৮/১. অধ্যায়ঃ

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৮৩ - দাওয়াত, সালাত, যাকাত ও মজলুমের দোয়া

যাকাত পরিশোধ করা ফরয্‌।

মুয়ায (রাঃ)-এর হাদিস: দাওয়াত, যাকাত ও মজলুমের দোয়া

সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৭৮৩

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُحَمَّدٍ حَدَّثَنَا وَكِيعُ بْنُ الْجَرَّاحِ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّا بْنُ إِسْحَقَ الْمَكِّيُّ عَنْ يَحْيَى بْنِ عَبْدِ اللهِ بْنِ صَيْفِيٍّ عَنْ أَبِي مَعْبَدٍ مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ بَعَثَ مُعَاذًا إِلَى الْيَمَنِ فَقَالَ إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا أَهْلَ كِتَابٍ فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنْ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ وَأَنِّي رَسُولُ اللهِ ﷺ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ خَمْسَ صَلَوَاتٍ فِي كُلِّ يَوْمٍ وَلَيْلَةٍ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَأَعْلِمْهُمْ أَنَّ اللهَ افْتَرَضَ عَلَيْهِمْ صَدَقَةً فِي أَمْوَالِهِمْ تُؤْخَذُ مِنْ أَغْنِيَائِهِمْ فَتُرَدُّ فِي فُقَرَائِهِمْ فَإِنْ هُمْ أَطَاعُوا لِذَلِكَ فَإِيَّاكَ وَكَرَائِمَ أَمْوَالِهِمْ وَاتَّقِ دَعْوَةَ الْمَظْلُومِ فَإِنَّهَا لَيْسَ بَيْنَهَا وَبَيْنَ اللهِ حِجَابٌ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (ﷺ), মুআয বিন জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠাবার প্রাক্কালে বলেন, নিশ্চয়ই তুমি এমন একটি সম্প্রদায়ের কাছে যাচ্ছো যারা আহলে কিতাব। তুমি সর্বপ্রথম তাদেরকে "আল্লাহ্‌ ব্যতীত কোন ইলাহ নাই এবং আমি আল্লাহ্‌র রাসূল" এ কথার সাক্ষ্য দেয়ার আহ্বান জানাবে। তারা তা মেনে নিলে তুমি তাদের জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ্‌ তাদের উপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ করেছেন।তারা যদি এ কথাও মেনে নেয়, তবে তাদের আরও জানিয়ে দিবে যে, আল্লাহ্‌ তাদের সম্পদের উপর যাকাত ফরজ করেছেন, যা তাদের ধনীদের নিকট থেকে আদায় করা হবে এবং তাদের গরীবদের মধ্যে বিতরণ করা হবে। তারা যদিও এটিও মেনে নেয় তবে তাদের উত্তম সম্পদ (গ্রহণ) থেকে নিজেদের বিরত রাখবে। তুমি মযলুমের বদদোয়াকে ভয় করো। কেননা মযলুমের আহাজারি ও আল্লাহ্‌র মাঝে কোন পর্দা (প্রতিবন্ধক) নেই।

[১৭৮৩] সহীহুল বুখারী ১৩৯৫, ১৪৯৬, ২৪৪৮, ১৪৪৮, ৪৩৪৭, ৭৩৭১, ৭৩৭২, মুসলিম ১৯, তিরমিযী ৬২৫, নাসায়ী ২৪৩৫, আবূ দাউদ ১৫৮৪, আহমাদ ২০৭২, দারেমী ১৬১৪, ইরওয়া ৭৮২, সহীহ আবী দাউদ ১৪১২, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।

সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৭৮৩-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم) মুয়ায বিন জাবাল (রাঃ)-কে ইয়ামানে পাঠানোর সময় দাওয়াতের ধারা শিখিয়েছেন। প্রথমে মানুষকে আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই এবং মুহাম্মদ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর রসূল—এই সাক্ষ্যের দিকে ডাকতে বলেছেন। তারা তা মেনে নিলে পাঁচ ওয়াক্ত সালাতের কথা জানাতে বলেছেন। এরপর যাকাতের বিধান জানাতে বলেছেন, যা ধনীদের কাছ থেকে নিয়ে গরিবদের মাঝে দেওয়া হবে। এখানে দাওয়াতের অগ্রাধিকার খুব পরিষ্কার: ঈমান, সালাত, তারপর যাকাত। একই সঙ্গে যাকাত আদায়ে অন্যায় না করার নির্দেশও আছে; উত্তম সম্পদ নেওয়া থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। শেষে মজলুমের দোয়াকে ভয় করতে বলা হয়েছে, কারণ তার আর্তনাদ ও আল্লাহর মাঝে কোনো পর্দা নেই।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • দাওয়াতের শুরু তাওহীদ ও রিসালাতের সাক্ষ্য দিয়ে।
  • সালাত ও যাকাত ইসলামী দায়িত্বের বড় অংশ।
  • যাকাত আদায়ে অন্যায় বা জোরজবরদস্তি করা যাবে না।
  • মজলুমের দোয়ার ব্যাপারে গভীর সতর্ক থাকা দরকার।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন