২/১০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪০৮ - ইমামের সালাত সহজ করা
জামা‘আতে সালাত সম্পাদন ও ইমামতি - নফল সালাতে জামা‘আত করা বৈধ
ইমামতির সময় সালাত হালকা রাখা: মূআয (রাঃ)-এর ঘটনার শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৪০৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪০৮
وَعَنْ جَابِرٍ قَالَ: صَلَّى مُعَاذٌ بِأَصْحَابِهِ الْعِشَاءَ, فَطَوَّلَ عَلَيْهِمْ, فَقَالَ النَّبِيُّ - ﷺ - «أَتُرِيدُ أَنْ تَكُونَ يَا مُعَاذُ فَتَّانًا? إِذَا أَمَمْتَ النَّاسَ فَاقْرَأْ: بِـ (الشَّمْسِ وَضُحَاهَا) , وَ (سَبِّحْ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى) , وَ (اِقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ) , (وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى)». مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِمُسْلِمٍ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
সাহাবী মূ’আয্ (রাঃ) তাঁর অধীনস্থ লোকেদের নিয়ে ‘ইশা সালাত আদায় করলেন এবং ঐ সালাত তাদের পক্ষে খুব দীর্ঘ (কষ্টকর) হয়ে গেল। ফলে নবী (ﷺ) (এটা জানতে পেরে) তাঁকে বললেনঃ হে মূ’আয্! তুমি কি ফিতনাহ সৃষ্টি করতে চাও? যখন তুমি লোকেদের ইমামতি করবে তখন অশ্শামসি ওয়াযুহা’হা; সাব্বিহিসমা রব্বিকাল্ আ’লা, ইকরা বিসমি রব্বিকা ও ওয়াললাইলি ইযা ইয়াগশা (সূরাগুলো) পাঠ করবে। শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। [৪৪৯]
[৪৪৯] বুখারী ৭০৫, ৬১০, মুসলিম ৪৬৫, নাসায়ী ৮৩৫, আবূ দাঊদ ৭৯০, ইবনু মাজাহ ৮৩৬, ৯৮৬, ইবনু মাজাহ ১৩৭৭৮, ১৩৮৯৫
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪০৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবী মূআয (রাঃ)-এর একটি ঘটনা এসেছে। তিনি তাঁর লোকদের নিয়ে ইশার সালাত পড়ান, কিন্তু সালাত তাঁদের জন্য খুব দীর্ঘ হয়ে যায়। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিষয়টি জেনে তাঁকে বলেন, তুমি কি ফিতনাহ সৃষ্টি করতে চাও? এরপর তিনি কয়েকটি সূরা পড়ার নির্দেশ দেন—যেমন সূরা আশ-শামস, সূরা আল-আলা, সূরা আলাক এবং সূরা আল-লাইল। হাদিসের শিক্ষা হলো, ইমামতি করার সময় ইমামকে মানুষের অবস্থা বুঝতে হবে। জামাআতে শিশু, বৃদ্ধ, দুর্বল বা কাজের মানুষ থাকতে পারে—যদিও এই হাদিসে সরাসরি তা বলা হয়নি, পরের হাদিসে তা স্পষ্ট এসেছে। এখানে মূল কথা হলো, ইমামের কিরাআত ও সালাত এমন হওয়া উচিত, যাতে লোকদের কষ্ট না হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইমামতি করলে মুসল্লিদের অবস্থা বিবেচনা করতে হয়।
- দীর্ঘ কিরাআত কখনো মানুষের জন্য কষ্টের কারণ হতে পারে।
- নবীজি ভুলকে সংশোধন করেছেন এবং উপযুক্ত সূরার দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
- জামাআতের সালাতে সহজতা রাখা একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
