২/১২. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৬১ - জুমার নামাজের পর নফল আলাদা করার শিক্ষা
জুমু‘আর সালাত - ফরয ও নফল সালাতের মাঝে পার্থক্য করা শরীয়তসম্মত
জুমার নামাজের পর নফল পড়ার আগে বিরতি দেওয়ার নিয়ম
বুলুগুল মারাম : ৪৬১
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪৬১
وَعَنِ السَّائِبِ بْنِ يَزِيدَ, أَنَّ مُعَاوِيَةَ قَالَ لَهُ: إِذَا صَلَّيْتَ الْجُمُعَةَ فَلَا تَصِلْهَا بِصَلَاةٍ, حَتَّى تَكَلَّمَ أَوْ تَخْرُجَ, فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - أَمَرَنَا بِذَلِكَ: أَنْ لَا نُوصِلَ صَلَاةً بِصَلَاةٍ حَتَّى نَتَكَلَّمَ أَوْ نَخْرُجَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
সায়িব ইবনু ইয়াযীদ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
মু’আবিয়াহ (রাঃ) তাঁকে বলেছেন যখন তুমি জুমু’আহর সালাত আদায় করবে তখন অন্য কোন (নফল) সালাতকে তার সঙ্গে মিলাবে না; যতক্ষণ না কথা বল বা বের হও। একথা নিশ্চিত যে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাদের এক সালাতকে অন্য সালাতের সঙ্গে সংযোগ না করতে নির্দেশ দিয়েছেন। যতক্ষণ না আমরা কথা বলি বা (সালাতের) স্থান ত্যাগ করে। [৪৯৯]
[৪৯৯] মুসলিম ৮৮০, আবূ দাঊদ ১১২৯, আহমাদ ২৬৪২৪, ১৬৪৬৮
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৬১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, জুমু’আর সালাত শেষ করেই একই জায়গায় সরাসরি আরেকটি নফল সালাত জুড়ে দেওয়া ঠিক নয়। মু’আবিয়াহ (রাঃ) সায়িব বিন ইয়াযিদ (রাঃ)-কে বলেন, জুমার সালাত আদায় করলে তার সঙ্গে আরেক সালাত মিলিয়ে দেবে না, যতক্ষণ না কথা বলবে বা বের হবে। এখানে জুমার নামাজের পর সুন্নত বা নফল পড়ার আগে সামান্য আলাদা করার কথা এসেছে। আলাদা করা কথার মাধ্যমে হতে পারে, আবার সালাতের স্থান ছেড়ে বের হওয়ার মাধ্যমেও হতে পারে। এতে ফরজ সালাত ও নফল সালাতের মধ্যে পরিষ্কার পার্থক্য থাকে। হাদিসটি খুব বাস্তব শিক্ষা দেয়: ইবাদতে ধারাবাহিকতা ভালো, কিন্তু নবীজি যে সীমা ও পদ্ধতি শিখিয়েছেন, তা মানা আরও জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার ফরজের পর নফল শুরু করার আগে কথা বলা বা স্থান বদল করা উচিত।
- ফরজ ও নফল সালাতকে একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলা থেকে সাবধান থাকা দরকার।
- সাহাবিরা ইবাদতের ছোট বিষয়েও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নির্দেশকে গুরুত্ব দিতেন।
