তম চরিত্রের প্রতি উৎসাহ প্রদান
শক্তিশালী মুমিন: চেষ্টা, দোয়া ও তাকদীর মানার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ১৫২৬
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৫২৬
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «المُؤْمِنُ الْقَوِيُّ خَيْرٌ وَأَحَبُّ إِلَى اللَّهِ مِنَ الْمُؤْمِنِ الضَّعِيفِ, وَفِي كُلٍّ خَيْرٌ, احْرِصْ عَلَى مَا يَنْفَعُكَ, وَاسْتَعِنْ بِاللَّهِ, وَلَا تَعْجَزْ, وَإِنْ أَصَابَكَ شَيْءٌ فَلَا تَقُلْ: لَوْ أَنِّي فَعَلْتُ كَانَ كَذَا وَكَذَا, وَلَكِنْ قُلْ: قَدَّرَ اللَّهُ وَمَا شَاءَ فَعَلَ; فَإِنَّ لَوْ تَفْتَحُ عَمَلَ الشَّيْطَانِ».أَخْرَجَهُ مُسْلِمٌ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: দুর্বল দেহ, দুর্বল চিত্ত মুমিন অপেক্ষা শক্তিশালী দৃঢ়চিত্ত মুমিন শ্রেষ্ঠ এবং আল্লাহর কাছে অধিকতর প্রিয়। তবে প্রত্যেকের মধ্যেই (ঈমানগত) কল্যাণ রয়েছে। যা তোমার পক্ষে উপকারী তা অর্জনে আগ্রহী হও এবং আল্লাহর নিকটে সাহায্য প্রার্থনা কর এবং দুর্বলতা অনুভব করো না। আর যদি তোমার উপর কোন মুসীবত এসে যায় তবে তুমি এরূপ কথা বলবে না যে, ‘আমি এরূপ করলে আমার এরূপ হতো বরং তুমি বলবে, আল্লাহর পক্ষ থেকেই এটাই নির্ধারণ করা ছিল, আল্লাহ্ যা চেয়েছেন তা করেছেন। কেননা, ‘যদি’ শব্দ শয়তানের কাজের পথ খুলে দেয়।’ (অর্থাৎ আল্লাহর ফায়সালাকে সর্বান্তঃকরণে মেনে নিতে না পারলে ঈমানগত যে দুর্বলতা আসে তার সুযোগ নিয়ে শয়তান তার প্রভাবকে কার্যকরী করতে সক্ষম হয়।) [১৬৩৫]
[১৬৩৫] মুসলিম ২৬৬৪, ইবনু মাজাহ ৭৯, ৪১৬৮, ৮৫৭৩, আহমাদ ৮৬১১।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৫২৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মুমিনের জীবনের জন্য কয়েকটি বড় দিকনির্দেশনা আছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, শক্তিশালী ও দৃঢ়চিত্ত মুমিন দুর্বল মুমিনের চেয়ে উত্তম এবং আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়; তবে উভয়ের মধ্যেই কল্যাণ আছে। এরপর তিনি বলেছেন, যা উপকারী তা অর্জনে আগ্রহী হও, আল্লাহর সাহায্য চাও এবং দুর্বলতা দেখিও না। আবার কোনো বিপদ এলে ‘যদি এমন করতাম’ বলে আফসোসে ডুবে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বরং বলতে বলা হয়েছে, আল্লাহ যা নির্ধারণ করেছেন তাই হয়েছে। হাদিসটি চেষ্টা ও তাকদীর—দুটোকে একসাথে শেখায়। মুমিন অলস হবে না, আবার ফলাফলে হতাশ হয়ে আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মনেও বলবে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উপকারী কাজে চেষ্টা করা মুমিনের গুণ।
- চেষ্টার সঙ্গে আল্লাহর সাহায্য চাওয়া দরকার।
- বিপদে অতিরিক্ত ‘যদি’ বলা শয়তানের দরজা খুলে দিতে পারে।
- তাকদীর মেনে নেওয়া হতাশা কমাতে সাহায্য করে।
