১/১. অধ্যায়ঃ
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ১৫ - শাম নিয়ে ভিত্তিহীন মারফূ বর্ণনা
১ থেকে ১০০ নং হাদিস
শাম আমার তীর রাখার স্থল—মারফূ হিসেবে ভিত্তিহীন
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ : ১৫
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজহাদিস নম্বর ১৫
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
শাম দেশ আমার তীর রাখার স্থল। যে তার কোনরূপ অনিষ্ট করার ইচ্ছা করবে, আমি তাকে সেখানকার তীর দ্বারা আঘাত করব।
মারফূ' হিসাবে হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই। সম্ভবত এটি ইসরাইলী বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। অর্থাৎ আহলে কিতাবদের বর্ণনাকৃত। এটি হাফিয আবুল হাসান রিব'ঈ ''ফাযায়েলুশ-শাম'' গ্রন্থে (পৃঃ৭) আউন ইবনু আব্দিল্লাহ ইবনে উতবা হতে বর্ণনা করেছেন। এটির সনদে বর্ণনাকারী মাস'উদী রয়েছেন। তার নাম আব্দুররহমান ইবনু আব্দিল্লাহ। তার মস্তিষ্ক বিকৃতি ঘটার কারণে তিনি দুর্বল। এছাড়া অন্য বর্ণনাকারীদের জীবনী কে উল্লেখ করেছেন পাচ্ছি না। ইমাম সাখাবীও ''মাকাসিদুল হাসানা'' গ্রন্থে বলেছেনঃ মারফূ' হিসাবে হাদীসটির কোন ভিত্তি নেই।
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ১৫-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, “শাম দেশ আমার তীর রাখার স্থল। যে তার ক্ষতি করতে চাইবে, আমি তাকে সেখানকার তীর দ্বারা আঘাত করব।” প্রদত্ত আলোচনায় বলা হয়েছে, মারফূ হিসেবে হাদিসটির কোনো ভিত্তি নেই। এমনও বলা হয়েছে, সম্ভবত এটি ইসরাইলী বর্ণনার অন্তর্ভুক্ত। সনদে মাসউদী নামের একজন বর্ণনাকারীর দুর্বলতার কথা এসেছে, কারণ তাঁর স্মৃতিতে পরিবর্তন ঘটেছিল। আরও কিছু বর্ণনাকারীর পরিচয় পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ আছে। তাই “শাম সম্পর্কে হাদিস” হিসেবে এই কথাটি ব্যবহার করা ঠিক নয়। শামের ফজিলত নিয়ে কোনো কথা বলতে হলে নির্ভরযোগ্য বর্ণনা বেছে নিতে হবে। শুধু আবেগ বা অঞ্চলভিত্তিক ভালোবাসা দিয়ে হাদিস প্রমাণ হয় না। নবী صلى الله عليه وسلم-এর নামে কোনো কথা বলার আগে তার সনদ ও মান জানা জরুরি।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অঞ্চল সম্পর্কিত বর্ণনাও যাচাই করা দরকার।
- ইসরাইলী বর্ণনা ও মারফূ হাদিস এক নয়।
- অপরিচিত বা দুর্বল বর্ণনাকারী থাকলে সতর্কতা দরকার।
- শামের ফজিলত বলতে সহীহ সূত্র ব্যবহার করা উচিত।
