৭/১৫. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৯০৭ - জমি ইজারা ও অনিশ্চিত ঠিকা
মাসাকাত বা বিনিময়ে তত্ত্বাবধান ও ইজারাহ বা ভাড়া বা ঠিকায় সম্পাদন - নির্দিষ্ট জিনিসের বিনিময়ে জমি কেরায়া ভাড়া করার বৈধতা
জমি ইজারা: অনিশ্চিত ফসল নয়, নির্দিষ্ট মজুরি
বুলুগুল মারাম : ৯০৭
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৯০৭
وَعَنْ حَنْظَلَةَ بْنِ قَيْسٍ قَالَ: سَأَلْتُ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ - رضي الله عنه - عَنْ كِرَاءِ الْأَرْضِ بِالذَّهَبِ وَالْفِضَّةِ? فَقَالَ: لَا بَأْسَ بِهِ, إِنَّمَا كَانَ النَّاسُ يُؤَاجِرُونَ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ - ﷺ - عَلَى الْمَاذِيَانَاتِ, وَأَقْبَالِ الْجَدَاوِلِ, وَأَشْيَاءَ مِنَ الزَّرْعِ, فَيَهْلِكُ هَذَا وَيَسْلَمُ هَذَا, وَيَسْلَمُ هَذَا وَيَهْلِكُ هَذَا, وَلَمْ يَكُنْ لِلنَّاسِ كِرَاءٌ إِلَّا هَذَا, فَلِذَلِكَ زَجَرَ عَنْهُ, فَأَمَّا شَيْءٌ مَعْلُومٌ مَضْمُونٌ فَلَا بَأْسَ بِهِ. رَوَاهُ مُسْلِمٌوَفِيهِ بَيَانٌ لِمَا أُجْمِلَ فِي الْمُتَّفَقَ عَلَيْهِ مِنْ إِطْلَاقِ النَّهْيِ عَنْ كِرَاءِ الْأَرْضِ
হানযালাহ বিন কাইস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি রাফি’ বিন খাদিজা(রাঃ) কে সোনা ও রৌপ্যের বিনিময়ে জমি ইজারায় (লাগানোর) বৈধতা সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করলে তিনি (সাহাবি রাফি’) বললেন, এতে কোন দোষ নেই। লোকেরা নবী (ﷺ)-এর যুগে পানি প্রবাহের স্থলে, নহর ও নালার পাড়ের আর কোন ক্ষেতের অংশ বিশেষের বিনিময়ে ঠিকার লেনদেন করত। এসবের কোনটি নষ্ট হয়ে যেত আর কোনটি ঠিক থাকত এবং কোনটি ঠিক থাকত আর কোনটি নষ্ট হয়ে যেত, আর তখন এসব ঠিকা ব্যতীত অন্য কোনরূপ ঠিকা ছিল না। এই (অনিশ্চিত অবস্থার) ঠিকা সম্বন্ধেই নবী (ﷺ) তাকে ধমক দিয়েছেন। কিন্তু এমন জ্ঞাত বস্তু যা নিশ্চিত ফলপ্রসূ ও জিম্মাদারির যোগ্য তাতে ঠিকা দেয়ার ব্যবস্থায় কোন দোষ নেই।অত্র কিতাবের সংকলক আসকালানী (রহঃ) বলেছেন- এ হাদিসটি বুখারী ও মুসলিমে বর্ণিত সাধারণভাবে জমি ঠিকা দেয়ার নিষেধাজ্ঞাসূচক সংক্ষিপ্ত হাদিসটির বিশ্লেষণ স্বরূপ। [৯৭৪]
[৯৭৪] বুখারী ২২৮৬,২৩৮৭,২৩৩২,২৩৩৯,২৩৪৪,২৩৪৭, মুসলিম ১৫৪৭,১৫৪৮, তিরমিযী ১২২৪,১৩৮৪, নাসায়ী ৩৮৬২,৩৮৬৩,৩৮৬৪, আবূ দাউদ ৩৩৯২,৩৩৯৩, ইবনু মাজাহ ২৪৪৯,২৪৫৩, আহমাদ ৪৫৭২, মুয়াত্তা মালেক ১৪১৫।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- শিহাবুদ্দীন আহমাদ বিন আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী বিন মাহমুদ বিন আহমাদ বিন হাজার বিন আহমাদ আল আসকালানী আল কিনানী
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
বুলুগুল মারাম হাদিস ৯০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জমি ইজারা বা ঠিকা দেওয়ার বিষয়ে পরিষ্কার ব্যাখ্যা এসেছে। রাফি’ বিন খাদিজ (রাঃ)-কে সোনা ও রৌপ্যের বিনিময়ে জমি ইজারা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, এতে দোষ নেই। তিনি ব্যাখ্যা করেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে লোকেরা নালা, পানি প্রবাহের স্থান বা ক্ষেতের নির্দিষ্ট অংশের ফসলের বিনিময়ে জমি দিত। এতে কখনো একটি অংশ নষ্ট হতো, আর অন্যটি বেঁচে যেত। এই অনিশ্চিত অবস্থার কারণেই ধমক দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনো জ্ঞাত ও নিশ্চয়যোগ্য বস্তু হলে ঠিকা দেওয়ায় দোষ নেই। তাই মূল শিক্ষা হলো, জমি ইজারা চুক্তিতে অনিশ্চয়তা ও ঝুঁকিপূর্ণ শর্ত এড়ানো দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সোনা-রৌপ্য বা নির্দিষ্ট মজুরিতে জমি ইজারায় দোষ নেই বলা হয়েছে।
- ফসলের অনিশ্চিত অংশের বিনিময়ে চুক্তি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
- লেনদেনে কী পাওয়া যাবে তা স্পষ্ট হওয়া দরকার।
- নিষেধের কারণ বুঝলে হাদিসের বক্তব্য পরিষ্কার হয়।
