১/১. অধ্যায়ঃ
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ১৬ - নেতা ও আলেম নিয়ে জাল হাদিস
১ থেকে ১০০ নং হাদিস
নেতা ও আলেম ঠিক হলে মানুষ ভালো হবে—জাল হাদিস
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ : ১৬
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজহাদিস নম্বর ১৬
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
আমার উম্মতের দু’শ্রেণীর লোক যখন ঠিক হয়ে যাবে, তখন মানুষ ভাল হয়ে যাবে। নেতাগণ এবং ফাকীহ্গণ। (অন্য বর্ণনায় এসেছে ‘আলেমগণ’)।
হাদীসটি জাল। তাম্মাম “আল-ফাওয়াইদ” গ্রন্থে (১/২৩৮), আবূ নো’য়াইম “হিলিয়াহ” গ্রন্থে (৪/৯৬) এবং ইবনু আব্দিল বার “জামেউ’ বায়ানিল ইল্ম” গ্রন্থে (১/১৮৪) মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ ইয়াশকুরী সূত্রে ... হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এ সনদটি বানোয়াট। এ মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, চোখ টেরা, হাদীস জালকারী। ইবনু মা’ঈন ও দারাকুতনী বলেনঃ তিনি মিথ্যুক। আবূ যুর’আহ ও অন্যরাও তাকে মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। সুয়ূতি হাদীসটি “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থে তাঁর শর্তের বিরোধিতা করে উল্লেখ করেছেন! গাযালী “আল-ইহইয়া” গ্রন্থে (১/৬) নাবী (ﷺ) এর হাদীস হিসাবে উল্লেখ করেছেন! তাঁর তাখরীজকারী হাফিজ ইরাকী বলেনঃ সনদটি দুর্বল। হাফিজ যে বলেছেন সনদটি দুর্বল আর আমরা বলেছি বানোয়াট তার মধ্যে কোন দ্বন্দ্ব নেই। কারণ বানোয়াট হচ্ছে দুর্বল হাদীসের প্রকারগুলোর একটি। যেমনটি হাদীস শাস্ত্রের নীতির উপর রচিত গ্রন্থ সমূহে এসেছে।
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ১৬-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, উম্মতের দুই শ্রেণী—নেতাগণ ও ফাকীহ বা আলেমগণ—ঠিক হলে মানুষ ভালো হবে। প্রদত্ত আলোচনায় হাদিসটি জাল বলা হয়েছে। এর সনদে মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ ইয়াশকুরী নামের একজন বর্ণনাকারী আছেন, যাকে ইমাম আহমাদ, ইবনু মাঈন, দারাকুতনীসহ অনেকে মিথ্যুক ও হাদিস জালকারী বলেছেন। তাই এই নির্দিষ্ট বাক্যকে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর হাদিস বলা যাবে না। অবশ্য সমাজে নেতা ও আলেমের প্রভাব বড়—এ কথা সাধারণভাবে বোঝা যায়; কিন্তু এই বর্ণনা দিয়ে তা প্রমাণ করা ঠিক নয়। “নেতা ও আলেম সম্পর্কে হাদিস” খোঁজার সময় বিশেষ সতর্কতা দরকার। কারণ নেতৃত্ব ও ইলমের বিষয় মানুষ দ্রুত শেয়ার করে, কিন্তু জাল হাদিস ছড়ালে দ্বীনের নামে ভুল কথা ছড়ায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নেতা ও আলেম নিয়ে কথাও সহীহ দলিল দিয়ে বলতে হবে।
- সনদে মিথ্যুক বর্ণনাকারী থাকলে বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।
- জাল হাদিসকে শুধু দুর্বল বলে হালকা করে দেখা উচিত নয়।
- সামাজিক শিক্ষা দিতে গিয়ে রাসূল صلى الله عليه وسلم-এর নামে ভুল কথা বলা যাবে না।
