৭/৬. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৬৫ - সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ না দেওয়া
দেউলিয়া ও সম্পত্তির কর্তৃত্ব বিলোপ - সামর্থবান ব্যক্তির ঋণখেলাপি হওয়া হারাম এবং তার বিরুদ্ধে যা করা বৈধ
ঋণ পরিশোধে টালবাহানা: সামর্থ্যবান ধনীর জন্য সতর্কতা
বুলুগুল মারাম : ৮৬৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৮৬৫
وَعَنْ عَمْرِو بْنِ الشَّرِيدِ, عَنْ أَبِيهِ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ: «لَيُّ الْوَاجِدِ يُحِلُّ عِرْضَهُ وَعُقُوبَتَهُ». رَوَاهُ أَبُو دَاوُدَ, وَالنَّسَائِيُّ, وَعَلَّقَهُ الْبُخَارِيُّ, وَصَحَّحَهُ ابْنُ حِبَّانَ
আম্র ইবনু শারীদ (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, সামর্থ্যবান ধনী ব্যক্তির ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করার অপরাধ তার সম্মানহানি ও শাস্তিপ্রাপ্তিকে বৈধ করে দেয়। -বুখারী হাদীসটিকে মু‘আল্লাকরূপে বর্ণনা করেছেন; ইবনু হিব্বান একে সহীহ্ বলেছেন। [৯২৮]
[৯২৮] ইবনু মাজাহ ৩৬২৭, আবূ দাঊদ ৩৬২৮, নাসাঈ ৪৬৯০, ইবনু মাজাহ ২৪২৭, আহমাদ ১৮৯৬২।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৮৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ঋণ পরিশোধের নৈতিক দায়িত্ব খুব স্পষ্টভাবে এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, সামর্থ্যবান ধনী ব্যক্তি ঋণ পরিশোধে টালবাহানা করলে তার সম্মানহানি ও শাস্তিপ্রাপ্তিকে বৈধ করে দেয়। এখানে মূল কথা হলো—যার পরিশোধ করার ক্ষমতা আছে, সে ইচ্ছা করে দেরি করলে তা সাধারণ ভুল নয়; এটি অন্যের হক আটকে রাখা। ঋণ নেওয়া সহজ মনে হতে পারে, কিন্তু তা মানুষের অধিকার। তাই পাওনাদারকে অকারণে অপেক্ষায় রাখা অন্যায়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ঋণ পরিশোধে দায়িত্বশীল হতে হবে, অজুহাত বানানো যাবে না, আর সামর্থ্য থাকলে দ্রুত হক আদায় করা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও ঋণ না দেওয়া গুরুতর অন্যায়।
- পাওনাদারের হক আটকে রাখা থেকে সতর্ক থাকতে হবে।
- ঋণ নেওয়ার পর সময়মতো পরিশোধ করা ঈমানী দায়িত্বের অংশ।
