৯/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৫৫ - পুণ্যবতী স্ত্রী উত্তম সম্পদ
সর্বোত্তম মহিলা।
পুণ্যবতী স্ত্রী: দুনিয়ার উত্তম সম্পদের একটি বড় দৃষ্টান্ত
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৫৫
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৫৫
حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا عِيسَى بْنُ يُونُسَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ زِيَادِ بْنِ أَنْعُمَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ يَزِيدَ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرٍو أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ إِنَّمَا الدُّنْيَا مَتَاعٌ وَلَيْسَ مِنْ مَتَاعِ الدُّنْيَا شَيْءٌ أَفْضَلَ مِنْ الْمَرْأَةِ الصَّالِحَةِ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, গোটা দুনিয়াই হলো সম্পদ। আর দুনিয়ার মধ্যে পুণ্যবতী স্ত্রীলোকের চেয়ে অধিক উত্তম কোন সম্পদ নাই।
[১৮৫৫] মুসলিম ১৪৬৭, নাসায়ী ৩২৩২, আহমাদ ৬৫৩১, যঈফাহ ৫১৭৭, মুসলিম অনুরূপ। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আব্দুর রহমান বিন যিয়াদ বিন আনউম সম্পর্কে আবু আহমাদ আল হাকিম বলেন, তিনি আহলে ইলমগনের নিকট নির্ভরযোগ্য নয়। আবুল কাসিম বিন বিশকাওাল বলেন, তিনি দুর্বল। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস গ্রহন করা যায় তবে তা দলীলযোগ্য হবে না। আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি একজন সালিহ ব্যক্তি তবে তার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। ইমাম যাহাবী তাকে দুর্বল বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৮১৭, ১৭/১০২ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৫৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দুনিয়ার সম্পদ সম্পর্কে সুন্দর শিক্ষা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, গোটা দুনিয়াই সম্পদ, আর দুনিয়ার সম্পদের মধ্যে পুণ্যবতী স্ত্রীলোকের চেয়ে অধিক উত্তম কোনো সম্পদ নেই। এখানে সম্পদ বলতে শুধু টাকা-পয়সা বোঝানো হয়নি; বরং জীবনের কল্যাণকর সঙ্গীও বড় নিয়ামত। পুণ্যবতী স্ত্রী পরিবারে শান্তি, সহায়তা ও দ্বীনি জীবনের পরিবেশ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। হাদিসটি স্বামীদের জন্যও একটি শিক্ষা—জীবনসঙ্গী নির্বাচনে শুধু বাহ্যিক বিষয় নয়, চরিত্র ও পুণ্যকে মূল্য দিতে হবে। দাম্পত্য জীবনকে দুনিয়ার সাময়িক ভোগ নয়, কল্যাণের পথ হিসেবে দেখা উচিত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দুনিয়ার সম্পদের মধ্যে পুণ্যবতী স্ত্রী বড় নিয়ামত।
- জীবনসঙ্গী নির্বাচন শুধু বাহ্যিক বিষয়ের উপর হওয়া উচিত নয়।
- ভালো স্ত্রী পরিবারে কল্যাণ ও শান্তির কারণ হতে পারে।
- দাম্পত্য সম্পর্ককে আল্লাহর দেওয়া দায়িত্ব ও নিয়ামত হিসেবে দেখা দরকার।
