২/৭. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৩১১ - সিজদায় হাঁটু আগে রাখার বর্ণনা
সালাত সম্পাদনের পদ্ধতি - সাজদায় গমনের পদ্ধতি
সিজদায় হাঁটু আগে রাখার বর্ণনা ও বর্ণনার তুলনা
বুলুগুল মারাম : ৩১১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৩১১
رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - إِذَا سَجَدَ وَضَعَ رُكْبَتَيْهِ قَبْلَ يَدَيْهِ. أَخْرَجَهُ الْأَرْبَعَةُفَإِنْ لِلْأَوَّلِ شَاهِدًا مِنْ حَدِيثِ
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
উক্ত হাদীসে আছেঃ আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -কে সিজদাহর সময় তাঁর দু’হাতের পূর্বে দু' হাঁটু মাটিতে রাখতে দেখেছি। প্রথম হাদীসটি অধিক শক্তিশালী কারণ, ইবনু উমর (রাঃ) হাদীসে উক্ত হাদীসের শাহিদ (অনুরূপ) [৩৪৮]
৩৪৮. ইবনু মাজহ ৮৮২, তিরমিযী ২৬৮, নাসায়ী ১০৮৯, ১১৫৪, আবু দাউদ ৮৩৮, দারেমী ১৩২০ আলবানী ৮৩৮, নাসায়ী ১০৮৯, তিরমিযী ১৬৮, ইরওয়াউল গালীল ৩৫৭ গ্রন্থসমূহে হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। আত-তালখীসুল হাবীর (৪১৩) গ্রন্থে ইবনু হাজার বলেন, হাদীসটি শরীফ এক ভাবে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীসের শাহিদ রয়েছে। আওনুল মাদ (৩/৪২) গ্রন্থে আযীমা বাদী বলেন, এই হাদীসের সনদে ইবনু আদিল্লাহ আন নাখয়ী রয়েছে আর তার ব্যাপারে সমালোচনা করা হয়েছে। কোন কোন বর্ণনায় "তিনি যখন দাড়াতেন তখন হাঁটুর উপর দাঁড়াতেন, এবং ভর করতেন রানের উপর" এই অতিরিক্ত বর্ণনাটি যয়ীফ। ইবনু বাযের মাজমুয়া ফাত্তয়া (৬১/১১,৩৩/১১) গ্রন্থে হাত রাখার পূর্বে হাটু রাখা প্রমাণিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি তার অপর গ্রন্থে ফাতওয়ানুর আলাদ দার (৮/২৮৬) গ্রন্থে হাদীসটিকে হাসান বলে উল্লেখ করেছেন। ইরওয়াউল গালীল (২/৭৭) গ্রন্থে আলবানী হাদীসটিকে মুনকার বলেছেন। তুহফাতুল আহওয়াযী (২/১৩) গ্রন্থে আব্দুর রহমান মোবারকপুরী হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন এবং ইবনু রজব হাদীসটিকে মুরসাল ও মুনকাতি বলেছেন। তবে, হাটুর পূর্বে হাত রাখার হাদীসকে মুহাদ্দীসগন সহীহ বা হাসান বলে অভিহিত করেছেন। জামেউস স্বাগীর লিস সুয়ূতী (৬৭৩) আওনুল মা'বূদ ৩/৪৩, আল মাহাল্লী ৪/১২৯
বুলুগুল মারাম হাদিস ৩১১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, বর্ণনাকারী রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সিজদার সময় দু’হাতের আগে দু’হাঁটু মাটিতে রাখতে দেখেছেন। তবে একই পাঠে আরও বলা হয়েছে, প্রথম হাদিসটি অধিক শক্তিশালী; কারণ ইবনু উমর রাদিয়াল্লাহু আনহুর হাদিসে তার অনুরূপ সাক্ষ্য আছে। তাই এই বর্ণনা বুঝতে গেলে দুইটি দিক একসঙ্গে দেখতে হবে। একদিকে এখানে হাঁটু আগে রাখার বর্ণনা এসেছে। অন্যদিকে পাঠের মন্তব্যে আগের বর্ণনাকে শক্তিশালী বলা হয়েছে। ফলে বিষয়টি শুধু সিজদার পদ্ধতির আলোচনা নয়, হাদিসের পারস্পরিক তুলনার আলোচনাও। সাধারণ পাঠকের জন্য শিক্ষা হলো, সালাতের ভঙ্গি বিষয়ে একাধিক বর্ণনা থাকলে আলেমরা সেগুলোর মান ও সমর্থন বিবেচনা করেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সিজদায় হাঁটু আগে রাখার একটি বর্ণনা এখানে উল্লেখ হয়েছে।
- পাঠে আগের বর্ণনাকে অধিক শক্তিশালী বলা হয়েছে।
- হাদিস বোঝার সময় শুধু অনুবাদ নয়, বর্ণনার মানও বিবেচনা করা দরকার।
