৯/১১. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৭০ - বিবাহে নারীর সম্মতি
কুমারী ও বিধবা মেয়ের মত গ্রহণ প্রসঙ্গে।
বিবাহে নারীর সম্মতি: বিধবা ও কুমারীর মতের গুরুত্ব
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৮৭০
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৮৭০
حَدَّثَنِي إِسْمَعِيلُ بْنُ مُوسَى السُّدِّيُّ حَدَّثَنَا مَالِكُ بْنُ أَنسٍ عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ الْفَضْلِ الْهَاشِمِيِّ عَنْ نَافِعِ بْنِ جُبَيْرِ بْنِ مُطْعِمٍ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ الْأَيِّمُ أَوْلَى بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا وَالْبِكْرُ تُسْتَأْمَرُ فِي نَفْسِهَا قِيلَ يَا رَسُولَ اللهِ إِنَّ الْبِكْرَ تَسْتَحْيِي أَنْ تَتَكَلَّمَ قَالَ إِذْنُهَا سُكُوتُهَا
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ "বিধবা নারী নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবক অপেক্ষা অধিক কর্তৃত্বশীল এবং কুমারী মেয়ের বিবাহের ব্যাপারে তার সম্মতি গ্রহণ করতে হবে। " বলা হলো, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কুমারী তো বিবাহের ব্যাপারে কথা বলতে লজ্জাবোধ করে। তিনি বলেন, "তার নীরবতাই তার সম্মতি। "
[১৮৭০] মুসলিম ১৪২১, তিরমিযী ১১০৮, নাসায়ী ৩২৬০, ৩২৬১, ৩২৬২, ৩২৬৩, ৩২৬৪, আবূ দাউদ ২০৯৮, ২১০০, আহমাদ ১৮৯১, ২১৬৪, ২৩৬১, ২৪৭৭, ৩০৭৭, ৩২১২, ৩৩৩৩, ৩৪১১, মুয়াত্তা মালেক ১১১৪, দারেমী ২১৮৮, ২১৮৯, ২১৯০, ইরওয়াহ ১৮৩৩, সহীহাহ ১২১৬, সহীহ আবী দাউদ ১৮২৮-১৮৩০, তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।উক্ত হাদিসের রাবী ইসমাইল বিন মুসা সম্পর্কে আবু দাউদ আস-সাজিসতানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে শীয়া মতাবলম্বী। ইবনু হিব্বান বলেন, তিনি সিকাহ তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন। ইবনু হাজার আল-আসকালানী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে হাদিস বর্ণনায় ভুল করেন ও তার রাফিদী মতাবলম্বী হওয়ার ব্যাপারে অভিযোগ রয়েছে। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ৪৯১, ৩/২১০ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৮৭০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো বিবাহে নারীর সম্মতি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, বিধবা নারী নিজের ব্যাপারে তার অভিভাবকের চেয়ে বেশি কর্তৃত্বশীল। আর কুমারী মেয়ের বিবাহের ব্যাপারে তার সম্মতি নিতে হবে। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করেন, কুমারী তো লজ্জায় কথা বলতে পারে না। তখন নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তার নীরবতাই তার সম্মতি। এখানে দুটি বিষয় স্পষ্ট: বিধবার মত সরাসরি গুরুত্ব পায়, আর কুমারীর ক্ষেত্রেও সম্মতি নেওয়া জরুরি। নীরবতা তখনই অর্থবহ, যখন তা সম্মতির লক্ষণ হিসেবে বোঝা যায়। এই হাদিস মেয়েদের মতামতকে বিবাহের আলোচনার অংশ বানায়। তাই বিবাহ শুধু অভিভাবকের সিদ্ধান্ত নয়; সংশ্লিষ্ট নারীর ইচ্ছা, লজ্জা ও সম্মতিও বিবেচ্য।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিধবা নারী নিজের বিবাহের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধিকার রাখে।
- কুমারী মেয়ের বিবাহেও তার সম্মতি নিতে হবে।
- লজ্জার কারণে কুমারীর নীরবতা সম্মতির লক্ষণ হতে পারে।
- বিবাহে নারীর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
