৫/০. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৬৭২ - সফরে কষ্ট হলে সাওম ভাঙার শিক্ষা
সফরে রোযা রাখার বিধান
সফরে কষ্ট হলে রোজা ভাঙার নববী দিকনির্দেশ
বুলুগুল মারাম : ৬৭২
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৬৭২
وَعَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا; أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ - ﷺ - خَرَجَ عَامَ الْفَتْحِ إِلَى مَكَّةَ فِي رَمَضَانَ, فَصَامَ حَتَّى بَلَغَ كُرَاعَ الْغَمِيمِ, فَصَامَ النَّاسُ, ثُمَّ دَعَا بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ فَرَفَعَهُ, حَتَّى نَظَرَ النَّاسُ إِلَيْهِ, ثُمَّ شَرِبَ, فَقِيلَ لَهُ بَعْدَ ذَلِكَ: إِنَّ بَعْضَ النَّاسِ قَدْ صَامَ. قَالَ: أُولَئِكَ الْعُصَاةُ, أُولَئِكَ الْعُصَاةُوَفِي لَفْظٍ: فَقِيلَ لَهُ: إِنَّ النَّاسَ قَدْ شَقَّ عَلَيْهِمُ الصِّيَامُ, وَإِنَّمَا يَنْظُرُونَ فِيمَا فَعَلْتَ، فَدَعَا بِقَدَحٍ مِنْ مَاءٍ بَعْدَ الْعَصْرِ، فَشَرِبَ. رَوَاهُ مُسْلِمٌ
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) মাক্কা বিজয়কালে রমযান মাসে (মদীনা থেকে মাক্কাভিমুখে) যাত্রা করেন। তিনি ও তাঁর সঙ্গীগণ সাওম পালন করছিলেন। যখন তিনি 'কুরা'আল গামীম' নামক স্থানে পৌছলেন তখন এক পেয়ালা পানি নিয়ে ডাকলেন ও ঐ পানির পেয়ালা এমন উচু করে ধরলেন যাতে লোকেরা তা দেখতে পেলো। তারপর তিনি তা পান করলেন। অতঃপর তাঁকে বলা হলো এরপরও কিছু লোক রোযা রেখেছে। তিনি : বললেন, ওরা অবাধ্য, ওরা অবাধ্য! ভিন্ন একটি বর্ণনায় এ শব্দ রয়েছে, নবী (ﷺ)-কে বলা হল, লোকেদের উপর (আজ) সাওম পালন কঠিন হয়ে পড়েছে। আপনি কি করেন এরই অপেক্ষায় তাঁরা আছে। তারপর আসরের পরে পানির পেয়াল নিয়ে ডাকলেন ও অতঃপর তিনি পানি পান করলেন। [৭১৮]
[৭১৮] মুসলিম ১১:১৪, তিরমিযী ৭১০, নাসায়ী ২২৬৩।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৬৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে মক্কা বিজয়ের সময় রমযান মাসে সফরের একটি ঘটনা এসেছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং সাহাবীগণ সাওম পালন করছিলেন। কুরা‘আল গামীমে পৌঁছে তিনি পানির পেয়ালা তুলে ধরলেন, যাতে লোকেরা দেখতে পায়, এরপর তিনি পানি পান করলেন। পরে বলা হলো, কিছু লোক এখনও সাওম রেখেছে। তিনি বললেন, তারা অবাধ্য। অন্য বর্ণনায় এসেছে, লোকদের উপর সাওম কঠিন হয়ে পড়েছিল এবং তারা নবীজি কী করেন তা দেখার অপেক্ষায় ছিল। তাই এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো “সফরে রোজা”, “কষ্ট হলে রোজা ভাঙা” এবং “নবীর অনুসরণ”। এখানে কষ্ট ও নির্দেশের বিষয়টি একসঙ্গে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সফরে কষ্ট হলে নবীজির নির্দেশ অনুসরণ করা জরুরি।
- নবীজি কাজের মাধ্যমে সাহাবীদের সামনে বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন।
- কঠিন অবস্থায় অবকাশ গ্রহণ করাও আনুগত্যের অংশ হতে পারে।
