১০/১৫. অধ্যায়ঃ
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৪১ - কলম উঠানো তিন ব্যক্তি
জড়বুদ্ধিসম্পন্ন ব্যক্তি,নাবালেগ ও ঘুমন্ত ব্যক্তির তালাক।
কলম উঠানো তিন ব্যক্তি: ঘুম, বয়স ও জ্ঞানহীনতার হুকুম
সুনানে ইবনে মাজাহ : ২০৪১
সুনানে ইবনে মাজাহহাদিস নম্বর ২০৪১
حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ هَارُونَ ح و حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ خَالِدِ بْنِ خِدَاشٍ وَمُحَمَّدُ بْنُ يَحْيَى قَالَا حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ عَنْ حَمَّادٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ عَنْ الْأَسْوَدِ عَنْ عَائِشَةَ أَنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ قَالَ رُفِعَ الْقَلَمُ عَنْ ثَلَاثَةٍ عَنْ النَّائِمِ حَتَّى يَسْتَيْقِظَ وَعَنْ الصَّغِيرِ حَتَّى يَكْبَرَ وَعَنْ الْمَجْنُونِ حَتَّى يَعْقِلَ أَوْ يُفِيقَ قَالَ أَبُو بَكْرٍ فِي حَدِيثِهِ وَعَنْ الْمُبْتَلَى حَتَّى يَبْرَأَ
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছেঃ ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না সে জাগ্রত হয়, নাবালেগ যতক্ষণ না সে বালেগ হয় এবং পাগল, যতক্ষণ না সে জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয়। অধস্তন রাবী আবূ বাকর (রহঃ) এর বর্ণনায় আছেঃ বেহুঁশ ব্যক্তি যতক্ষণ না সে হুঁশ ফিরে পায়।
[২০৪১] নাসায়ী ৩৪৩২, আবূ দাউদ ৪৩৯৮, আহমাদ ২৪১৭৩, ২৪১৮২, ২৪৫৯০, দারেমী ২২৯৬, ইরওয়াহ ২৯৭, মিশকাত ৩২৮৭-৩২৮৮। তাহকীক আলবানীঃ সহীহ। উক্ত হাদিসের রাবী হাম্মাদ সম্পর্কে আবু হাতিম আর-রাযী বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে তার হাদিস দ্বারা দলীল গ্রহণযোগ্য নয়। আবু হাতিম বিন হিব্বান বলেন, তিনি সত্যবাদী তবে মুরজিয়া মতাবলম্বী। ইমাম দারাকুতনী বলেন, তিনি দুর্বল। মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া বলেন, তিনি হাদিস বর্ণনায় অধিক ভুল ও সন্দেহ করেন। (তাহযীবুল কামালঃ রাবী নং ১৪৮৩, ৭/২৬৯ নং পৃষ্ঠা)
সুনানে ইবনে মাজাহ হাদিস ২০৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দায়িত্বের সীমা নিয়ে খুব গুরুত্বপূর্ণ কথা এসেছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তিন ব্যক্তি থেকে কলম উঠিয়ে রাখা হয়েছে: ঘুমন্ত ব্যক্তি যতক্ষণ না জাগে, নাবালেগ যতক্ষণ না বালেগ হয়, এবং পাগল যতক্ষণ না জ্ঞান ফিরে পায় বা সুস্থ হয়। আবূ বকর (রহঃ)-এর বর্ণনায় বেহুঁশ ব্যক্তির কথাও এসেছে, যতক্ষণ না সে হুঁশ ফিরে পায়। এখানে ‘কলম উঠানো’ বলতে দায়-জবাবদিহির বিষয় বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি দেখায়, ইসলাম মানুষের অবস্থা, বুদ্ধি, জ্ঞান ও সামর্থ্যকে গুরুত্ব দেয়। যে ব্যক্তি বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না, তার ব্যাপারে আলাদা বিবেচনা রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- দায়িত্বের জন্য সচেতনতা ও বুঝ থাকার গুরুত্ব আছে।
- ঘুমন্ত ব্যক্তিকে জাগ্রত মানুষের মতো ধরে বিচার করা হয় না।
- নাবালেগ শিশুদের ক্ষেত্রে বয়স ও পরিণত হওয়া বিবেচ্য।
- জ্ঞানহীন বা বেহুঁশ অবস্থার মানুষকে সহানুভূতির সঙ্গে দেখা উচিত।
