৯/৫৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৯৭ - খাদিজা (রাঃ)-এর মর্যাদা ও জান্নাতের সুসংবাদ
আত্মমর্যাদাবোধ।
খাদিজা (রাঃ)-এর মর্যাদা: স্মরণ, ভালোবাসা ও জান্নাতের সুসংবাদ
সুনানে ইবনে মাজাহ : ১৯৯৭
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ১৯৯৭
حَدَّثَنَا هَارُونُ بْنُ إِسْحَقَ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ سُلَيْمَانَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ مَا غِرْتُ عَلَى امْرَأَةٍ قَطُّ مَا غِرْتُ عَلَى خَدِيجَةَ مِمَّا رَأَيْتُ مِنْ ذِكْرِ رَسُولِ اللهِ ﷺ لَهَا وَلَقَدْ أَمَرَهُ رَبُّهُ أَنْ يُبَشِّرَهَا بِبَيْتٍ فِي الْجَنَّةِ مِنْ قَصَبٍ يَعْنِي مِنْ ذَهَبٍ قَالَهُ ابْن مَاجَةَ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি খাদিজা (রাঃ)-এর ক্ষেত্রে যে আত্মমর্যাদাবোধ উপলব্ধি করতাম, তদ্রূপ অপর কোন নারীর ক্ষেত্রে অনুভব করতাম না। কেননা আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে প্রায়ই তাঁর কথা উল্লেখ করতে দেখেছি। আল্লাহ তাআলা তাঁর রাসূলকে খাদীজা (রাঃ)-এর জন্য জান্নাতে স্বর্ণ নির্মিত একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইবনু মাজাহ (রহঃ) তা বলেছেন (অর্থাৎ কাসাব-এর অর্থ সোনা বলেছেন)।
[১৯৯৭] সহীহুল বুখারী ৩৮১৬, মুসলিম ২৪৩৪, ২৪৩৫, তিরমিযী ২০১৭, ৩৮৭৫, ৩৮৭৬, আহমাদ ২৩৭৮৯, ২৫১৩০, ২৫৮৪৭, বায়হাকী ৭/৪১২ সহীহাহ ১৫৫৪। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ।
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ১৯৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি খাদিজা (রাঃ)-এর ক্ষেত্রে যে আত্মমর্যাদাবোধ বা গায়রাত অনুভব করতেন, অন্য কোনো নারীর ক্ষেত্রে তেমন করতেন না। কারণ তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে খাদিজা (রাঃ)-এর কথা প্রায়ই উল্লেখ করতে দেখতেন। বর্ণনায় আরও এসেছে, আল্লাহ তাঁর রাসূলকে খাদিজা (রাঃ)-এর জন্য জান্নাতে সোনা নির্মিত একটি প্রাসাদের সুসংবাদ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। হাদিসটি খাদিজা (রাঃ)-এর উচ্চ মর্যাদা এবং নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর মনে তাঁর স্মৃতির গুরুত্ব দেখায়। একই সাথে আয়িশা (রাঃ)-এর মানবিক অনুভূতিও প্রকাশ পায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, সৎ ও প্রিয় মানুষের স্মরণ দাম্পত্য সম্পর্কের অংশ হতে পারে, আর আল্লাহ যাকে মর্যাদা দেন তার মর্যাদা বড়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাদিজা (রাঃ)-এর স্মরণ নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিশেষ ছিল।
- আয়িশা (রাঃ)-এর গায়রাত মানবিক অনুভূতির একটি বাস্তব দিক দেখায়।
- খাদিজা (রাঃ)-এর জন্য জান্নাতের প্রাসাদের সুসংবাদ তাঁর মর্যাদা প্রকাশ করে।
