৯/৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৫৭ - পূণ্যময়ী স্ত্রীর গুণাবলি
সর্বোত্তম মহিলা।
পূণ্যময়ী স্ত্রী: তাকওয়ার পর বড় কল্যাণের পরিচয়
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৫৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৫৭
- حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عَمَّارٍ حَدَّثَنَا صَدَقَةُ بْنُ خَالِدٍ حَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي الْعَاتِكَةِ عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَزِيدَ عَنْ الْقَاسِمِ عَنْ أَبِي أُمَامَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ كَانَ يَقُولُ مَا اسْتَفَادَ الْمُؤْمِنُ بَعْدَ تَقْوَى اللهِ خَيْرًا لَهُ مِنْ زَوْجَةٍ صَالِحَةٍ إِنْ أَمَرَهَا أَطَاعَتْهُ وَإِنْ نَظَرَ إِلَيْهَا سَرَّتْهُ وَإِنْ أَقْسَمَ عَلَيْهَا أَبَرَّتْهُ وَإِنْ غَابَ عَنْهَا نَصَحَتْهُ فِي نَفْسِهَا وَمَالِهِ
আবূ উমামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বললেনঃ " কোন মুমিন ব্যক্তি আল্লাহভীতির পর উত্তম যা লাভ করে তা হলো পুণ্যময়ী স্ত্রী। স্বামী তাকে কোন নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে; সে তার দিকে তাকালে (তার হাস্যোজ্জ্বল চেহারা ও প্রফুল্লতা) তাকে আনন্দিত করে এবং সে তাকে শপথ করে কিছু বললে সে তা পূর্ণ করে। আর স্বামীর অনুপস্থিতিতে সে তার সম্ভ্রম ও সম্পদের হেফাযত করে। "
[১৮৫৭] মিশকাত দ্বিতীয় তাহকীক ৩০৯৫, আত-তা-লীকুর রাগীব ৩/৬৭, যঈফাহ ৪৪২১। আর-রাদ্দু আলা বালীক ১০৬, যইফ আল জামি' ৪৯৯৯ তাহকীক আলবানীঃ যঈফ। উক্ত হাদিসের রাবী আলী বিন ইয়াযীদ সম্পর্কে আবু আহমাদ আল হাকিম বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। আবুল ফাতহ আল আযদী ও আবু বকর আল-বুরকানী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। আবু বকর আল বায়হাকী বলেন, তিনি নির্ভরযোগ্য নয়। আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল। ইমাম তিরমিযি বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় দুর্বল ছিলেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি দুর্বল। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি প্রত্যাখ্যানযোগ্য। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪১৫৪, ২১/১৭৮ নং পৃষ্ঠা) তবে তার শাহিদ একটি হাদিস রয়েছে, যা আবদুল্লাহ বিন উমার (রাঃ) বর্ণনা করেছেন।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে পূণ্যময়ী স্ত্রীর কয়েকটি গুণ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, আল্লাহভীতির পর মুমিন যে উত্তম জিনিস লাভ করে, তার মধ্যে পূণ্যময়ী স্ত্রী অন্যতম। স্বামী কোনো নির্দেশ দিলে সে তা পালন করে, স্বামী তার দিকে তাকালে সে তাকে আনন্দিত করে, স্বামী শপথ করে কিছু বললে সে তা পূর্ণ করে এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতে নিজের সম্ভ্রম ও স্বামীর সম্পদের হেফাজত করে। এখানে মূল শিক্ষা হলো, দাম্পত্য জীবনে বিশ্বস্ততা, দায়িত্ববোধ, সৌহার্দ্য ও হেফাজত খুব গুরুত্বপূর্ণ। হাদিসটি স্ত্রীকে সম্মানজনকভাবে এমন গুণের দিকে আহ্বান করে, যা পরিবারকে শান্ত ও নিরাপদ রাখতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহভীতির পর পূণ্যময়ী স্ত্রী বড় কল্যাণের কারণ হতে পারে।
- দাম্পত্য জীবনে আনুগত্য ও দায়িত্ববোধ গুরুত্বপূর্ণ।
- স্বামীর অনুপস্থিতিতে সম্ভ্রম ও সম্পদ রক্ষা করা প্রশংসনীয় গুণ।
- হাস্যোজ্জ্বল ও ভালো আচরণ দাম্পত্য সম্পর্কে আনন্দ আনে।
