১/১. অধ্যায়ঃ
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ১৮ - কবুতর ও জিন নিয়ে জাল হাদিস
১ থেকে ১০০ নং হাদিস
কবুতর ও জিন নিয়ে জাল হাদিস: সন্তান প্রসঙ্গে সতর্কতা
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ : ১৮
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজহাদিস নম্বর ১৮
বর্ণনাকারী হতে বর্ণিতঃ
তোমরা পরকাটা কবুতর গ্রহণ কর, কারণ তা তোমাদের বাচ্চাদের (সন্তানদের) থেকে জিনকে বিমুখ করে দেয়।
হাদীসটি জাল। এটি ইবনু আদী “আল-কামিল” গ্রন্থে (২/২৮৮), খাতীব বাগদাদী (৫/২৭৮) ও ইবনু আসাকির (১৭/৪৬৯) মুহাম্মাদ বিন যিয়াদ সূত্রে পূর্বের সনদেই ইবনু আব্বাস হতে বর্ণনা করেছেন। এ হাদীসটিকেও সুয়ূতী “জামে’উস সাগীর” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্যকার মানাবী তাঁর সমালোচনা করে বলেছেনঃ মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ সম্পর্কে ইমাম আহমাদ, ইবনু মা’ঈন প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ বলেছেনঃ তিনি ছিলেন মিথ্যুক, হাদীস জালকারী। ইবনু হাজার বলেনঃ তাকে তারা মিথ্যুক আখ্যা দিয়েছেন। যাহাবী “আল-মীযান” গ্রন্থে বলেনঃ তিনি মিথ্যুক, জালকারী। ইবনু হিব্বান বলেছেনঃ তিনি নির্ভরশীলদের উদ্ধৃতিতে জাল হাদীস বর্ণনা করেছেন। এ কারণেই ইবনুল জাওযী হাদীসটি জাল বলে হুকুম লাগিয়েছেন। ইবনু ইরাক, হিন্দী ও অন্যরাও হাদীসটি জাল বলেছেন। আমি (আলবানী) বলছিঃ তাদের মধ্যে “আল-মানার” গ্রন্থে (৩৯) জাল আখ্যাদানকারী হিসাবে ইবনুল কাইয়্যিমও রয়েছেন।
জাল ও যঈফ হাদীস সিরিজ হাদিস ১৮-এর সারসংক্ষেপ
এই বর্ণনায় বলা হয়েছে, পরকাটা কবুতর গ্রহণ করো, কারণ তা সন্তানদের থেকে জিনকে বিমুখ করে দেয়। প্রদত্ত আলোচনায় হাদিসটি জাল বলা হয়েছে। এটি পূর্বের সনদে মুহাম্মাদ ইবনু যিয়াদ ইয়াশকুরীর সূত্রে এসেছে, আর তাঁর সম্পর্কে ইমাম আহমাদ, ইবনু মাঈনসহ বহু মুহাদ্দিস বলেছেন—তিনি মিথ্যুক ও হাদিস জালকারী। তাই “কবুতর জিন দূর করে” বা “সন্তানদের জিন থেকে বাঁচানোর হাদিস” নামে এই কথাটি প্রচার করা ঠিক নয়। জিনের ক্ষতি থেকে বাঁচার জন্য ইসলামে সহীহ দোয়া, যিকির ও আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা আছে। কিন্তু পশু-পাখি নিয়ে ভিত্তিহীন বিশ্বাস তৈরি করা উচিত নয়। হাদিস যাচাই না করলে কুসংস্কার দ্বীনের নামে ছড়িয়ে যেতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জিন থেকে বাঁচার বিষয়ে জাল বর্ণনা বিশ্বাস করা ঠিক নয়।
- সন্তান রক্ষার জন্য সহীহ দোয়া ও যিকিরে ভরসা করা উচিত।
- কুসংস্কারকে হাদিসের নামে ছড়ানো বিপজ্জনক।
- মিথ্যুক বর্ণনাকারীর বর্ণনা গ্রহণযোগ্য নয়।
