২/১২. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৬২ - জুমার দিনের ফজিলত ও খুতবায় নীরবতা
জুমু‘আর সালাত - জুমু‘আ দিবসের ফযীলত
জুমার দিনের ফজিলত: গোসল, নফল সালাত ও খুতবায় নীরব থাকা
বুলুগুল মারাম : ৪৬২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪৬২
وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ - رضي الله عنه - قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «مَنِ اغْتَسَلَ, ثُمَّ أَتَى الْجُمُعَةَ, فَصَلَّى مَا قُدِّرَ لَهُ, ثُمَّ أَنْصَتَ, حَتَّى يَفْرُغَ الْإِمَامُ مِنْ خُطْبَتِهِ, ثُمَّ يُصَلِّي مَعَهُ: غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الْجُمُعَةِ الْأُخْرَى, وَفَضْلُ ثَلَاثَةِ أَيَّامٍ». رَوَاهُ مُسْلِمٌ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি গোসল করে অতঃপর জুমার সালাতে হাজির হয় আর তার জন্য যতটা নির্দিষ্ট (বিধিবদ্ধ) থাকে ততটা সুন্নাত সালাত আদায় করে। তারপর খুতবা শেষ না হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকে। তারপর ইমাম সাহেবের সঙ্গে সালাত আদায় করে, তাকে এক জুমা হতে অন্য জুমা পর্যন্ত কৃত গুনাহগুলো ক্ষমা করে দেয়া হয়- এর অতিরিক্ত আরো তিন দিন। [৫০০]
[৫০০] মুসলিম ৮৫৭, তিরমিযী ৪৯৮, আবূ দাঊদ ১০৫০, ইবনু মাজাহ ১০৯০ আহমাদ ৯২০০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৬২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের ফজিলত খুব সুন্দরভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি গোসল করে জুমু’আর সালাতে আসে, এরপর তার জন্য যতটা নির্ধারিত থাকে ততটা সুন্নাত সালাত আদায় করে, তারপর খুতবা শেষ হওয়া পর্যন্ত নীরব থাকে এবং ইমামের সঙ্গে সালাত আদায় করে, তার এক জুমু’আহ থেকে আরেক জুমু’আহ পর্যন্ত গুনাহ ক্ষমা করা হয়, আরও তিন দিনসহ। এখানে মূল বিষয় হলো জুমার আদব। শুধু মসজিদে যাওয়া নয়, আগে গোসল, তারপর নফল সালাত, এরপর মনোযোগ দিয়ে খুতবা শোনা—সব মিলেই জুমার প্রস্তুতি। হাদিসটি আমাদের শেখায়, জুমার দিনকে সাধারণ দিনের মতো না নিয়ে ইবাদতের বিশেষ সুযোগ হিসেবে নেওয়া উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার জন্য গোসল করে প্রস্তুত হওয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ আদব।
- খুতবার সময় নীরব থাকা জুমার ফজিলত লাভের একটি কারণ।
- ইমামের সঙ্গে জামাআতে সালাত আদায় করা এই হাদিসের মূল নির্দেশনার অংশ।
