১/১. অধ্যায়ঃ
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ১৭ - গুনাহ নিয়ে জাল হাদিসের সতর্কতা
১ থেকে ১০০ নং হাদিস
হাসতে হাসতে গুনাহ করলে—জাল হাদিসের সতর্কতা
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ : ১৭
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজহাদিস নম্বর ১৭
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
যে ব্যক্তি হাসতে হাসতে গুনাহ করবে, সে কাঁদতে কাঁদতে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।
হাদীসটি জাল। হাদীসটি আবূ নু’ইয়াইম (৪/৯৬) উমর ইবনু আইউব সূত্রে ...বর্ণনা করেছেন। এ সনদেও মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ ইয়াশকুরী রয়েছেন। এ হাদীসটি সেই সব হাদীসের একটি, যেগুলো দ্বারা সুয়ূতি তাঁর “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থকে কালিমালিপ্ত করেছেন। হাদীসটি সম্পর্কে “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থের ভাষ্যকার মানাবী বলেনঃ এর সনদে বর্ণনাকারী উমর ইবনু আইউব রয়েছেন, তার সম্পর্কে যাহাবী বলেনঃ ইবনু হিব্বান তাকে দোষী সাব্যস্ত করেছেন। আমি (আলবানী) বলছিঃ এ উমর হচ্ছেন মুযানী। দারাকুতনী তাকে খুবই দুর্বল আখ্যা দিয়েছেন, যেমনটি “আল-মীযান” এবং “আল-লিসান” গ্রন্থে এসেছে। হাদীসটির সনদে মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ ইয়াশকুরীও রয়েছেন। তার দ্বারা দোষ বর্ণনা করাই উত্তম। কারণ তাকে মুহাদ্দিসগণ মিথ্যুক ও হাদীস জালকারী বলে আখ্যা দিয়েছেন। এ মিথ্যুকের সূত্রেই বর্ণিত হয়েছে নিম্নের হাদীসটিঃ
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি হাসতে হাসতে গুনাহ করবে, সে কাঁদতে কাঁদতে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। প্রদত্ত আলোচনায় হাদিসটি জাল বলা হয়েছে। এর সনদে উমার ইবনু আইউব এবং মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ ইয়াশকুরীর সমস্যা উল্লেখ করা হয়েছে। বিশেষ করে ইয়াশকুরীকে মুহাদ্দিসগণ মিথ্যুক ও হাদিস জালকারী বলেছেন। তাই এই নির্দিষ্ট বাক্যকে হাদিস হিসেবে ব্যবহার করা ঠিক নয়। গুনাহকে হালকা করে দেখা অবশ্যই ভয়ংকর বিষয়—এ কথা ইসলামের সাধারণ শিক্ষা। কিন্তু মানুষকে গুনাহ থেকে বাঁচাতে জাল হাদিস দিয়ে ভয় দেখানো যাবে না। “গুনাহ নিয়ে হাদিস” বা “হাসতে হাসতে গুনাহ” নামে প্রচলিত পোস্ট দেখলে উৎস যাচাই করা দরকার। সহীহ দলিল দিয়েই তাওবা, ভয় ও আশা—সব শেখানো যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুনাহকে হালকা করা ভালো নয়, তবে জাল হাদিস দিয়ে ভয় দেখানো ঠিক নয়।
- সনদে জালকারী থাকলে বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।
- ধর্মীয় সতর্কতা দিতে সহীহ দলিল ব্যবহার করা উচিত।
- প্রচলিত ভয় দেখানো বাক্য যাচাই ছাড়া শেয়ার করা যাবে না।
