১/৪. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৮ - ওজুতে কনুই পর্যন্ত পানি পৌঁছানোর গুরুত্ব
উযূর বিবরণ - উযূতে ধারাবাহিকতা রক্ষা আবশ্যক
ওজুতে কনুই ধোয়া: পানি পৌঁছানো ও দুর্বল সানাদের সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ৪৮
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪৮
وَعَنْهُ قَالَ: كَانَ النَّبِيَّ - ﷺ - إِذَا تَوَضَّأَ أَدَارَ الْمَاءَ عَلَى مُرْفَقَيْهِ. أَخْرَجَهُ الدَّارَقُطْنِيُّ بِإِسْنَادِ ضَعِيفٍ
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
‘নবী (ﷺ) ওজু করার সময় তাঁর দু’ কনুই-এর উপর পানি ফিরাতেন।’ –দারাকুতনী দুর্বল সানাদে এটি বর্ণনা করেছেন। [৬২]
[৬২] অত্যন্ত দুর্বল। দারাকুতনী (১/১৫/৮৩) এ হাদীসের সানাদে কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন আকীল মাতরূক। যিয়াউদ্দীন মাকসেদী তাঁর আস সুনান ওয়াল আহকাম (১/৯৫) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আবদুল্লাহ বিন মুহাম্মদ বিন উকাইল রয়েছে। ইমাম আহমাদ তাঁর সম্পর্কে বলেন, তিনি তেমন কেউ নন। আবূ হাতিম আর রাযী বলেন, তিনি মাতরূকুল হাদীস। ইমাম যাহাবী তাঁর তানকীহুত তাহক্বীক (১/৪৭) গ্রন্থে বলেন, আল কাসিম হচ্ছে মাতরূক। ইমাম যঈলয়ীও তাঁর তাখরীজুল কাশশাফ (১/৩৮৩) গ্রন্থে হাদীসটিকে দুর্বল আখ্যায়িত করেছেন। ইবনু হাজার আসকালানী তাঁর আল কাফী আশ শাক (৯০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদ দুর্বল। ইমাম সনআনী তাঁর সুবুলুস সালাম (১/৮০) গ্রন্থে বলেন, এর সনদে আল কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন উকাইল রয়েছে যিনি মাতরূক। ইমাম দারাকুতনীও তাঁর সুনানে (১/২১৫) উক্ত রাবী শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন। ইমাম শওকানী ফাতাহুল কাদীর (২/২৭) গ্রন্থে বলেন, আল কাসিম বিন মুহাম্মাদ বিন আবদুল্লাহ মাতরূক আর তার দাদা দুর্বল বর্ণনাকারী। ইমাম শওকানী তাঁর সাইলুল জাররার (১/৮৩) গ্রন্থে বলেন, উক্ত রাবীর বিতর্কের বিষয়টি অতি প্রসিদ্ধ। ইমাম তাঁর খুলাসা (১/১০৮) এবং আল মাজমূ’ (১/৩৮৫) গ্রন্থেও হাদীসটিকে দুর্বল বলেছেন। তবে শাইখ আলবানী তাঁর সিলসিলা সহীহাহ (২০৬৭) গ্রন্থে বলেন, এর আরও সূত্র থাকায় এটি শক্তিশালী হয়েছে। অনুরূপভাবে তিনি সহীহুল জামে’ (৪৬৯৮) গ্রন্থে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওজু করার সময় তাঁর দুই কনুইয়ের উপর পানি ফিরাতেন। অনুবাদে একই সঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, দারাকুতনী এটি দুর্বল সানাদে বর্ণনা করেছেন। তাই ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে দুই দিক মনে রাখা দরকার। একদিকে ওজুতে হাত ধোয়ার সময় কনুইয়ের অংশে পানি পৌঁছানো জরুরি—এ কথা হাদিসের বক্তব্যের সঙ্গে মিলে। অন্যদিকে, এই নির্দিষ্ট বর্ণনার সানাদ দুর্বল বলা হয়েছে, তাই এটিকে শক্ত প্রমাণের মতো পেশ করা উচিত নয়। “ওজুতে কনুই ধোয়ার নিয়ম” জানতে হলে এই বর্ণনা উপকারী, কিন্তু সনদের মান উল্লেখ করে আলোচনা করাই নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ওজুতে কনুইয়ের অংশে পানি পৌঁছানোর দিকে খেয়াল রাখা দরকার।
- দুর্বল সানাদের বর্ণনা সতর্কভাবে উল্লেখ করতে হয়।
- হাদিসের বক্তব্য ও সনদের মান দুটোই জানা জরুরি।
- ওজুতে তাড়াহুড়া করলে অঙ্গ অসম্পূর্ণ থেকে যেতে পারে।
