২/১. অধ্যায়ঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেন : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ্ নেই এবং আমি আল্লাহ্র রাসূল। যে কোন বান্দা সন্দেহাতীতভাবে এই বাক্য দুটির ওপর ঈমান আনবে, সে আল্লাহ্র সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করবে যে, সে জান্নাত থেকে বঞ্চিত হবে না।
হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/১৪৮- তাহক্বীক্ব শু’আইব আরনাউত্ব ও অন্যান্য মুহাদ্দিসগণ : হাদীস সহীহ : তাহক্বীক্ব শায়খ আহমাদ শাকির : এর সানাদ সহীহ।
তিনি বলেন, নবী (ﷺ) বলেছেন: হে খাত্তাবের পুত্র! যাও, লোকদের মাঝে ঘোষণা করে দাও যে, কেবলমাত্র ঈমানদার লোকেরাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। ‘উমর (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি বের হলাম এবং ঘোষণা করলাম : শুনে রাখো, ঈমানদার ছাড়া কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। [১]
[১] হাদীস সহীহ; সহীহ মুসলিম হা/৩২৩, তাহক্বীক্ব আলবানী : হাদীস সহীহ।
তিনি বলেন, উমর (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- কে বলতে শুনেছি : যে ব্যক্তি আল্লাহ্ এবং পরকালের প্রতি ঈমান রেখে মারা যাবে, তাকে বলা হবে, তুমি জান্নাতের আটটি দরজার মধ্যকার যে দরজা দিয়ে ইচ্ছে প্রবেশ করো।”
(আহমাদ হা/৯৭- শায়খ শু’আইব আরনাউত্ব বলেন : হাদীসটি হাসান লিগাইরিহি। এর শাওয়াদিহ বর্ণনা রয়েছে)
একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাকে ইসলামের এমন একটি কথা বলে দিন যা আপনার পরে বা আপনি ছাড়া অন্য কাউকে আমি জিজ্ঞেস করবো না। তিনি (ﷺ) বললেন : তুমি বলো : আমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলাম। অতঃপর এরই উপর প্রতিষ্ঠিত থাকো।”
(সহীহ মুসলিম হা/১৬৮)
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন : যে ব্যক্তি বলে : “আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই, তিনি একক এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) তাঁর বান্দা ও রাসূল, আর নিশ্চয়ই ঈসা (আঃ) আল্লাহর বান্দা, তাঁর বান্দীর (মারইয়ামের) পুত্র ও তাঁর সেই কালেমা যা তিনি মারইয়ামকে পৌঁছিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষ হতে প্রেরিত একটি রূহ মাত্র, জান্নাত সত্য, জাহান্নাম সত্য” - তাকে জান্নাতের আটটি দরজার যেটি দিয়ে প্রবেশ করতে চাইবে, প্রবেশ করাবেন।
হাদীস সহীহ : সহীহুল বুখারী হা/৩১৮০ অন্য বর্ণনায় রয়েছে : “তার আমল যা-ই হোক না কেন আল্লাহ্ তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।” (সহীহুল বুখারী হা/৩১৮০, সহীহ মুসলিম হা/১৫০)
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেছেন : তিন ব্যক্তির জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে।এক, ঐ ব্যক্তি যে আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নিজের নবীর (আঃ) উপর ঈমান এনেছে আবার মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর উপরও ঈমান এনেছে।দুই, ঐ ক্রীতদাস যে মহান আল্লাহর হক আদায় করার পাশাপাশি স্বীয় মুনিবের হকও আদায় করে।তিন, ঐ ব্যক্তি যার কোন ক্রীতদাসী রয়েছে। আর সে তাকে উত্তম আদব শিখিয়েছে এবং উত্তমরূপে ইলম শিক্ষা দিয়েছে, অতঃপর তাকে আযাদ করে বিয়ে করেছে, তার জন্য দ্বিগুণ সওয়াব রয়েছে।
হাদীস সহীহ্ : সহীহুল বুখারী হা/৯৫- হাদীসের শব্দাবলী তার, সহীহ মুসলিম হা/৪০৪, আহমাদ হা/১৯৫৩২- তাহক্বীক্ব শু’আইব আরনাউত্ব : সানাদ বুখারী ও মুসলিমের শর্তে সহীহ। আহমাদ শাকির বলেন : সানাদ সহীহ।
নবী (ﷺ)- কে জিজ্ঞেস করা হলো, সকল আমলের মধ্যে সর্বোত্তম আমল কোনটি? তিনি (ﷺ) বললেন : আল্লাহ্র প্রতি ঈমান আনা, যিনি একক। এরপর আল্লাহ্র পথে জিহাদ করা, অতঃপর কবুল হজ্জ। এ আমলগুলো ও অন্যান্য আমলের মধ্যে ফাযীলাতের দিক দিয়ে এই পরিমাণ ব্যবধান রয়েছে যে পরিমাণ ব্যবধান রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যকার দূরত্বের মাঝে।” [১]
[১] হাদীস সহীহ : আহমাদ হা/১৯০১০, শু’আইব আরনাউত্ব বলেন : হাদীস সহীহ।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন: যে ব্যক্তি এ সাক্ষ্য দেয় যে, “আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহর রাসূল” আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেন। [১]
[১] হাদীস সহীহ : সহীহ মুসলিম হা/১৫১ শিরক
“নবী (ﷺ) বলেন: যে কোন বান্দা এ সাক্ষ্য দেয় যে, আল্লাহ্ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ্র রাসূল, আল্লাহ্ তাকে জাহান্নামের আগুনের জন্য হারাম করে দেন। তখন মু’আয (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি কি লোকদেরকে এ সুসংবাদ জানিয়ে দিব না? তিনি (ﷺ) বললেন, তাহলে তারা এর উপরই ভরসা করে থাকবে (আমল ছেড়ে দেবে)। অতঃপর মু’আয (রাঃ) স্বীয় মৃত্যুর সময় (ইলম গোপন করার গুনাহের ভয়ে) এ হাদীস বর্ণনা করেন।”
তিরমিযী হা/৩৩৮৩, ইবনু মাজাহ্ হা/৩৮০০, শায়খ আলবানী হাদীসটিকে হাসান বলেছেন।
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন : আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই এবং আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল। আর আমি আল্লাহর নিকট সাক্ষ্য দিচ্ছি- যে কোন বান্দা এ (কালেমা) দু’টির প্রতি ঈমান রেখে আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে, এ দুটো অবশ্যই তার জন্য কিয়ামতের দিন জাহান্নামের আগুন থেকে আড়াল হবে। [১]
[১] সহীহ লিগাইরিহি : ইবনু হিব্বান হা/২২১- হাদীসের শব্দাবলী তার- তাহকীক আলবানী : সহীহ লিগাইরিহি।