০/৩৪. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৪ - জান্নাতে আল্লাহর সালাম ও দীদার
জাহমিয়াহ্ সম্প্রদায় যা অমান্য করে
জান্নাতে আল্লাহর দীদার: সালাম, নূর ও বরকতের বর্ণনা
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৪
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৪
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ أَبِي الشَّوَارِبِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَاصِمٍ الْعَبَّادَانِيُّ، حَدَّثَنَا الْفَضْلُ الرَّقَاشِيُّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ـ ﷺ ـ " بَيْنَا أَهْلُ الْجَنَّةِ فِي نَعِيمِهِمْ إِذْ سَطَعَ لَهُمْ نُورٌ فَرَفَعُوا رُءُوسَهُمْ فَإِذَا الرَّبُّ قَدْ أَشْرَفَ عَلَيْهِمْ مِنْ فَوْقِهِمْ فَقَالَ السَّلاَمُ عَلَيْكُمْ يَا أَهْلَ الْجَنَّةِ . قَالَ وَذَلِكَ قَوْلُ اللَّهِ ﴾سَلاَمٌ قَوْلاً مِنْ رَبٍّ رَحِيمٍ﴿ قَالَ فَيَنْظُرُ إِلَيْهِمْ وَيَنْظُرُونَ إِلَيْهِ فَلاَ يَلْتَفِتُونَ إِلَى شَىْءٍ مِنَ النَّعِيمِ مَا دَامُوا يَنْظُرُونَ إِلَيْهِ حَتَّى يَحْتَجِبَ عَنْهُمْ وَيَبْقَى نُورُهُ وَبَرَكَتُهُ عَلَيْهِمْ فِي دِيَارِهِمْ " .
জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, জান্নাতবাসীরা তাদের ভোগ-বিলাসে মশগুল থাকবে, এমতাবস্থায় তাদের সামনে একটি নূরের আলোকচ্ছটা বিচ্ছুরিত হবে। তারা তাদের মাথা তুলে দেখতে পাবে যে, তাদের মহান প্রভু তাদের উপর দিক থেকে উদ্ভাসিত হয়েছেন। তিনি বলবেন, হে জান্নাতবাসীগণ! আস্সালাম আলাইকুম (তোমাদের উপর অনন্ত শান্তি বর্ষিত হোক)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, এটাই হলো আল্লাহ্র বাণীর প্রমাণ (অনুবাদ) : "সালাম (অনন্ত শান্তি) পরম দয়ালু প্রভুর পক্ষ থেকে সম্ভাষণ"-(সূরা ইয়াসিন ৩৬ : ৫৮)।রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, আল্লাহ্ তাআলা তাদের প্রতি তাকাবেন এবং তারাও তাঁর প্রতি অপলক নেত্রে তাকাবে। জান্নাতীরা যতক্ষণ আল্লাহ্র দীদারে মশগুল থাকবে ততক্ষণ তারা অন্য কোন ভোগ-বিলাসের প্রতি ফিরেও তাকাবে না। অবশেষে তিনি তার দৃষ্টি থেকে অন্তর্হিত হবেন এবং তাঁর নূর ও বারাকাত তাদের জন্য তাদের আবাসে অবারিত থাকবে।
[১৮২] দুর্বল। তাখরীজ আলবানী: জামি সগীর ২৩৬৩ যঈফ, মিশকাত ৫৬৬৪ যঈফ, যঈফ তারগীব তারহীব মুনকার; তাখরীজুত তহাবীয়াহ ১৮২। উক্ত হাদিসের রাবী১. আবু আসিম আল আব্বাদানী সম্পর্কে ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, আমি তাকে চিনি না।২. ফাদলুর রুক্কাশী সম্পর্কে আহমাদ বিন হাম্বল বলেন, তিনি দুর্বল। আবু যুরআহ আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, মুনকারুল হাদিস ও তার হাদিসে সন্দেহ আছে। আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি পরিত্যাজ্য
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো জান্নাতে আল্লাহর দীদার। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেন, জান্নাতবাসীরা যখন নিয়ামতে থাকবে, তখন তাদের সামনে নূরের আলোকচ্ছটা দেখা দেবে। তারা মাথা তুলে দেখবে, তাদের প্রভু ওপর দিক থেকে উদ্ভাসিত হয়েছেন। তিনি বলবেন, হে জান্নাতবাসীগণ, আসসালামু আলাইকুম। হাদিসে সূরা ইয়াসিনের আয়াতের অর্থও উল্লেখ করা হয়েছে: পরম দয়ালু প্রভুর পক্ষ থেকে সালাম। এরপর বলা হয়েছে, আল্লাহ তাদের দিকে তাকাবেন এবং তারাও তাঁর দিকে তাকাবে। তারা যতক্ষণ এই দীদারে মশগুল থাকবে, অন্য নিয়ামতের দিকে ফিরেও তাকাবে না। হাদিসটি জান্নাতের এক বিশেষ সম্মান ও আল্লাহর নূর-বরকতের কথা মনে করায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জান্নাতের বড় সম্মান হলো আল্লাহর সালাম ও দীদার।
- আল্লাহর নূর ও বরকত জান্নাতবাসীদের জন্য বিশেষ দান হিসেবে বর্ণিত।
- আখিরাতের নিয়ামত দুনিয়ার কল্পনার চেয়েও গভীর।
