৯/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৫৬ - কৃতজ্ঞ অন্তর, যিকিরকারী জিহ্বা ও ঈমানদার স্ত্রী
সর্বোত্তম মহিলা।
উত্তম সম্পদ: কৃতজ্ঞ অন্তর, যিকিরকারী জিহ্বা ও ঈমানদার স্ত্রী
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৫৬
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৫৬
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ بْنِ سَمُرَةَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَمْرِو بْنِ مُرَّةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ عَنْ ثَوْبَانَ قَالَ لَمَّا نَزَلَ فِي الْفِضَّةِ وَالذَّهَبِ مَا نَزَلَ قَالُوا فَأَيَّ الْمَالِ نَتَّخِذُ قَالَ عُمَرُ فَأَنَا أَعْلَمُ لَكُمْ ذَلِكَ فَأَوْضَعَ عَلَى بَعِيرِهِ فَأَدْرَكَ النَّبِيَّ ﷺ وَأَنَا فِي أَثَرِهِ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللهِ أَيَّ الْمَالِ نَتَّخِذُ فَقَالَ لِيَتَّخِذْ أَحَدُكُمْ قَلْبًا شَاكِرًا وَلِسَانًا ذَاكِرًا وَزَوْجَةً مُؤْمِنَةً تُعِينُ أَحَدَكُمْ عَلَى أَمْرِ الْآخِرَةِ
সাওবান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, সোনা-রূপা (মূল্যবান সম্পদ) পুঞ্জীভূত করে রাখার সমালোচনায় কোরআনের আয়াত নাযিল হলে সাহাবায়ে কিরাম বলেন, তাহলে আমরা কোন সম্পদ ধরে রাখবো? উমর (রাঃ) বলেন, আমি তা জেনে তোমাদের বলে দিবো। অতঃপর তিনি তাঁর উটকে দ্রুত হাঁকিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর সাক্ষাৎ পেয়ে গেলেন। আমিও তাঁর পিছনে পিছনে গেলাম। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কোন সম্পদ সঞ্চয় করবো? নবী (ﷺ) বলেন, তোমাদের প্রত্যেকেই যেন অর্জন করে কৃতজ্ঞ অন্তর, যিকিরকারী জিহ্বা এবং আখরাতের কাজে তাকে সহায়তাকারী ঈমানদার স্ত্রী।
[১৮৫৬] তিরমিযী ৩০৯৪, রওযা ১৭৯, যঈফাহ ২১৭৬, তা’লীকুর রগীব ৩/৬৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী আবদুল্লাহ বিন আমর বিন মুররাহ সম্পর্কে আহমাদ বিন শু'আয়ব আন-নাসায়ী বলেন, তিনি দুর্বল। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তার থেকে হাদিস বর্ণনায় কোন দোষ নেই, তিনি তার পিতা থেকে হাদিস বর্ণনা করেছেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইমাম যাহাবী তাকে সত্যবাদী বলেছেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৩৪৫৬, ১৫/৩৭০ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৫৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সাহাবীদের একটি প্রশ্নের উত্তর এসেছে। সোনা-রূপা পুঞ্জীভূত করার বিষয়ে আয়াত নাযিল হলে তারা জানতে চান, তাহলে কোন সম্পদ ধরে রাখা ভালো? রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) উত্তরে বলেন, প্রত্যেকের উচিত কৃতজ্ঞ অন্তর, যিকিরকারী জিহ্বা এবং আখিরাতের কাজে সহায়তাকারী ঈমানদার স্ত্রী অর্জন করা। এখানে সম্পদের ধারণাকে গভীরভাবে বোঝানো হয়েছে। আসল সম্পদ শুধু সোনা-রূপা নয়; বরং এমন অন্তর, ভাষা ও জীবনসঙ্গী, যা মানুষকে আল্লাহর দিকে সাহায্য করে। এই হাদিস মুসলিমকে শেখায়, জীবনে এমন জিনিসকে মূল্য দিতে হবে যা আখিরাতের কাজে সহায়ক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- কৃতজ্ঞ অন্তর মানুষের জন্য বড় সম্পদ।
- আল্লাহর যিকিরকারী জিহ্বা মূল্যবান নিয়ামত।
- ঈমানদার জীবনসঙ্গী আখিরাতের কাজে সহায়ক হতে পারে।
- সোনা-রূপার বাইরে দ্বীনি গুণাবলিও প্রকৃত সম্পদ।
