২/২. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৮২ - আযানের সময় কানে আঙুল ও মুখ ফেরানো
আযান (সালাতের জন্য আহ্বান) - আযান অবস্থায় মুয়াজ্জিনের বৈশিষ্ট্যসমূহের বর্ণনা
আযানের আদব: কানে আঙুল দেওয়া ও ডানে-বামে মুখ ফেরানো
বুলুগুল মারাম : ১৮২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ১৮২
وَعَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: رَأَيْتُ بِلَالًا يُؤَذِّنُ وَأَتَتَبَّعُ فَاهُ, هَاهُنَا وَهَاهُنَا, وَإِصْبَعَاهُ فِي أُذُنَيْهِ. رَوَاهُ أَحْمَدُ, وَالتِّرْمِذِيُّ وَصَحَّحَهُوَلِابْنِ مَاجَهْ: وَجَعَلَ إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِوَلِأَبِي دَاوُدَ: لَوَى عُنُقَهُ, لَمَّا بَلَغَ «حَيَّ عَلَى الصَّلَاةِ» يَمِينًا وَشِمَالًا وَلَمْ يَسْتَدِرْوَأَصْلِهِ فِي الصَّحِيحَيْنِ
আবূ জুহাইফাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি বিলাল (রাঃ) কে তাঁর দু’কানে আঙ্গুল দিয়ে আযান দিতে এবং আযানে এধার ওধার অর্থাৎ ডানে-বামে মুখ ফেরাতে দেখেছি। [২১২] ইবনু মাজাহতে আছে- ‘এবং তিনি তাঁর আঙ্গুলদ্বয় তাঁর দু’কানে ঢুকিয়েছিলেন। [২১৩] আবূ দাউদে আছে- তিনি ‘হাইয়া আলাস সালাহ্’ বলার সময়ে তাঁর গলাকে ডানে ও বামে ঘুরাতেন, তবে তিনি সম্পূর্ণরূপে ঘুরে যেতেন না। [২১৪] এর মূল বক্তব্য বুখারী, মুসলিমে রয়েছে। [২১৫]
[২১২] আহমাদ ৪/৩০৯-৩০৮; তিরমিযী ১৯৭। তিরমিযী হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন।[২১৩] ইবনু মাজাহ (৭১১) এ হাদীসটিও সহীহ যদিও এ হাদীসের সনদে দুর্বলতা আছে।[২১৪] আবূ দাউদ ৫২০ হাদীসটি মুনকার।[২১৫] মুহাক্কিক সুমাইর আয-যুহাইরি বুলগুল মারামের ব্যাখ্যা গ্রন্থে বলেন, হাদীসটি বুখারীতে ৬৩৪ নং এবং মুসলিমে ৫০৩ নং এ ইবনু আবী জুহাইফাহ থেকে তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন, তিনি বিলাল (রাঃ) কে আযান দিতে দেখেছেন। রাবী বলেন, আমি তাঁর মুখমণ্ডলকে এদিক ওদিক ঘুরাতে প্রত্যক্ষ করেছি।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ১৮২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবূ জুহাইফা (রাঃ) বিলাল (রাঃ)-এর আযান দেওয়ার ধরন দেখেছেন। তিনি বলেন, বিলাল (রাঃ) আযান দিচ্ছিলেন, তাঁর আঙুল দু’টি কানে ছিল, আর তাঁর মুখ এদিকে-সেদিকে ফিরছিল। আবূ দাউদের বর্ণনায় এসেছে, “হাইয়া আলাস সালাহ” বলার সময় তিনি গলা ডানে ও বামে ঘুরাতেন, তবে পুরো শরীর ঘুরিয়ে নিতেন না। তাই আযানের আদব সম্পর্কে এই হাদিসটি খুব সরলভাবে একটি দৃশ্য তুলে ধরে। এখানে মূল শিক্ষা হলো—আযান শুধু শব্দ উচ্চারণ নয়; মুয়াযযিনের ভঙ্গি ও সতর্কতাও এতে যুক্ত। তবে ব্যাখ্যায় বাড়তি দাবি না করে হাদিসে যতটুকু এসেছে, ততটুকুই বোঝা উচিত। আজকের মুয়াযযিনদের জন্যও এতে একটি সহজ দিকনির্দেশনা আছে—আওয়াজ পৌঁছানো, শব্দ পরিষ্কার রাখা এবং সীমা না ছাড়ানো।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আযানের সময় মুয়াযযিনের ভঙ্গি শালীন ও মনোযোগী হওয়া উচিত।
- কানে আঙুল দেওয়া ও মুখ ফেরানো বিলাল (রাঃ)-এর দেখা আমলের মধ্যে আছে।
- “হাইয়া আলাস সালাহ” বলার সময় ডানে-বামে মুখ ফেরানোর কথা বর্ণনায় এসেছে।
