২/১৫. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫০৫ - সূর্যগ্রহণের দীর্ঘ সালাতের পদ্ধতি
চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সালাত - চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণের সালাতের পদ্ধতি
সূর্যগ্রহণের সালাতে দীর্ঘ কিয়াম ও রুকুর শিক্ষা
বুলুগুল মারাম : ৫০৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৫০৫
وَعَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا قَالَ: انْخَسَفَتِ الشَّمْسُ عَلَى عَهْدِ النَّبِيِّ - ﷺ - فَصَلَّى, فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا, نَحْوًا مِنْ قِرَاءَةِ سُورَةِ الْبَقَرَةِ, ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا, ثُمَّ رَفَعَ فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ, ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا, وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ, [ثُمَّ سَجَدَ, ثُمَّ قَامَ قِيَامًا طَوِيلًا, وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ, ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا, وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ], ثُمَّ رَفَعَ, فَقَامَ قِيَامًا طَوِيلًا, وَهُوَ دُونَ الْقِيَامِ الْأَوَّلِ, ثُمَّ رَكَعَ رُكُوعًا طَوِيلًا, وَهُوَ دُونَ الرُّكُوعِ الْأَوَّلِ, ثُمَّ سَجَدَ, ثُمَّ انْصَرَفَ وَقَدْ تَجَلَّتِ الشَّمْسُ. فَخَطَبَ النَّاسَ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَاللَّفْظُ لِلْبُخَارِيِّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) -এর সময় সূর্যগ্রহণ হল। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তখন সালাত আদায় করেন এবং তিনি সূরা আল-বাক্বারাহ পাঠ করতে যত সময় লাগে সে পরিমাণ দীর্ঘ কিয়াম করেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকু’ করেন। অতঃপর মাথা তুলে পুনরায় দীর্ঘ কিয়াম করেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু’ করলেন। তবে তা প্রথম রুকু’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা করেন।আবার দাঁড়ালেন এবং দীর্ঘ কিয়াম করলেন। তবে তা প্রথম কিয়ামের চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর আবার দীর্ঘ রুকু’ করেন, তবে তা পূর্বের রুকু’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি মাথা তুললেন এবং দীর্ঘ সময় পর্যন্ত কিয়াম করলেন, তবে তা প্রথম কিয়াম অপেক্ষা অল্পস্থায়ী ছিল। আবার তিনি দীর্ঘ রুকু’ করেন, তবে তা প্রথম রুকু’র চেয়ে অল্পস্থায়ী ছিল। অতঃপর তিনি সিজদা করেন এবং সালাত শেষ করেন। ততক্ষণে সূর্যগ্রহণ মুক্ত হয়ে গেছে। তারপর লোকেদের জন্য একটি ভাষণ দিলেন। [৫৪৪]–শব্দ বিন্যাস বুখারীর। [৫৪৫]
[৫৪৪] (আরবী) উক্তিটি হাদীসের নাস নয়। বরং তা ইমাম হাফিয ইবনু হাজার আসকালানী (রহঃ) এর অভিব্যক্তি। কেননা নাবী (ﷺ) সালাতের পরই খুতবা দিতেন। তারপর তিনি বললেনঃ নিঃসন্দেহে সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনসমূহের মধ্যে দু’টি নিদর্শন। কারো মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ দু’টির গ্রহণ হয় না। কাজেই যখন তোমরা গ্রহণ দেখবে তখনই আল্লাহকে স্মরণ করবে। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা দেখলাম, আপনি নিজের জায়গা হতে কি যেন ধরছেন, আবার দেখলাম, আপনি যেন পিছনে সরে এলেন। তিনি বললেনঃ আমিতো জান্নাত দেখেছিলাম এবং এক গুচ্ছ আঙ্গুরের প্রতি হাত বাড়িয়েছিলাম। আমি তা পেয়ে গেলে দুনিয়া কায়িম থাকা পর্যন্ত অবশ্য তোমরা তা খেতে পারতে। অতঃপর আমাকে জাহান্নাম দেখানো হয়, আমি আজকের মত ভয়াবহ দৃশ্য কখনো দেখিনি। আর আমি দেখলাম, জাহান্নামের অধিকাংশ বাসিন্দা নারী। লোকেরা জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহর রাসূল! কী কারণে? তিনি বললেনঃ তাদের কুফরীর কারণে। জিজ্ঞেস করা হল, তারা কি আল্লাহর সাথে কুফরী করে? তিনি জবাব দিলেন, তারা স্বামীর অবাধ্য থাকে এবং ইহসান অস্বীকার করে। তুমি যদি তাদের কারো প্রতি সারা জীবন সদাচরণ কর, অতঃপর সে তোমার হতে (যদি) সামান্য ত্রুটি পায়, তা হলে বলে ফেলে, তোমার কাছ থেকে কখনো ভাল ব্যবহার পেলাম না।[৫৪৫] বুখারী ২৯, ৪৩১, ৪৪৮, ১০৪৬, ১০৪৭, ১০৫২, মুসলিম ৯০৭, ১৪৯৩, আহমাদ ১৮৬৭
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৫০৫-এর সারসংক্ষেপ
ইবনু আব্বাস রাঃ-এর এই বর্ণনায় সূর্যগ্রহণের সালাতের বিস্তারিত পদ্ধতি এসেছে। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম সূরা আল-বাক্বারাহ পাঠের মতো দীর্ঘ কিয়াম করেছেন। এরপর দীর্ঘ রুকু করেছেন। পরে আবার কিয়াম, আবার রুকু—এভাবে প্রতিটি অংশ আগের চেয়ে কিছুটা ছোট ছিল। তারপর সিজদা করেছেন এবং দ্বিতীয় রাকআতেও অনুরূপ করেছেন। সালাত শেষের সময় সূর্যগ্রহণ দূর হয়ে গিয়েছিল। এরপর তিনি লোকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। এই হাদিস “কুসুফের সালাতের পদ্ধতি”, “গ্রহণের নামাজের রুকু” এবং “সূর্যগ্রহণের খুতবা”—এসব বিষয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সূর্যগ্রহণের সালাতে দীর্ঘ কিয়াম ও দীর্ঘ রুকুর বর্ণনা রয়েছে।
- সালাতের প্রতিটি পরের অংশ আগের তুলনায় কিছুটা কম ছিল বলে বর্ণিত হয়েছে।
- সালাত শেষে নবীজি লোকদের উদ্দেশে বক্তব্য দিয়েছেন।
