৭/১৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬৮৬ - রোযাদার দম্পতির চুমু
রোযাদারের চুমু দেয়া সম্পর্কে
রোযাদার দম্পতির চুমু: হাদিসের সতর্ক উত্তর
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৬৮৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৬৮৬
. حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا الْفَضْلُ بْنُ دُكَيْنٍ عَنْ إِسْرَائِيلَ عَنْ زَيْدِ بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِي يَزِيدَ الضِّنِّيِّ عَنْ مَيْمُونَةَ مَوْلَاةِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَتْ سُئِلَ النَّبِيُّ ﷺ عَنْ رَجُلٍ قَبَّلَ امْرَأَتَهُ وَهُمَا صَائِمَانِ قَالَ قَدْ أَفْطَرَا
নবী (ﷺ)-এর মুক্ত দাসী মায়মূনাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ)-কে রোজাদার দম্পতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলো যে, স্বামী তাকে চুমা দিয়েছে। তিনি বলেন, তারা সিয়াম ভঙ্গ করেছে।
[১৬৮৬] হাদিসটি ইমাম ইবনু মাজাহ এককভাবে বর্ণনা করেছেন। বায়হাকী ৪/২১৮। তাহকীক আলবানীঃ অত্যন্ত যঈফ, তা’লীক ইবনু মাজাহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবু ইয়াযীদ আদ-দিন্নী সম্পর্কে ইমাম বুখারী বলেন, তিনি অপরিচিত। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি পরিচিত নন। ইবনু মাকুলা বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় মুনকার। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি মাজহুল বা অপরিচিত। ইমাম বুখারী বলেন, তিনি একজন অপরিচিত ব্যক্তি। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৭৭০৫, ৩৪/৪০৮ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৬৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী صلى الله عليه وسلم-কে রোযাদার দম্পতি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়। প্রশ্ন ছিল, স্বামী তার স্ত্রীকে চুমু দিয়েছে, অথচ তারা উভয়েই রোযাদার। উত্তরে নবী صلى الله عليه وسلم বলেন, তারা সিয়াম ভঙ্গ করেছে। এখানে একটি নির্দিষ্ট প্রশ্নের নির্দিষ্ট উত্তর এসেছে। তাই এই বর্ণনাকে হালকা করে দেখা উচিত নয়। একই বিষয়ের অন্য বর্ণনায় আত্মনিয়ন্ত্রণের কথা এসেছে, আর এই বর্ণনায় সতর্কতার দিকটি স্পষ্ট। রোযার সময় দাম্পত্য ঘনিষ্ঠতায় মানুষ নিজের সীমা হারাতে পারে—এ ধরনের আশঙ্কা থাকলে দূরে থাকা নিরাপদ। এই হাদিস রোযাদারকে বলে, ইবাদত রক্ষা করতে নিজের আচরণে সাবধান হও।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রোযাদার দম্পতির আচরণে সতর্কতা দরকার।
- নির্দিষ্ট প্রশ্নের উত্তরে সিয়াম ভঙ্গের কথা এসেছে।
- আত্মনিয়ন্ত্রণ না থাকলে রোযার ক্ষতি হতে পারে।
- রোযার সম্মান রক্ষায় সীমা মানা জরুরি।
